চাঁদা নাপেয়ে বাঘাইছড়িতে কয়েক লাখ টাকার সোলার প্যানেল ছিনতাই : উদ্ধারে চলছে অভিযান

॥ নিজস্ব প্রতিবেদক ॥

শুক্রবার রহস্যজনকভাবে ছিনতাই হওয়া বাঘাইছড়ি উপজেলা প্রশাসনের সোলার প্যানেলের মধ্যে শনিবার ৩০ পিচ উদ্ধার করেছে যৌথবাহিনী। শনিবার বিকেলে সোলার উদ্ধারের এ তথ্য জানানো হয়। শুক্রবার খাগড়াছড়ি থেকে বাঘাইছড়ি আনার পথে ১১ কিলোতে ৩৬৮ পিছ সোলার প্যানেল ছিনতাই হয়।

সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান গ্রামীণ শক্তি খাগড়াছড়ি শাখার ম্যানেজার শ্যামল কান্তি চাকমা জানান, শুক্রবার বিকেলে আমি নিজে সোলারগুলো নিয়ে খাগড়াছড়ি হয়ে বাঘাইছড়িতে আসার সময় সোলার বহনকারী চট্টমেট্ট্রো-ট -১১৫৮৭৬ ট্রাকটি খাগড়াছড়ির দীঘীনালা কলেজ ছাত্রাবাস এলাকায় আসলে একদল দুষ্কৃতকারী ট্রাকটি থামিয়ে কিছু সোলার ট্রাক থেকে ছিনতাই করে।

পরবর্তী ট্রাকটি আবার বাঘাইছড়ি উদ্দেশ্য রওনা করলে বাঘাইছড়ি উপজেলার ১১ কিলো নামক স্থানে আবারো একদল দুষ্কৃতকারী ট্রাকটি থামিয়ে সোলার ছিনতাই করে।

শ্যামল কান্তি জানান, বাঘাইছড়ি উপজেলা প্রশাসনের জন্য চলতি বছরের ২২আগস্ট ৮২৭ পিস সোলার চট্টগ্রামের রুবি গেইট থেকে ক্রয় করে খাগড়াছড়িতে আনা হয়। এসব সোলার প্যানেলসহ সেটগুলো খাগড়াছড়িতে আনার পর থেকে একটি দল বারবার ফোনে এসব সোলারের উপর চাঁদা দাবি করে আসছিল। ম্যানেজার বলেন, দু’দফায় ৩৬৮পিস সোলার ছিনতাই করা হয় যা আনুমানিক মূল্য পাঁচ লক্ষ টাকা। তিনি আরও বলেন, চাঁদা দিতে অস্বীকার করায় আঞ্চলিক সংগঠনের একটি গ্রুপ এসব সোলার ছিনতাই করে।

এ ব্যাপারে বাঘাইছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমির হোসেন জানান, বাঘাইহাট জোনের সেনাবাহিনী ও বাঘাইছড়ি থানা পুলিশ যৌথ অভিযান চালিয়ে খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলার কোপাখালী ইউনিয়নের বাজপাতা ছড়া নামক স্থানে পরিত্যাক্ত অবস্থায় ৩০টি সোলার উদ্ধার করা হয়। তবে এ ঘটনায় কাউকে এখনো আটক করা যায়নি। তবে অভিযান অব্যহত রয়েছে এবং উদ্ধারকৃত সোলার থানা হেফাজতে রয়েছে বলে পুলিশের এ কর্মকর্তা জানান।

বাঘাইছড়ি উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাজুল ইসলাম জানান, এ ব্যাপারে কোম্পানী আমাকে কিছু বলেনি। তাছাড়া মাঝ পথে কি হয়েছে তা আমার জানা দরকার নেই। আমাকে মালামাল বুঝিয়ে দেওয়া না পর্যন্ত কিছু বলতে পারবো না। এটা কোম্পানীর একান্ত ব্যাপার। এর দায়ভার উপজেলা প্রশাসন নিবে না।

এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বাঘাইছড়ি উপজেলা আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক আলী হোসেন বলেন, বর্তমান সরকার উন্নয়নের কর্মসূচি হিসেবে এসব সোলার উপজেলার আটটি ইউনিয়নের জন্য বরাদ্ধ দিয়েছে। তিনি বলেন, এসব সোলার চলতি বছরের জুন মাসে দেওয়ার কথা থাকলেও উপজেলা প্রশাসনের গাফিলতির কারণে এসব ঘটনা ঘটেছে। যা সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হয়েছে বলে আ’লীগের এ নেতা জানান।

Leave a Reply