দুঃস্বপ্নের হার হেরেছে বাংলাদেশের ফুটবলাররা

আসরের বর্তমান চ্যাম্পিয়নের সঙ্গে কোন তুলনাই চলে না এই আসরে প্রথমবারের মতো খেলার যোগ্যতা অর্জনকারী নবাগত দলের।

কোন সন্দেহ নেই, খেলায় ফেবারিট থাকবে চ্যাম্পিয়ন দলটিই। নবাগত দলের লক্ষ্য থাকবে যথাসম্ভব লড়াই করা এবং কম ব্যবধানে হারা। কিন্তু কপাল খারাপ তাদের। সেটা আর করে দেখাতে পারেনি তারা। একটু বেশি গোলই হজম করে ফেলেছে তারা। হারটা অনুমেয়ই ছিল। তাই বলে এত বেশি গোলে হার … হাফ ডজনেরও বেশি গোল পরাজয়টা মনকে খোঁচাচ্ছে বারবার।

থাইল্যান্ডের চনবুরিতে চলমান ‘এএফসি অনুর্ধ-১৬ মহিলা চ্যাম্পিয়নশিপের মূলপর্বে ‘সি’ গ্রুপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে শক্তিশালী উত্তর কোরিয়ার কাছে ০-৯ গোলের শোচনীয় হার হেরেছে বাংলাদেশের মেয়েরা। খেলার প্রথমার্ধেই বিজয়ী দল ৪-০ গোলে এগিয়ে ছিল। আগামী বৃহস্পতিবার দ্বিতীয় ম্যাচে জাপানের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ।

জানা গেছে, ম্যাচের আগে সকালে বাংলাদেশের মেয়েদের ৪৫ মিনিট হার্ড ট্রেনিং করানো হয়। না, কোচ ছোটন এমন নির্দেশ দেননি। নির্দেশটি ছিল দলের সঙ্গে যাওয়া বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) স্ট্র্যাটেজিক ডিরেক্টর, ইংল্যান্ডের পল স্মলির। তখনই প্রশ্ন উঠেছিল এমন সিদ্ধান্তের যৌক্তিকতা নিয়ে। কিন্তু স্মলির কথাকে অগ্রাহ্য করে চাকরি খোয়াতে চাননি দলের অন্য কেউই।

এমন হার্ড ট্রেনিংয়ের কুফল হাড়ে হাড়ে টের পেয়েছে পুরো দল। দলের সব ফুটবলারই ছিল ক্লান্ত। এর প্রভাব পড়ে ম্যাচে। অগোছাল ফুটবল খেলে তারা। শুধু তাই নয়, আরও জানা গেছে, বাংলাদেশ দল দুই গোল খাওয়ার পর ডাগআউটে স্মলিকে দেখা গেছে কোচের ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে। ফলে হেড কোচ ছোটন হয়ে পড়েন গুরুত্বহীন। লড়াই করার প্রত্যাশা থাকলেও কোরিয়ানদের বিপক্ষে বিন্দুমাত্র প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারেনি গোলাম রব্বানী ছোটনের দল।

দাঁড়াতেই পারেনি বাংলাদেশ। দুঃস্বপ্নের বড় হার দিয়ে শুরু করল তার। খেলার ৫ মিনিট থেকেই বাংলাদেশ দলের সর্বনাশ ও পতনের সূচনা। কর্নার থেকে কিম কিয়ং ইয়ংয়ের হেডে এগিয়ে যায় উত্তর কোরিয়া। ৮ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ হয় বাংলাদেশ দলের গোলরক্ষকের ভুলে। ইউ সন গুমের ক্রস রুকসানার গ্লাভস ছুঁয়ে বেরিয়ে যাওয়ার পর কিম কিয়ং ইয়ং গোল করেন।

৩০ মিনিটে কাটব্যাকে রি সুং জিওনের শটে পরাস্ত হন গোলরক্ষক রুকসানা (৩-০)। দুই মিনিট পর আবার গোল। দ্বিতীয়ার্ধে আরও বেশি ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠে কোরিয়া দল। ৫০ মিনিটে কিম কিয়ং ইয়ং হেডে হ্যাটট্রিক পূরণ করেন। দুই মিনিট পর ইয়ুন জি হাওয়া স্কোরলাইন করেন ৬-০।

৫৮ মিনিটে কিম কিয়ং ইয়ংয়ের হেডে স্কোরলাইন ৭-০ করার পর গোলরক্ষকে বদল আনেন কোচ। রুকসানাকে তুলে নিয়ে নিয়মিত গোলরক্ষক মাহমুদা খাতুন আসেন পোস্টের নিচে। ৮৬ মনিটে কিম কিয়ং ইয়ং এবং রি সুং জিওন শেষ মুহূর্তে লক্ষ্যভেদ করলে ৯-০ ব্যবধানের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে উত্তর কোরিয়া। পুরো ম্যাচে কোরিয়া দলের পোস্টে কোন আক্রমণ করতে পারেনি বাংলাদেশ। থাইল্যান্ড যাওয়ার আগে ইতোমধ্যে সিঙ্গাপুর, চীন ও জাপানে গিয়ে অনেক প্রস্তুতি ম্যাচ খেলেছে কৃষ্ণবাহিনী।

Leave a Reply

Your email address will not be published.