“নানিয়ারচরে ২ হত্যাকান্ডের ঘটনায় মামলা নয় অভিযোগ জমা হয়েছে”-পুলিশ সুপার

॥ আলমগীর মানিক ॥

২৪ ঘন্টার ব্যবধানে পার্বত্য জেলা রাঙামাটিতে দুইটি হত্যাকান্ডের ঘটনায় নানিয়ারচর থানায় দুইটি অভিযোগ জমা দেওয়া হয়েছে নিহতদের পরিবারের পক্ষ থেকে। বিষয়টি সত্যতা নিশ্চিত করে রাঙামাটির পুলিশ সুপার জনাব আলমগীর কবির জানিয়েছেন, নানিয়ারচর থানায় দুইটি অভিযোগ নিয়ে আসে নিহতদের স্বজনরা। আমাকে জানানোর পর আমি রাঙামাটি থেকে একজন এডিশনাল এসপি ও একজন ডিবি ওসিকে নানিয়ারচর থানায় পাঠিয়েছি। তারা বিষয়টি যাচাই-বাচাই করে আমাকে জানালে এরপর মামলার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

থানা সূত্র জানায়, নানিয়ারচর উপজেলা চেয়ারম্যান পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (এমএন লারমা) নেতা এ্যাডভোকেট শক্তিমান চাকমা ও তার শেষকৃত্যে যাওয়ার সময় পাঁচজনকে গুলি করে হত্যায় ইউপিডিএফ নেতা প্রসিত বিকাশ খীসাকে প্রধান আসামি করে মামলার আবেদন করা হয়।

এমএন লারমা আদর্শিক জেএসএস সূত্র জানায়, এ্যাডভোকেট শক্তিমান চাকমা হত্যার ঘটনায় গুলিবিদ্ধ তার সহকারী জেএসএস (এমএন লারমা) নানিয়ারচর উপজেলা কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক রূপম চাকমা বাদী হয়ে চুক্তি বিরোধী সংগঠন ইউপিডিএফ এর প্রধান প্রসিত বিকাশ খীসাসহ ৪৬ জনের নাম উল্লেখ করে থানায় অভিযোগ জমা দেওয়া হয়েছে।

এদিকে অপর ঘটনায় গণতান্ত্রিক ইউপিডিএফ’র নেতা তপনজ্যোতি চাকমা বর্মাসহ পাঁচজন হত্যায় নীতিপূর্ণ চাকমা অর্চিন বাদী হয়ে অভিযোগ দায়ের করেন। এই অভিযোগ পত্রে ইউপিডিএফ সভাপতি প্রসিত বিকাশ খীসা, সাধারন সম্পাদক রবি শংকর, কেন্দ্রীয় নেতা সচিব চাকমা, শান্তিদেব চাকমাসহ ৭২ জনের নাম উল্লেখ করে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়।

প্রসঙ্গত : চলতি মাসের গত ৩রা মে উপজেলা সদরের বাজার থেকে নিজ কার্যালয়ে যাওয়ার পথে স্বজাতীয় সশস্ত্র ছদ্মবেশি সন্ত্রাসীদের গুলিতে মারা যান নানিয়ারচর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এ্যাডভোকেট শক্তিমান চাকমা। এসময় তাকে বহনকারি তার রাজনৈতিক সহকর্মী রূপম চাকমাও গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয়।

এই ঘটনার একদিন পরপরই শক্তিমান চাকমার দাহক্রিয়া অনুষ্ঠানে যোগদিতে আসার সময় নানিয়ারচরের বেতছড়ি এলাকায় প্রতিপক্ষের সন্ত্রাসীদের ব্রাশ ফায়ারে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান গণতান্ত্রিক ইউপিডিএফ প্রধান তপন জ্যোতি চাকমা বর্মাসহ আরো পাঁচজন।