কোটি কোটি টাকার টেন্ডারে অনিয়মের অভিযোগ: পা:চ: উ: বোর্ডে ঠিকাদারদের বিক্ষোভ-স্মারকলিপি

chttimes24-9333
॥ আলমগীর মানিক ॥
রাঙ্গামাটিতে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের ২৩ গ্রুপের সাড়ে ৫ কোটি টাকার কাজ ভাগাভাগির অভিযোগ এনে উন্নয়ন বোর্ডের ভাইস চেয়ারম্যান তরুন কান্তি ঘোষ, নির্বাহী প্রকৌশলী সাহাবুদ্দিন ও ষ্টি-মিটার মিহির কান্তি চাকমার অপসারন দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও স্মারকলিপি দিয়েছে সরকারদলীয় ঠিকাদার ও নেতাকর্মীরা।

বুধবার সকাল দশটা থেকে বেলা সাড়ে তিনটা পর্যন্ত পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড প্রাঙ্গনে দফায় দফায় বিক্ষোভ করে রাঙামাটি জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রশাসকের মাধ্যমে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী বরাবরে স্মারকলিপি প্রদান করেন।

পরে দলীয় নেতৃবৃন্দ ও ঠিকাদারগণ মিলে ভাইস চেয়ারম্যানের সাথে দেখা করে তাদের মতামতব্যক্ত করলে ভাইস চেয়ারম্যান তরুন কান্তি ঘোষ এখন থেকে সব রকমের টেন্ডার প্রক্রিয়া স্বচ্ছভাবে হবে এবং অভিযুক্তদের ব্যাপারে অফিস যথাযত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলে আশ্বাস প্রদান করেন।

chttimes24-9352

বিক্ষোভকারিরা অভিযোগ করেন, রাঙ্গামাটিতে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের সাড়ে ৫ কোটি টাকার ২৩ গ্রুপের কাজ ভাগাভাগি করে নিয়ে গেছে সেভেন ষ্টার নামীয় একটি সিন্ডিকেট।

উন্নয়ন বোর্ডের কয়েকজন কর্মকর্তাসহ ষ্টি-মিটার মিহির কান্তি চাকমা’র স্বাক্ষরিত একটি বিশেষ আইডি কার্ডের মাধ্যমে পরিচিত চিহ্নিত সিন্ডিকেটের বাইরে সাধারণ ঠিকাদারদের কেউ এই টেন্ডারে অংশ নেয়ার সুযোগ পাননি বলে অভিযোগ করেছেন সাধারণ ঠিকাদাররা।chttimes24-955344

ক্ষমতাসীন কয়েকজন নেতার ছত্রচ্ছায়ায় গড়ে ওঠা চিহ্নিত টেন্ডারবাজদের একটি চক্র কাজগুলো ভাগাভাগি করে নিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বঞ্চিত ঠিকাদাররা। এছাড়া টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ প্রক্রিয়ায় বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো: শাহাবুদ্দীন চৌধুরী, মিহির কান্তি চাকমাসহ শীর্ষ কর্মকর্তারা জড়িত বলে অভিযোগ করেছে ঠিকাদাররা।

এদিকে উন্নয়ন বোর্ডের রাঙ্গামাটির প্রধান কার্যালয় চত্ত্বরে টেন্ডার ভাগাভাগিকে কেন্দ্র করে সাধারণ ঠিকাদারদের মাঝে ক্ষোভ ও উত্তেজনা দেখা দেয়। মঙ্গলবার প্রায় সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত বোর্ডের কার্যালয়ে এ নিয়ে হট্টগোল বিরাজ করে। টেন্ডারের দরপত্র কিনতে যাওয়া সাধারণ ঠিকাদাররা সিডিউল নিতে গেলে তাদেরকে বাধা দেয়া হয় বলে অভিযোগ করেছেন, যুবলীগ নেতা ও ঠিকাদার মুজিব, মঈন উদ্দিন সেলিম, সালাম ও যুবলীগের রাঙ্গামাটি সদর উপজেলার সভাপতি মো. আবু মুসাসহ অনেক ঠিকাদার।

ঠিকাদাররা জানান, মেসার্স ফ্রেম মেকার স্বত্ত্বাধিকারী প্রথম শ্রেণীর ঠিকাদার মো: ইফতেখারুল আলম বুধবার দুপুরের দিকে দরপত্র কিনতে গেলে তাকে ধাক্কা দিয়ে বের করে দেয় বোর্ডের প্রকৌশল শাখার স্টাফরা। এসময় মিহির কান্তি চাকমা তাকে হাত-পা ভেঙ্গে দেওয়ারও হুমকি প্রদান করেন।

যুবলীগের রাঙ্গামাটি সদর উপজেলার সভাপতি ও ঠিকাদার মো. আবু মুসা বলেন, দরপত্র কেনার জন্য সারাদিন উন্নয়ন বোর্ডে অবস্থান করেন তিনি। কিন্তু বিকাল ৫টার মধ্যে সিডিউল বিক্রির শর্ত থাকলেও কাউকে কোনো সিডিউল দেয়া হয়নি। ওই সময় সিউিউল বিক্রি এড়াতে নির্বাহী প্রকৌশলী শাহাবুদ্দীন নিজেকে আড়ালে রাখতে অফিস ছেড়ে গোপন স্থানে পালিয়ে থাকেন।chttimes24-933344

অফিসে অবস্থানকালে তার কাছে সিডিউল কিনতে চাইলে নির্বাহী প্রকৌশলী ধমকে বলেন ২০ লাখ টাকায় পোস্টিং নিয়ে এখনও ওই টাকা উঠাতে পারিনি। সিডিউল দেয়া সম্ভব নয়। যারা টাকা দিয়েছে তাদেরকে কাজ দিতে হয়েছে।

এছাড়াও উপস্থিত সাধারণ ঠিকাদার সবাই অভিযোগ করেছেন টেন্ডারের কাজগুলো ভাগাভাগি করায় অন্য ঠিকাদারদার কারও কাছে সিডিউল বিক্রি করা হয়নি। নির্দিষ্ট্য সময় পার করে দিয়ে লোক দেখানো ভাগাভাগি টেন্ডারের দরপত্র আজ কেবল নামেই জমা দেখানোর আয়োজন সম্পন্ন করা হয়েছে। অন্যদিকে সাধারণ ঠিকাদারদের কাছে সিডিউল বিক্রি না করায় সরকার রাজস্ব বঞ্চিত হয়েছে বলে জানান ঠিকাদাররা।

এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে বিকালে নির্বাহী প্রকৌশলীর অফিসে গেলে তখন অফিসে তালা দেয়া ছিল। মুঠো ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। পরে উন্নয়ন বোর্ডের ভাইস চেয়ারম্যান তরুণ কান্তি ঘোষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আগে কি ঘটেছিলো, আমি বলতে পারবো না।

এখন থেকে সব ধরনের টেন্ডার প্রক্রিয়া যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরন করে উম্মুক্তভাবে হবে। কারো বিরুদ্ধে কোনো প্রকার অভিযোগ থাকলে অফিস সেটা দেখবে।

20150121_141801

জানা যায়, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে গত ২৯ ডিসেম্বর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শাহাবুদ্দীনের স্বাক্ষরে প্রায় সাড়ে ৫ কোটি টাকার ২৩ গ্রুপ কাজের টেন্ডার (নং-১(৩), ২০১৪-১৫ আহবান করে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড। টেন্ডার বিক্রির শেষদিন ছিল মঙ্গলবার বিকাল ৫টা পর্যন্ত। জমা দেয়ার শেষদিন বুধবার বিকাল সাড়ে ১২টা পর্যন্ত।

Leave a Reply