ভয়াবহ আগুনে জ্বলছে রাঙামাটির বাঘাইছড়ি-কয়েক’শ দোকান পুড়ে ছাই

Agun Baghaichary॥ নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ গভীর রাতের অন্ধকারে আকস্মিক আগুনে রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলা সদরে দেড় শতাধিক দোকান সম্পূর্ন পুড়ে ছাই হয়েগেছে।

শনিবার রাত সোয়া তিন’টার সময় আকস্মিকভাবে দাউ-দাউ করে আগুনের সূত্রপাত হয়। ভোর পাচঁ’টা নাগাদ শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত আগুনের লেলিহান শিখায় অন্তত চারশো দোকানঘর পুড়ে গেছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানাগেছে।

Agun Baghaichary-02রাত পৌনে পাচঁটার সময় বাঘাইছড়ি থানার অফিসার ইনচার্জ আজিজুল ইসলাম আগুন লাগার সত্যতা নিশ্চিত করে সিএইচটি টাইমস টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান, ভাই আগুনের তীব্রতায় আমরা সঠিকভাবে কোনো কিছু-ই বুঝে উঠতে পারছিনা। সকালে বিস্তারিত বলা যাবে।

বাঘাইছড়ি বিজিবি জোনের কমান্ডার লেপ্টেনেন্ট কর্ণেল রবিউল ইসলাম পুরো বাজারের প্রায় সবকটি দোকান পুড়ে গেছে বলে সিএইচটি টাইমস টোয়েন্টিফোর ডটকমকে নিশ্চিত করেছেন।

আকস্মিক এই অগ্নিকান্ডে অন্তত ৩০ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করছেন ক্ষতিগ্রস্থ ব্যবসায়িরা। এইঘটনার পরপরই ঘটনাস্থলে বিজিবি-পুলিশসহ উপজেলা প্রশাসনের অফিসার ও কর্মকর্তাগণ ছুটে যান।

Agun Baghaichary-03এসময় মারিশ্যা জোনের বিজিবি’র পক্ষ থেকে অগ্নি নির্বাপক গ্যাস ব্যবহারের পাশাপাশি বালি ও পানি এনে আগুন নেভাতে এগিয়ে আসেন বাঘাইছড়ি বিজিবি জোনের কমান্ডার লেপ্টেনেন্ট কর্ণেল রবিউল ইসলাম ও তার অফিসার-সৈনিকবৃন্দ।

লেপ্টেনেন্ট কর্ণেল রবিউল ইসলাম জানিয়েছেন, পুরো বাজারের প্রায় সবকটি দোকানঘর পুড়ে গেছে। খাগড়াছড়ি ফায়ার সার্ভিসকে খবর পাঠানো হয়েছে, তারা আসতে আসতে সকাল সাতটা নাগাদ সময় লেগে যেতে পারে।

কিন্তু তার আগে বিজিবি’র পক্ষ থেকে আগুন নেভাতে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করা হচ্ছে। এদিকে, স্থানীয় অনেকেকের সাথে যোগাযোগ করেও তাৎক্ষনিকভাবে এতো ভয়াবহভাবে আগুন লাগার বিষয়ে সঠিক কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

Agun Baghaichary-04অনেকে-ই জানিয়েছেন শট-সার্কিটের আগুন এতো তীব্রগতিতে ছড়ানোর কথা নয়। নাশকতার উদ্দেশ্যে কেউ এই ঘটনা ঘটিয়ে থাকতে পারে।

এদিকে সর্বশেষ তথ্যে জানাগেছে একটি চা’য়ের দোকান থেকে আগুনের সূত্রপাত ঘটেছে।

আগুনের তীব্রতা এতোটাই বেশি যে, মুহুর্তের মধ্যেই তা ছড়িয়ে তিনটি মার্কেটসহ আশেপাশের অন্তত চারশো দোকানঘর সম্পূর্ন পুড়ে যায়।

Agun Baghaichary-05এদিকে স্থানীয় একটি সূত্রে জানাগেছে, বিগত কিছুদিন আগে এই বাজারের ব্যবসায়িদের কাছে দশ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিলো স্থানীয় একটি আঞ্চলিক পাহাড়ি সংগঠন।

বারংবার বিভিন্ন উপায়ে কয়েকদফা চাঁদা পরিশোধকারি ব্যবসায়িদের পক্ষ থেকে নতুনকরে আর কোনো চাঁদা দেওয়া যাবে না বলে চাঁদা দাবিকারি আঞ্চলিক সংগঠনটিতে জানিয়ে দেওয়া হয়।

Leave a Reply