নাইক্ষ্যংছড়ি ফের সীমান্তে স্থল মাইন বিষ্ফোরণে এক রোহিঙ্গার মৃত্যু: আতঙ্কে সীমান্তের রোহিঙ্গারা

॥ নুরুল কবির ॥

বান্দরবানের ঘুমধুম-তুমব্রু সীমান্তের পর এবার নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে স্থল মাইন বিষ্ফোরণে এক রোহিঙ্গা নাগরিকের দুই পা উড়ে গেছে।

সোমবার রাত ১১টার দিকে বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তের ৪৬নং পিলারের নিকট এ ঘটনা ঘটেছে বলে নিশ্চিত করেছেন নাইক্ষ্যংছড়ি সদর ইউপি চেয়ারম্যান তসলিম ইকবাল চৌধুরী। তিনি জানান-মাইন বিষ্ফোরণে ওই ব্যাক্তির দুটি পা উড়ে গেছে।

আশংখাজনক অবস্থায় তাঁকে সাড়ে বারোটায় হাসপাতালে পাঠানো হয়। তাঁর নাম মোক্তার আহমদ (৪০)। তিনি মিয়ানমারের ফকিরাবাজার এলাকার আবদু সালামের ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার রাতে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে পরিবারের ছয় সদস্যসহ আশ্রয় নিতে আশারতলী প্রবেশ পথের জিরো পয়েন্টে পুতে রাখা মিয়ানমার সেনাবাহিনীর স্থল মাইন বিষ্ফোরণে মোক্তার আহমদের দুই পায়ে ও শরীরে মারাত্মক জখম হয়।

পরে আত্মীয় স্বজন তাঁকে আশংখা জনক অবস্থায় নাইক্ষ্যংছড়ি সদর হাসপাতালে নিলে ডাক্তার তাঁকে মৃত ঘোষনা করেন। রাত ১টায় নাইক্ষ্যংছড়ি সদর হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডাক্তার সালমান করিম খাঁন ওই রোহিঙ্গা নাগরিকের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন এদিকে মিয়ানমার সেনাবাহিনী আর্ন্তজাতিক আইন অমান্য করে নাইক্ষ্যংছড়ির ১২০কিঃমি সীমান্তের জিরো পয়েন্টে স্থল মাইন বসিয়েছে। অনেক স্থানে বাংলাদেশের এপারে কাটা তার ঘেষে মাইন বসানোর অভিযোগ তুলেছেন রোহিঙ্গারা।

এদিকে সীমান্তে এখন নতুন করে দেখা দিয়েছে স্থলমাইন আতঙ্ক। সীমান্তে বিপুল সংখ্যক স্থলমাইন ও উচ্চ ক্ষমতার বিস্ফোরক মাটিতে পুঁতে রেখেছে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী ও সীমান্ত রক্ষিবাহিনী বিজিপি।

আমেনা বেমগসহ একাধিক রোহিঙ্গা জানান, সীমান্তে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর সদস্যরা টহল দেয়ার সময় বাংলাদেশের অভ্যন্তরে তারা কাঁটাতারের বেড়ার কাছে গর্ত করে বিপুল পরিমান স্থলমাইন ও বিস্ফোরক মাটির নিচে পুঁতে রেখেছে। কাঁটাতারের বেড়ার কাছে গেলে স্থলমাইন বিস্ফোরণে এই হতাহতের ঘটনা ঘটছে।

Leave a Reply