বান্দরবানে অপহৃত কার্বারীসহ ৪ জনের হদিস নেই !

॥ নুরুল কবির-বান্দরবান ॥

বান্দরবানের থানচি থেকে ভারী অস্ত্রধারীদের হাতে অপহৃত একজন গ্রাম প্রধান এবং তারস্ত্রীসহ ৪জনকে অপহরণের ২৪ ঘন্টা পরও উদ্ধার করা যায়নি। জেলার দুর্গম থানচি উপজেলা সদর থেকে ৬কিলোমিটার দুরে তুংখ্যং পাড়া থেকে অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের হাতে শনিবার বিকেল ৩টায় তারা অপহৃত হন।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন অপহরণকারীরা কথিত মিয়ানমারের বিচ্ছিন্নতাবাদী দল আরাকান আর্মির (এএ)সদস্য বলে ধারনা করা হচ্ছে। সরকারি সুত্র জানিয়েছে, অপহৃতদের উদ্ধারে যৌথ বাহিনীর সদস্যরা অভিযান চালাচ্ছেন। রোববার সকালে ওই এলাকা থেকে সন্দেহভাজন ২ উপজাতি ব্যক্তিকে যৌথবাহিনী আটক করেছে।

অপহৃতরা হলেন-তংখং পাড়ার পাড়া কারবারী আথুই মং মারমা (৫২), তার স্ত্রী আপ্রুমা মারমা (৪৫), পাড়ার বাসিন্দা পাইছা প্রু মারমা (৬০) ও তার স্ত্রী প্রু মাচিং মারমা।

বলি পাড়ায় অবস্থিত বিজিবি ব্যাটালিয়ন কমান্ডার লে.কর্ণেল হাবিবুল হাসান সাংবাদিকদের বলেন, ওই পাড়া থেকে গ্রাম প্রধানসহ ৪জনকে অপহরণের সংবাদ তিনি পেয়েছেন, তবে কি কারণে বা কারা অপহরণ করেছে সেই সম্পর্কে তিনি তথ্য সংগ্রহ করছেন।

দুর্গম এলাকাসমুহে বিজিবি, সেনাবাহিনী এবং পুলিশের যৌথ অভিযান চলছে বলেও তিনি জানান। অপহৃত গ্রামপ্রধান আথুই মং মারমার না জানা গেলেও তারস্ত্রীসহ অপর তিনজনের নাম জানানো হয়নি।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মংমংচিং মারামা বলেন, অপহৃত গ্রামপ্রধান আথুই মং মারমার ছেলে মংমংসে মারমা ৮লাখ টাকা নিয়ে আরাকান আর্মির আস্তানা থেকে পালিয়ে আসেন কয়দিন আগে। তিনি প্রায় ২বছর আগে আরাকান আর্মিতে যোগ দিয়েছিলেন। সে কারণেই এই অপহরণ ঘটনা ঘটতে পারে বলেও তিনি মত প্রকাশ করেন।

থানচি উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ক্যহ্লাচিং মারমা বলেন, এ উপজেলার দুর্গম এলাকা সমুহে দীর্ঘদিন ধরে অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীরা বেশসক্রিয় থাকলেও নিরাপত্তা বাহিনী তাদের ধরার জন্যে তেমন তৎপর নন।

গত, ১৬ এপ্রিল সাংগ্রাই অনুষ্ঠান শেষে রেমাক্রি বাজার ঘাটে নৌকায় আরোহণের প্রাক্কালে উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান বকলী মারমাসহ ৩জনের ওপর অতর্কিতে হামলা চালায় সন্ত্রাসীরা। ফলে গুরুতর আহত হন।