রাঙামাটিতে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ ঠেকাতে প্রশাসন সর্বোচ্চ সর্তক : জনগণকে সচেতন থাকার আহবান

॥ আলমগীর মানিক ॥

মানবিক দৃষ্ঠিকোণের সুযোগ নিয়ে মায়ানমার থেকে বিতাড়িত হয়ে আসা রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের লোকজন যাতে করে পার্বত্য জেলা রাঙামাটির দূর্গম অঞ্চলে অবস্থান করতে নাপারে সেলক্ষ্যে রাঙামাটি জেলা প্রশাসন কড়া নজরদারি অব্যাহত রেখেছে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মানজারুল মান্নান। রোববার জেলার সর্বোচ্চ পর্যায়ে অনুষ্ঠিত আইন শৃঙ্খলা সভায় সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক আরো বলেন, সর্বস্ব হারিয়ে উদ্ভাস্তু হওয়া রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠির লোকজন বেঁেচ থাকার তাগিদে বিভিন্ন ধরনের অপরাধমূলক কর্মকান্ডে জড়িত থাকে।

তাদের মাধ্যমে মায়ানমার থেকে মরণ নেশা ইয়াবাসহ নানা ধরনের মাদক দ্রব্য ও অস্ত্র দেশে প্রবেশ করতে পারে এবং দূর্গমতার সুযোগ নিয়ে রাঙামাটিতেও এসব নিয়ে আসতে পারে সংশ্লিষ্ট্য রোহিঙ্গারা। এই ধরনের অবস্থা থেকে উত্তরণের একমাত্র উপায় হলো পাহাড়ের সর্বস্তরের বাসিন্দাদের সজাগ দৃষ্টি রাখা।

রোববার দুপুরে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এই সভায় জেলা প্রশাসক বলেন, আমাদের কাছে সুনির্দিষ্ট্য তথ্য রয়েছে জেলার একটি উপজেলায় কয়েকজন রোহিঙ্গা প্রবেশ করেছে। এছাড়াও বিলাইছড়ি, জুড়াছড়ি, রাজস্থলীসহ সীমান্তবর্তী এলাকাগুলো দিয়ে নির্যাতিত রোহিঙ্গারা রাঙামাটিতে প্রবেশ করতে পারে। তাই এসব এলাকায় সংশ্লিষ্ট্য প্রশাসনকে সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় রাখা হয়েছে বাড়ানো হয়েছে নজরদারিও।

তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের জেলার যেখানেই পাওয়া যাক না কেন, সাথেসাথেই জেলা প্রশাসন ও পুলিশের সংশ্লিষ্ট্য থানায় খবর দেওয়ার আহবান জানিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, রোহিঙ্গাদের প্রতি বাংলাদেশ সরকার যথেষ্ট আন্তরিক, যা বিশ্বের ইতিহাসে এখনো বিরল।

এদের জন্যেই সরকার আলাদাভাবেই শরণার্থী শিবির খুলেছে। তাই রাঙামাটির যেখানেই রোহিঙ্গাদের পাওয়া যাবে তাদেরকে সন্মানজনক মানবিক আচরণের মাধ্যমে উদ্ধার করে সরকার কর্তৃক নির্ধারিত স্থানে প্রেরণ করা হবে। এই লক্ষ্যে রাঙামাটি জেলাবাসীর সার্বিক সহযোগিতাও কামনা করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মানজারুল মান্নান। অপরদিকে সভায় রাঙামাটির পুলিশ সুপার সাঈদ তারিকুল হাসান জানান, মায়ানমারের রোহিঙ্গা ইস্যুটি কোনো জাতিগত সমস্যা নয়।

এটি একটি দেশের অভ্যন্তরীন রাজনৈতিক বিষয়। তাই এই বিষয়টিকে ভূলভাবে ব্যাখ্যা করে এখানেও একটি বিশেষ মহল ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে পারে। এখানেও একটি অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টির লক্ষ্যে জাতিগত দাঙ্গার মতো ঘটনার জন্ম দিতে নাপারে সেলক্ষ্যে আমাদের সকলকে সজাগ থাকতে হবে। তিনি বলেন বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারি কাউকে নূন্যতম ছাড় দেওয়া হবেনা।

রোহিঙ্গা ইস্যুতে গত শুক্রবার দুইটি মসজিদ থেকে উষ্কানীমূলক বক্তব্য দেওয়া হয়েছে এবং একটি সংগঠনের পক্ষ থেকে কোনো প্রকার পূর্বানুমতি নানিয়েই শহরে মাইকিং করা হয়েছে। এতে করে যদি আইনশৃঙ্খলার অবনতি হতো তাহলে এর দায়ভার কে বহন করতো? ভবিষ্যতে এই ধরনের সাম্প্রদায়িক সম্পর্ক বিনষ্টকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে জানিয়ে এ ঘটনার যাতে করে পুনরাবৃত্তি নাঘটে সেদিকে সকলের দৃষ্টি রাখার আহবানও জানিয়েছেন এসপি সাঈদ তারিকুল হাসান।

সিভিল সার্জন ডাঃ শহীদ তালুকদার, জেলা পরিষদ সদস্য ত্রিদিপ কান্তি দাশসহ জেলা আইন শৃংখলা কমিটির সদস্যগন এই সময় উপস্থিত ছিলেন।

এরআগে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট মোহাম্মদ শাহাদাৎ হোসেন সভায় গত আগষ্ঠ মাসে রাঙামাটিতে সংঘঠিত অপরাধ চিত্র উপস্থাপন করেন।

সভায় জানানো হয় পার্বত্য জেলা রাঙ্গামাটির সার্বিক আইন শৃংখলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং গত ১৩ জুনের ভয়াবহ পাহাড় ধ্বসের পর এখানকার সার্বিক জীবন যাত্রা এখন ধীরে ধরে স্বাভাবিক হয়ে আসছে। এসময় জেলার বিভিন্ন উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তাগণ, সদর এসিল্যান্ডসহ বিভিন্ন সরকারি অফিসের প্রতিনিধিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published.