নানিয়ারচরে ৬ জন হত্যার ঘটনায় মামলা : জেএসএস নেতাসহ গ্রেফতার-২

॥ আলমগীর মানিক ॥

রাঙামাটির নানিয়ারচরে ২৪ ঘন্টার ব্যবধানে দু’দলের দুই শীর্ষ নেতাসহ ৬ জনকে ব্রাশ ফায়ার করে হত্যা পরবর্তী মামলা দায়ের করা হয়েছে। গত ৮/০৫/২০১৮ ইং তারিখে নানিয়ারচর থানায় দায়েরকৃত মামলায় সন্দেহভাজন হিসেবে দুইজনকে আটক করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন পুলিশের দায়িত্বশীল উদ্বর্তন কর্মকর্তা। আটককৃত দুইজনের নাম হলো কিরণ চাকমা ও তন্টুমনি চাকমা।

পুলিশ সূত্র জানাগেছে, যৌথবাহিনীর অভিযানের মাধ্যমে বৃহস্পতিবার বিকেলে গ্রেফতার হওয়া কুতুকছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের সচিব কিরণ চাকমার জন্যে আদালতে সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন জানিয়েছে পুলিশ। আদালত আগামী রোববার রিমান্ড আবেদনের শুনানীর দিন ধায্য করে আসামীকে জেল হাজতে প্রেরণের আদেশ প্রদান করেন।

অন্যদিকে, বৃহস্পতিবার দিবাগত শুক্রবার রাত সাড়ে তিনটার সময় শহরের কল্যাণপূরস্থ নিজ বাসাথেকে আটক করা হয়েছে সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন জেএসএস এর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের স্টাফ সদস্য তন্টু মনি চাকমাকে আটক করে যৌথবাহিনী।

এদিকে তন্টুমনিকে আটকের ঘটনায় নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে জেএসএস। শুক্রবার সন্ধ্যারাতে গণমাধ্যমে প্রেরিত সংগঠনটির সহ তথ্য ও প্রচার সম্পাদক সজীব চাকমা স্বাক্ষরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করেন, কোন মামলা ও ওয়ারেন্ট না থাকা সত্ত্বেও যৌথ বাহিনী কর্তৃক এভাবে গভীর রাতে তন্টু মনি চাকমাকে ঘুম থেকে তুলে গ্রেফতারের ঘটনায় পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছে এবং এই গ্রেফতার ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছে।

পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি অবিলম্বে তন্টু মনি চাকমাকে নি:শর্তে মুক্তি প্রদানের জন্য জোর দাবি জানাচ্ছে। সেই সাথে সন্ত্রাসী খোঁজার নামে যৌথ বাহিনীর অভিযানে নিরীহ মানুষের উপর হয়রানি ও গ্রেফতার বন্ধের দাবি জানাচ্ছে।

এদিকে রাঙামাটির পুলিশ সুপার আলমগীর কবির বলেছেন, আমরা মামলার সুষ্ঠ তদন্তের স্বার্থে গ্রেফতার অভিযান অব্যাহত রেখেছি। তিনি বলেন, সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেফতার করা ব্যক্তিকে জিজ্ঞাবাসাদের ভিত্তিতেই আইনী কার্যক্রম চলবে। এতে কেউ যদি নিরপরাধ প্রমানিত হয় তাহলে তিনি আদালতের মাধ্যমে ছাড়া পাবেন। এক প্রশ্নের জবাবে জনাব আলমগীর কবির জানান, সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে আমাদের যৌথবাহিনীর অভিযান অব্যাহত আছে এবং এটি চলমান থাকবে।