রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় রাঙ্গামাটি থেকে প্রতিদিন পাচার হচ্ছে হাজার হাজার ঘনফুট জ্বালানি কাঠ

॥ নিজস্ব প্রতিবেদক ॥

রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় প্রভাব খাটিয়ে রাঙ্গামাটি থেকে  প্রতিদিন কয়েক হাজার ঘনফুট জ্বালানি কাঠ চট্টগ্রামের বিভিন্ন ইটভাটায় পাচার হচ্ছে। ইটভাটাগুলোতে পোড়ানো হচ্ছে এই সকল জ্বালানি কাঠ। এতে রাঙ্গামাটি জেলার প্রাকৃতিক বন ব্যাপক হারে উজাড় হওয়ার আশংকা করছেন সচেতন মহল।

গত দুই মাসে কয়েক হাজার ঘনফুটের বেশি কাঠ আটক করার কথা স্বীকার করেছে বন বিভাগ। এদিকে গত বৃহস্পতিবার ঘাগড়া সেনা জোন কাঠ বোঝাই ৩ টি চাঁদের গাড়ী আটক করে। বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বেশ কয়েক বছর আগে জ্বালানি কাঠ পরিবহনের পারমিট (অনুমতিপত্র) দেওয়া বন্ধ হয়ে গেছে।

এর প্রধান উদ্দেশ্য ছিল, প্রাকৃতিক ও ব্যক্তিগত বাগানের কচি গাছগুলোকে রক্ষা করা। এমনকি জোত (ব্যক্তিগত বাগান) পারমিটের সঙ্গে আগে যে জ্বালানি কাঠের পারমিট দেওয়া হতো, তা-ও বন্ধ করা হয়েছে। তার পরও জ্বালানি কাঠ পাচার বন্ধ করা
যাচ্ছে না।

দীর্ঘদিন ধরে এই পথ দিয়ে শত শত চাঁদের গাড়ী দিয়ে কাঠ পাচার হলেও গত বৃহস্পতিবার দুপুরের পরে সেনাবাহিনী ৩ টি চাঁদের গাড়ী আটক করে। সেনাবাহিনী কর্তৃক আটককৃত চাঁদের গাড়ী গুলো হচ্ছে চট্টগ্রাম-খ- ১২২২, খুলনা ক- ৪৮২, ঢাকা ঘ-৩৮০১।
বন বিভাগের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কর্মকর্তা ও স্থাণীয়রা জানান, জ্বালানি কাঠ পাচারের সঙ্গে সরকারি দল, বিরোধী দলসহ জাতীয় ও আঞ্চলিক রাজনৈতিক দলের কয়েকটি চক্র জড়িত।

কাঠ পাচারে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করা হলে এসব চক্র থেকে হুমকি দেওয়া হয়। তাদের ছত্রচ্ছায়ায় কাঠ পাচার করেন কয়েকজন চিহ্নিত আদিবাসী ও বাঙালি ব্যবসায়ী। ব্যবসায়ী বলেন, চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া, রাউজান ও হাটহাজারী এলাকার ইটভাটাগুলোতে রাঙ্গামাটির জ্বালানি কাঠের খুব চাহিদা।

এসব কাঠ পাহাড়িদের কাছ থেকে প্রতি মণ ৪০ টাকা দরে কিনে নিয়ে যাওয়া হয় বলে জানান। কাঠ নিয়ে আসা উপজাতীয়রা বলেন, জ্বালানি কাঠগুলো ব্যক্তিগত বাগান, প্রাকৃতিক বন ও জোত পারমিটের মাধ্যমে কাটা গাছের মাথা থেকে সংগ্রহ করে বিক্রি করা হয়। জানা গেছে, জ্বালানি কাঠ পাচারের প্রধান স্থান সদর উপজেলার সাপছড়ি ইউনিয়নের মানিকছড়ি মসজিদঘাট। সেখানে

সরেজমিনে দেখা যায়, হ্রদের পাশে স্তূপ করে প্রচুর জ্বালানি কাঠ রাখা হয়েছে। আরও কয়েকটি নৌকা থেকে কাঠ নামানো হচ্ছে। পরিবহনে সরকারি অনুমতি না থাকায় এসব কাঠ রাতে বিভিন্ন যানবাহনে করে নেওয়া হয় ইটভাটাগুলোতে। গত কয়েক দিনে চট্টগ্রাম রাঙ্গামাটি সড়ক দিয়ে এক দিনে ট্রাক, চান্দের গাড়িসহ (হুড খোলা জিপ) শতাধিকের বেশি যানবাহনে জ্বালানি কাঠ নিতে দেখা গেছে।

সড়কের ঘাগড়া এলাকায় বন বিভাগের একটি ফাঁড়ি আছে। কাঠ পাচারকারীরা সেই রুট ব্যবহার না করে বাজারের ভিতর দিয়ে বিকল্প রুট দিয়ে কাঠ রাঙ্গুনিয়ায় পাচার করছে। যোগাযোগ করা হলে পার্বত্য চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগের অধীনে ঘাগড়া রেঞ্জ অফিসের ফরেষ্টার মোঃ সোলায়মান এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, কাঠ চোরের দল অনেক শক্তিশালী। আমাদের উপর দিয়ে কোন প্রকার কাঠ পাচার করা হয় না।

যা যায় তা টিপির মাধ্যমে নেয়া হয়। গত বৃহস্পতিবার ঘাগড়া সেনাবাহিনী অভিযান চালিয়ে কাঠ বোঝাই ৩ টি পিকআপ আটক করে। পরে আমাদেরকে বুঝিয়ে দিলে আমরা তা ঘাগড়া রেঞ্জ অফিসে নিয়ে আসি।