প্রকাশ্যে দিবালোকে গুলি করে মানুষ হত্যাকারিদের বিরুদ্ধে পাহাড়বাসী রাজপথে নামুন :এমপি চিনু

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

পার্বত্য চট্টগ্রামের সংসদ সদস্য ফিরোজা বেগম চিনু বলেছেন, পাহাড়ে প্রকাশ্যে দিবালোকে পাখিরমত গুলি করে মানুষ মারা হচ্ছে। এইখানে স্বাভাবিক মৃত্যুর কোন গ্যারান্টি নাই। পাহাড়ে অস্ত্রধারী এইসব সন্ত্রাসীদের কোন জাত নেই কোন দল নেই, তারা মনুষ্য জাতির কাতারে পড়ে না কারন মনুষ্য জাতি হলে তাদের ভিতরে ভাতৃত্ববোধ, দেশপ্রেম, অসাম্প্রদায়িক চেতনা এবং জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতা থাকতো। এই সকল অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের মাধ্যমেই পার্বত্য চট্টগ্রামে ব্যাপক হারে সশস্ত্র তৎপরতা সংগঠিত হচ্ছে এবং এর শিকার জনপ্রতিনিধি, সাধারণ মোটরগাড়ী চালক থেকে শুরু করে কৃষক পর্যন্ত বাদ যাচ্ছে না।

অদৃশ্য শক্তির প্রভাবে পাহাড়ের এই সকল সন্ত্রাসীরা পার্বত্য চট্টগ্রামকে বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশের একদশমাংশ অঞ্চল হিসেবে স্বীকার করে না, দেশের স্বাধীনতা/সার্বভৌমত্ব স্বীকার করতে চায় না তাই এই সকল সন্ত্রাসীদের স্বমূলে নির্মুল করাটা এখন সময়ের দাবী। রাষ্ট্রের অখন্ডতা নিয়ে এইসব সন্ত্রাসীরা সশস্ত্র কার্যক্রমে লিপ্ত পার্বত্য অঞ্চলের বাসিন্দাদের প্রতিটি ক্ষণকে আতঙ্কময় করে তুলছে। তাদের বিরুদ্ধে সকল স্তরের ও সম্প্রদায়ের পাহাড়বাসীকে রাজপথে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনে নামার আহবান জানিয়েছেন সংসদ সদস্য ফিরোজা বেগম চিনু।

শুক্রবার বিকালে রাঙামাটি শহরে শিল্পকলা একাডেমী মিলনায়তনে আয়োজিত একটি সামাজিক সংগঠনের উদ্যেগে অনুষ্ঠিত প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এমপি ফিরোজা বেগম চিনু এই আহবান জানান। তিনি আরো বলেন, পাহাড়ের অস্ত্রধারীরা যে কতটা ভয়ংকর সেটি সাম্প্রতিক সময়ে দুটি চাঞ্চল্যকর হত্যাকান্ডের ঘটনায় প্রমাণ হয়েছে এবং এটি পার্বত্য চট্টগ্রাম সহ সারা দেশ তথা পুরো বিশ্ব বুঝতে পেরেছে ও অবলোকন করেছে।

এইসব সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে শুধু চিরুণী অভিযান নয় সন্ত্রাসী স্বমূলে নির্মুল অভিযান পরিচালনার দাবী করে তিনি বলেন, সন্ত্রাসীদের কোন জাত নেই, কোন ধর্ম নেই, সন্ত্রাসীরা কোন ভদ্র ঘরের ভদ্র লোকের স্বজন হতে পারে না। তাই এইসকল সন্ত্রাসী, অপহরণকারী, হত্যাকারী সশস্ত্র চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে পার্বত্যবাসী আবারো ঐক্যবদ্ধ ভাবে রাজপথে নামার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এরই আলোকে আগামী ১৩মে পাহাড়ে স্বাভাবিক মৃত্যুর গ্যারান্টি চাই এই স্লোগানে  বিক্ষোভ কর্মসূচীতে দলমত, জাতিধর্ম নির্বিশেষে সকলকে সম্প্রদায়ের লোকজনকে অংশগ্রহণ করার আহবান জানান চিনু।

একদল তরুণকে নিয়ে গঠিত আলোর ফুল নামক একটি সংগঠনের দীর্ঘ আট বছর পথ পরিক্রমা পরবর্তি আজ ৯ম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য ফিরোজা বেগম চিনু এইসব কথা বলেন। উক্ত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাঙামাটি পৌরসভার প্যানেল মেয়র ও কাউন্সিল ৭নং ওয়ার্ড- মো. জামাল উদ্দীন, সিএইচটি টাইমস টোয়েন্টিফোরের ব্যবস্থাপনা সম্পাদক  ও আলোর  ‍ফূলের উপদেষ্টা মো. জাহিদুল ইসলাম জাহিদ, অত্র সংগঠন এর অন্যতম উপদেষ্টা বেগম সুফিয়া কামাল জিমি এবং মো. পারভেজুল ইসলাম।

আলোচনা সভার পর চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা, পুরষ্কার বিতরন ও আলোর ফুলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে কেক কাটা হয়। এর আগে আলোর ফুল এর ১০ম বর্ষের পদার্পন উপলক্ষে একটি র‌্যালী বের করা হয়। র‌্যালীটি রাঙামাটির বনরূপা বাজার থেকে বের হয়ে প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে জেলা শিল্পকলা একাডেমী প্রাঙ্গণে এসে শেষ হয়।