পৌর নিবার্চনে বাঘাইছড়িতে ৩৮ মনোনয়নপত্র জমা : দলীয় কোন্দলে বিএনপির নেতাকর্মীরা

bbbb॥ আলমগীর মানিক ॥

জমে উঠেছে রাঙামাটির সবচেয়ে বড় উপজেলা বাঘাইছড়ি পৌরসভার আসন্ন নির্বাচনী পরিবেশ। আগামি ১৮ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনকে ঘিরে উৎসাহের কমতি নেই ভোটারদের মাঝে। দলীয় প্রতীকে নির্বাচন হওয়ায় নির্বাচনকে ঘিরে আরো বেশী উৎসবর মুখর হয়ে উঠেছে বাঘাইছড়ির পৌর এলাকা।

মনোনয়নপত্র জমাদানের শেষ দিনে মেয়র পদে ৫ জন প্রার্থী, সাধারন কাউন্সিলার পদে ২৭ জন ও সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলার ৬ জন, তাদের মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছে। গতকাল ১৭ জানুয়ারি বাঘাইছড়ি নির্বাচন অফিসে এসে প্রার্থী ও সমর্থকরা উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্যদিয়ে নির্বাচন কমিশনে ফরম জমা দিয়েছেন।

নিবার্চন অফিসার নাজিম উদ্দিন জানান, বাঘাইছড়ি পৌরসভা নিবার্চনে মেয়র পদে পাচ জন, সাধারন কাউন্সিলার পদে ২৭ জন, সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলার ৬ জন, মনোনয়নপত্র ফরম জমা দিয়েছেন। কোন প্রকার সহিংসতা ছাড়াই উপজেলায় মনোনয়ন পত্র জমা দেয়া হয়েছে।

এদিকে মঙ্গলবার সকাল ১১.৩০মি আওয়ামীলীগ মেয়র প্রার্থী জাফর আলী খানের পক্ষে নমিনেশন ফরম জমা দিয়েছেন পার্বত্য বিষয়ক মন্ত্রনালয় সাবেক প্রতিমন্ত্রী দীপংকর তালুকদার। অন্যান্য মেয়র প্রার্থীদের মধ্যে বিএনপি প্রার্থী ওমর আলী, বিএনপির সতন্ত্র প্রার্থী সেলিম উদ্দিন বাহার, আজিজুর রহমান, সুজিত চাকমা। আগামী ১৯ জানুয়ারি ফরম বাছাই ও প্রত্যাহার এর দিন ধার্য্য করা হয়েছে।

এদিকে খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, রাঙামাটি জেলার দ্বিতীয় পৌরসভা বাঘাইছড়ির আসন্ন পৌর নির্বাচনে এখনো পর্যন্ত সুনির্দিষ্ট্যভাবে একক প্রার্থী দিতে পারেনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি। দলটির পক্ষ থেকে প্রথম পর্যায়ে একক প্রার্থী হিসেবে ওমর আলীর নাম ঘোষনা করা হলেও বিষয়টি স্বাভাবিকভাবে মেনে নিতে পারেনি বাঘাইছড়ির বিএনপি পরিবারের নেতাকর্মীরা।

দলীয় হাইকমান্ডের দূরদর্শীতার অভাবে আগামী পৌর নির্বাচনে বিএনপির ভরাডুবি হওয়ার কথা এখন পুরো রাঙামাটি জুড়েই চাউর হচ্ছে। এরই মধ্যে মঙ্গলবার দুপুরে কয়েক শতাধিক নেতাকর্মীকে সাথে নিয়ে নির্বাচনী নিয়মনীতি অনুসরণ করে আনুষ্ঠানিকভাবে নিজের পক্ষে মনোনয়ন পত্র দাখিল করেছেন বিএনপি নেতা সেলিম উদ্দিন বাহার।

বেলা এগারোটার সময় উপজেলা নির্বাচন অফিসে উপস্থিত হয়ে জেলা নির্বাচনী কর্মকর্তা নাজিম উদ্দিনের হাতে নিজের পক্ষে মনোনয়নপত্র জমা দেন সেলিম উদ্দিন বাহার। এসময় কয়েক শতাধিক নেতাকর্মী উপজেলা সদরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে সেলিম উদ্দিন বাহারের পক্ষে এবং জেলা বিএনপির সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে নানা ধরনের শ্লোগান দেয়।

নেতাকর্মীরা জানান, বিএনপির তৃণমুল নেতাকর্মীদের সাথে আলোচনা নাকরেই জেলা বিএনপির বিতর্কিত নেতার প্রভাবে এবং মিথ্যা তথ্যের উপর ভিত্তি করে কেন্দ্র থেকে ওমর আলীকে দলীয় মনোনয়ন পত্র দেওয়া হয়েছে। যা কিনা বাঘাইছড়ির বিএনপিকে আবারো ধ্বংসের অন্যতম একটি ষড়যন্ত্র।

নেতাকর্মীরা জানায়, আওয়ামীলীগের অন্যতম এজেন্ডা বাস্তবায়নকারি ওমর আলীকে মনোনয়ন দেওয়ায় সাধারণ নেতাকর্মীরা এবারে বিএনপির পক্ষে ভোট দেওয়াতো দূরের কথা উপরোন্তু স্বতন্ত্র প্রার্থীকে জিতিয়ে আনতে করণীয় সবকিছুই করবে নেতাকর্মীরা।

এদিকে, বিএনপি নেতা ও রাঙামাটি পৌর সভার সাবেক মেয়র সাইফুল ইসলাম ভূট্টো জানিয়েছেন, দলীয় একাধিক প্রার্থী থাকার পরেও রাঙামাটি জেলা বিএনপির পক্ষ থেকে একজনের নাম কেন্দ্রে পাঠানো হয়।

তিনি জানান, সেলিমের নামসহ পাঠাবে জানিয়ে দলের পক্ষ থেকে তাকে বাঘাইছড়ি থেকে রাঙামাটিতে পরবর্তীতে চট্টগ্রাম ও শেষ পর্যন্ত ঢাকায় নিয়েও দলীয় প্যাডে নাম পাঠানো হয়েছে শুধুমাত্র ওমর আলীর। এছাড়াও বর্তমান মেয়র আলমগীর কবিরকে দেখানো হয়েছে জামায়াতের প্রার্থী হিসেবে, অথচ আলমগীর কবির বিএনপির কমিটিতেই অর্ন্তভূক্ত রয়েছে। ওমর আলীকে সমর্থনে তার কাছ থেকে জোর করে স্বাক্ষরও নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছেন আলমগীর কবির।

অপরদিকে ভূট্টোর জানিয়েছেন, কেন্দ্র যখন জানতে পারলো যে, বাঘাইছড়িতে বিএনপির একক প্রার্থীর তথ্যটি ভূলভাবে উপস্থাপন করেছে রাঙামাটি জেলা বিএনপি। তখনই সাথে সাথে কেন্দ্রীয় নেতা শাহজাহান খান রাঙামাটি জেলা বিএনপির সভাপতি শাহ আলম এর কাছে আমার মুঠোফোনের মাধ্যমেই জানিয়ে দিয়েছেন যে, ওমর আলীকে দেওয়া মনোনয়ন আপাতত স্থগিত করা হয়েছে এবং আগামী ২২ তারিখের মধ্যেই এই ব্যাপারটির সুষ্ঠ সমাধানে চট্টগ্রাম বিভাগীয় নেতা শামীমকে দায়িত্ব প্রদান করেন। উক্ত বক্তব্যটি নিজের মুঠোফোনে রেকর্ড থাকার কথাও জানান ভূট্টো।

অপরদিকে এই ধরনের কোনো কিছু নিজে জানেননা বলে জানিয়েছেন রাঙামাটি জেলা বিএনপির সভাপতি মোঃ শাহ আলম। তিনি বলেন, সবকিছু নিয়ম কানুন মেনেই ওমর আলীকে দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে ধানের শীষ প্রতিকে নির্বাচন করার জন্য।

এদিকে দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে কেউ অবস্থান নিলে তাদের বিরুদ্ধে শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন রাঙামাটি জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক দীপন তালুকদার। এছাড়াও ভূট্টোর দাবিটি সঠিক নয় জানিয়ে এই ধরনের সিদ্ধান্ত জেলা বিএনপি জানেনা বলেও জানান তিনি।

উল্লেখ্য, রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলার দ্বিতীয় পৌরসভা বাঘাইছড়ি ২০০৪ সালে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় থাকা কালিন সময়ে পার্বত্য উপমন্ত্রী মনি স্বপন দেওয়ানের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠা লাভ করে। পৌরসভা প্রতিষ্ঠা লাভের পর বাঘাইছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে প্রায় ২বছরের অধিক।

তারপর তৎকালিন উপজেলা বিএনপির সভাপতি নিজাম উদ্দিন বাবু প্রশাসকের দায়িত্ব পালনের শেষ প্রান্তে ২০১২ সালের ৮ জানুয়ারী প্রথম বারের মত পৌরসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ওই নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থীর কাছে পরাজয় স্বীকার করে নেয় ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থী জমির হোসেন। ওই নির্বাচনের যদিও বিপুল ভোটে জয় লাভ করে তরুণ ছাত্র নেতা আলমগীর কবির। কিন্তু দীর্ঘ ৫ বছর ক্ষমতায় থেকে বদনাম ছাড়া কিছুই করতে পারেনি মেয়র আলমগীর কবির।

এবারের পৌর নির্বাচনে প্রার্থী নিয়ে আওয়ামীলীগ ও বিএনপির মধ্যে দলীয় কোন্দলের বিষয়টি অনেকটা প্রকাশ্য রূপ ধারণ করায় এনিয়ে আতঙ্কিত পৌরবাসী।

জানাগেছে, বাঘাইছড়ি উপজেলা নির্বাচন অফিসের তথ্যমতে পৌরসভায় মোট ভোটার সংখ্যা- ৯৯৪৭ জন।

আগামী ১৮ ফেব্রুয়ারী রাঙ্গামাটি জেলার ২য় পৌরসভা বাঘাইছড়ির নির্বাচনের দিন ধার্য করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের দেওয়া এক বিজ্ঞপ্তিতে তফসিল ঘোষনার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন (পৌরসভা) নির্বাচন বিধিমালা ২০১০ এর ৫নং বিধি অনুযায়ী মেয়র, সংরক্ষিত ওয়ার্ডের কাউন্সিলর, সাধারণ ওয়ার্ডের কাউন্সিলর নির্বাচনের জন্য জেলা নির্বাচন কমিশনারকে রিটানিং অফিসার ও বাঘাইছড়ি উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে সহকারি রিটানিং নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ তারিখ ১৭ জানুয়ারী। মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের নির্ধারিত তারিখ ১৯ জানুয়ারী। প্রার্থীতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ২৭ জানুয়ারী ২০১৭ ইং। নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০১৭ ইং।

উল্লেখ্য যে, গত ৮জানুয়ারী ২০১৭ইং তারিখে নির্বাচন ব্যবস্থাপনা ও সমম্বয়-১ শাখার সহকারি সচিব মোঃ রাজিব আহসান স্বাক্ষরিত এক বিঞ্জপ্তিতে এই তফসিল ঘোষনা করা হয়।

Leave a Reply