পাহাড়ী পল্লী গ্রামে ৩৩’শ পরিবারকে পুনর্বাসন করেছে রাবার ব্যবস্থাপনা ইউনিট

0,,3467639_4,00॥ নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ খাগড়াছড়ি পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের উচুঁ ভূমি বন্দোবস্তি করণ রাবার ব্যবস্থাপনা ইউনিটের বিভিন্ন পাহাড়ী পল্লিগ্রামে উন্নয়নের কাজ চলছে। সরকারি বরাদ্দ অপ্রতুল। খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার রাবার ব্যবস্থাপনা ইউনিটের জেনারেল ম্যানেজার সুখময় চাকমা, তার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে উক্ত ইউনিটের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা সন্তোষ এবং রাবার উৎপাদনের ক্ষেত্রে বাজার জাত করণে লক্ষ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপ হাতে নিয়েছেন এবং রাবার কারখানাগুলিতে প্রতিনিয়ত পরিদর্শন অব্যাহত রেখেছেন।

উন্নয়ন কাজগুলো সরেজমিনে দেখছেন। ক্ষুদ্র উন্নয়ন গোষ্টির যে সব স্থানে বসবাসরত রয়েছে সে সকল স্থানে টিউবওয়েল, রাস্তা নির্মাণ, কাল ভার্ট, বসত বাড়ি নির্মাণ, করা হয়েছে সেগুলি তদারকি চালাচ্ছেন। খাগড়াছড়ি পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের উচুঁভূমি বন্দোবস্তি করণ প্রকল্পের সরকারি আওতায় আনার জন্য বর্তমান সরকারের প্রতি আবেদন জানিয়েছেন কর্মকর্তা কর্মচারীরা কারণ রাবার বিক্রির উপর নির্ভর করতে হয় শেয়ার হোল্ডারদের।

তবে রাবারের দাম কমে যাওয়ার কারণে রাবার কারখানার শেয়ার হোল্ডারদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়। এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের রাবার ব্যবস্থাপনা ইউনিটকে শক্তিশালী করতে হলে সরকারি উদ্যোগের প্রয়োজন। ইতিমধ্যে খাগড়াছড়ি জেলার মাটিরাঙ্গা রাবার ব্যবস্থাপনা ইউনিটের কার্যালয়ের বিভিন্ন এলাকায় রাস্তা নির্মাণের কাজ চলছে। রাবার ব্যবস্থাপনা ইউনিট বৈরফা এবং স্বনির্ভর রাবার কারখানায় উন্নয়নের কাজ চলছে।

যে সমস্ত পাহাড়ী পল্লী এলাকায় উন্নয়নের ছোয়া লাগেনি সে সব স্থানে উন্নয়নের কাজ করার জন্য সরকারি ভাবে অর্থ বরাদ্দের প্রয়োজন। এখানে বসবাসরত ক্ষুদ্র গোষ্টির উন্নয়ন করতে হলে সরকারি অর্থ পেলে আরো এখানে বসবাসতরা উপকৃত হবে। এদিকে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের উচু ভূমি বন্দোবস্তি করণ প্রকল্পের অধীনে রাবার বাজারজাত করণের লক্ষ্যে এখানে শেয়ার হোল্ডারগণ রাবার চারা ক্রয় করে যাচ্ছে।

কিভাবে এই রাবারকে বিদেশে রপ্তানি করা যায়। তা চিন্তা ভাবনায় পড়েছে শেয়ার হোল্ডারগণ এবং বিভিন্ন কৌশলে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের রাবারজাত করনের জন্য দাম বৃদ্ধি করা যায় সেদিকে নজর রাখছে কর্মকর্তারা। খাগড়াছড়ি পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন র্বোড, পার্বত্য চট্টগ্রামের বসবাসরত ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্টির হতদরিদ্র ভূমিহীন জুমচাষী ও প্রান্তিক পরিবার সমূহকে স্থায়ীভাবে বসবাসের ব্যবস্থাকরণসহ, আর্থিক ও সামাজিক ভাবে উন্নয়নের লক্ষ্যে তিনটি পর্যায়ে সর্বমোট ৩৩০০ পরিবারকে বিগত ২০১১ সাল নাগাদ পূনর্বাসন করেছে।

তন্মধ্যে খাগড়াছড়ি জেলায় ২৫০০টি পরিবার, চাকমা, মারমা ও ত্রিপুরা সম্প্রদায়ভূক্ত রয়েছে। এসকল পরিবারের পিছু বসতভিটা ০.২৫ একর, বিভিন্ন ফলমূলের বাগানের জন্য ২.০০ একর ও রাবার বাগান সৃজনের জন্য ৪.০০ একর জমি বরাদ্দ দেওয়া হয়। তাতে বসতবাড়ি সহ যোগাযোগের সুবিধার্থে কাঁচা বা ব্রিক সলিং রাস্তা, বাজার শেড, উপাসনালয়, রিংওয়েল, টিউবওয়েল ও প্রাথমিক বিদ্যালয় নির্মাণ করে দেওয়া হয়েছে উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃকপক্ষ।

এদিকে ২৫০০ পরিবারের জন্য সৃজিত ১০,০০০ একর রাবার বাগান হতে ১৯৯৬ সাল হতে রাবার উৎপাদন শুরু হয় এবং উৎপাদিত রাবার বিক্রয়লব্দ অর্থ হতে প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং অন্যান্য আনুষঙ্গিক ব্যয় বাদ দিয়ে ৬০% অর্থ এই পরিবারগণকে দেওয়া হয়। এ সকল পরিবারের যে সকল সদস্য রীতিমত রাবার কষ আহরণ করেন তারা রাবার হতে প্রতি মাসে ৮,০০০/- হতে উর্ধ্বে ২৫,০০০/- টাকা বা তার বেশি উর্পাজন করেন।

তাই এই পরিবারগণ জীবিকা নির্বাহের একটি পথ খুঁজে পেয়ে স্বাবলম্বী এবং পূর্বের তুলনায় সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে চলেছেন। পার্বত্য খাগড়াছড়ি জেলার উচু ভূমি বন্দোবস্তি এবং রাবার বাগান ব্যবস্থাপনা ইউনিটের জেনারেল ম্যানেজার সুখময় চাকমা জানিয়েছেন বর্তমান উপকার ভোগীরা সুবিধা জনক স্থানে রয়েছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড বিভিন্ন উন্নয়ন কাজ করে যাচ্ছে গ্রামে গঞ্চে টিউবওয়েল রাস্তা নির্মাণ, বসত বাড়ি নির্মাণ সহ বিভিন্ন উন্নয়নের ধারাবাহিকতা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে।

তবে খাগড়াছড়ির বিভিন্ন রাবার খারখানায় রাবার উৎপাদন বৃদ্ধি হলেও দাম কমে যাওয়ার কারণে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড সরকারের আওতায় নিয়ে গেলে তারা আরো উন্নয়নের আর এক দাফ এগিয়ে নেবে বলে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন। সরকারি বরাদ্দ না পাওয়ার কারণে উন্নয়নের ব্যাঘাত সৃষ্টি হচ্ছে। সরকারি বরাদ্দ পেলে আরো উন্নয়নে পার্বত্য অঞ্চল আরো সমৃদ্ধি দিকে যাবে।

Leave a Reply