কাপ্তাই হ্রদে ৩২ মে:টন মাছের পোনা অবমুক্ত হবে এবছর,২০১৭-১৮ সালে রাজস্ব আয় ১৩.২৩ কোটি টাকা

॥ আলমগীর মানিক ॥

দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার বৃহত্তম কৃত্রিম রাঙামাটির কাপ্তাই হ্রদে সকল প্রকার মৎস্য আহরণ ও বিপননে সরকারিভাবে জারিকৃত নিষেধাজ্ঞাকালীন সময়ে হ্রদে মাছের উৎপাদন বৃদ্ধিতে শনিবার কাপ্তাই হ্রদে কার্প জাতীয় মাছের পোনা অবমুক্তকরন কর্মসূচীর উদ্বোধন করেছেন মৎস্য এবং প্রাণী সম্পদ মন্ত্রনালয়ের সচিব রইসুল আলম মন্ডল।

এসময় বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন কর্পোরেশন বিএফডিসি’র চেয়ারম্যান দিলদার আহমেদ, রাঙামাটির জেলা প্রশাসক একেএম মামুনুর রশিদ, বিএফডিসি রাঙামাটি কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক কমান্ডার আসাদ্দুজ্জামান, জেলা আওয়ামীলীগ এর যুগ্ম সম্পাদক কেএম জসিম উদ্দিন বাবুলসহ মৎস্য বিভাগ, মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটউট এর কর্মকর্তা, মৎস্য ব্যবসায়ী ও মৎস্য শ্রমিক সমিতির নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

পোনা অবমুক্তকরন কর্মসূচীর প্রথমদিনে ১ মেট্টিক টন কার্প জাতীয় মাছের পোনা অবমুক্ত করা হয়। এ মৌসুমে কর্মসূচীর আওতায় কাপ্তাই হ্রদের সাথে সহনশীল পরিবেশে সংরক্ষিত অভয়াশ্রমে ৩২ মেট্রিকটন কার্প জাতীয় মাছের পোনা ছাড়া হবে।

এর আগে পোনা অবমুক্তকরণ অনুষ্ঠান উপলক্ষে বিএফডিসির রাঙামাটি অবতরন ঘাটে আয়োজিত আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। রাঙামাটির জেলা প্রশাসক একেএম মামুনুর রশিদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন মৎস্য ও প্রাণী সম্পদ মন্ত্রনালয়ের সচিব রইসুল আলম মন্ডল।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মৎস্য সচিব বলেন, সিঙ্গাপুরের মতো একটি রাষ্ট্রের চেয়েও আয়তনে বড় রাঙামাটির কাপ্তাই হ্রদ আমাদের অমূল্য সম্পদ। এই হ্রদে ধারণ করে রাখা মিঠা পানিতে প্রজননকৃত মাছ আমাদের আমিষের চাহিদা পূরনের পাশাপাশি বিপুল পরিমান রাজস্ব আয়সহ প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় অনন্য অবদান রাখছে কাপ্তাই হ্রদ।

দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার বৃহত্তম এই কৃত্রিম হ্রদটিকে টিকিয়ে রাখা আমাদের সকলের দায়িত্ব। সচিব বলেন, হ্রদের বিশাল এই অঞ্চলকে সঠিকভাবে রক্ষণাবেক্ষণে রাঙামাটি বিএফডিসিকে হিমশীম খেতে হচ্ছে এটা স্বচক্ষেই অবলোকন করলাম। খুবই কম সংখ্যক লোকবলের মাধ্যমে হ্রদের মৎস্য সম্পদের সার্বিক রক্ষনাবেক্ষণ করে ক্রমান্বয়ে উন্নতির দিকে ধাবিত হচ্ছে রাঙামাটি বিএফডিসি কর্তৃপক্ষ। এটা অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক মন্তব্য করে সচিব বলেন, সাধ ও সাধ্যের মধ্যে যত দ্রুত সম্ভব এই সংকট সমাধানে আমি চেষ্টা চালাবো।

কাপ্তাই হ্রদের বিভিন্ন ঘোনায় অবৈধ ক্রিক বাধ, জাল দিয়ে ঘেরা মৎস্য ঘেরসহ অবৈধ জাঁক এর ব্যাপারে মৎস্য সচিব বলেন, এই ধরনের অবৈধ কর্মকান্ডের সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ব্যবস্থা নিন। এছাড়াও এইসকল অবৈধ ক্রিক বাঁধ, অবৈধ জাঁক অপসারনে প্রয়োজনীয় সকল পদক্ষেপ গ্রহণে রাঙামাটির বিএফডিসি কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনাও প্রদান করেন সচিব।

তিনি বলেন, সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্ঠায় কাপ্তাই হ্রদের মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি করতে হবে। মাছের প্রাকৃতিক প্রজনন নিশ্চিত করার জন্য এ মৌসুমে মাছ ধরা বন্ধের নির্দেশনা কঠোরভাবে মানার উপর গুরুত্বারোপ করে সচিব বলেন, সরকার কাপ্তাই হ্রদের মাছের উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে একাধিক উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে।

এদিকে, বক্তব্যদানকালে প্রধান অতিথি, সরকারী অর্থায়নে লংগদু উপজেলায় বিএফডিসির নিজস্ব নার্সারীতে নিজস্বভাবে পোনা উৎপাদনে সফলতা অর্জন করাসহ কাপ্তাই হ্রদের মৎস্য সম্পদের ব্যাপক বৃদ্ধিতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করায় রাঙামাটি বিএফডিসির ব্যবস্থাপক নৌবাহিনীর কমান্ডার আসাদুজ্জামান এর ভূয়সী প্রশংসা করে সচিব বলেন একজন নির্লোভ ব্যক্তির একান্ত আন্তরিকতা না থাকলে এতো সংকটময় পরিস্থিতিতেও কাপ্তাই হ্রদ থেকে ১৩কোটি ২৩ লক্ষ ৯৭ হাজার টাকা রাজস্ব আয় সম্ভবপর হতো না। হ্রদে মাছেরও উৎপাদনও বেড়েছে অনেকগুন।

আলোচনা সভা শেষে অতিথিবর্গ কাপ্তাই হ্রদের পানিতে একটন কার্প জাতীয় মাছের পোনা অবমুক্ত করার পাশাপাশি কাপ্তাই হ্রদে অবৈধ মাছ শিকারীদের বিরুদ্ধে বিএফডিসি কর্তৃক অভিযানে আটককৃত মাছের জাল আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়।