ব্রেকিং নিউজ

দু’নেতাকে বহিস্কারে আবারো অর্ন্তকোন্দলে রাঙামাটি ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা

॥ সৌরভ দে ॥

আবারো অর্ন্তকোন্দলের দিকে ধাবিত হচ্ছে রাঙামাটির ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। রাঙামাটি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ ছাত্রলীগের দু’নেতার বহিস্কারাদেশ নিয়ে নতুন করে এই অর্ন্তকোন্দল সৃষ্টি হয়েছে বলে সাধারণ নেতাকর্মীদের সাথে আলাপকালে জানাগেছে।

তারা জানায়, রেজিস্ট্রেশন কার্ড দেওয়া সহ বেশ কিছু অফিসিয়াল কাজে মাত্রাতিরিক্ত ফি নেওয়ার প্রতিবাদ করায় রাঙামাটি সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারন সম্পাদক তারেক হোসেন মাহিম ও আইন বিষয়ক সম্পাদক মেহেদী হাসান শাওনকে সদস্যপদ স্থগিত করেছে রাঙামাটি সরকারি কলেজ ছাত্রলীগ।

বৃহস্পতিবার ৭ই জুন একটি গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে রাঙামাটি সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি সুলতান মাহমুদ বাপ্পা এবং সাধারন সম্পাদক আহমেদ ইমতিয়াজ রিয়াদ স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই স্থগিতাদেশ সম্পর্কে জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিটিতে বলা হয়, বাংলাদেশ ছাত্রলীগের গঠনতন্ত্রের ১৭(খ) ধারামতে সকল কার্যক্রম ও পদবী স্থগিত করা হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত তাদের সদস্য পদ স্থগিত থাকবে।

এইদিকে উক্ত স্থগিতাদেশ এর পক্ষে-বিপক্ষে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছাত্রলীগের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীদের মধ্যে শুরু হয়েছে প্রতিবাদ। কলেজ ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক দীপংকর দে জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি আব্দুল জব্বার সুজনের উদ্ধৃতি দিয়ে এক স্ট্যাটাসে জানান, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ এর গঠনতন্ত্র এর ১৭(খ)ধারা অনুসারে কোন স্থগিতাদেশ প্রদানে উপযুক্ত কারন দর্শাতে হবে। রাঙামাটি জেলা ছাত্রলীগ এর সভাপতি ও সাধারন সম্পাদককে অবগত না করে, তাদের অনুমতিবিহীন স্থগিতাদেশ সম্পূর্ণ অবৈধ।

অপরদিকে বিষয়টি নিয়ে নিজের টাইম লাইনেও প্রায় একই ধরনের ষ্ট্যাটাস দিয়েছেন জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আব্দুল জব্বার সুজন। সুজন তার টাইমলাইনে লেখেন… বাংলাদেশ ছাত্রলীগের গঠনতন্ত্র ও নিয়ম নীতি অনুসারে ছাত্রলীগের ওয়ার্ড থেকে শুরু করে জেলা আওতাধীন যে কোনো ইউনিটের যে কোনো নেত্রীবৃন্দকে কোনো কারনে তার পদ পদবি থেকে স্থগিত/অব্যাহতি করার ক্ষেত্রে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের লিখিত সুপারিশ ছাড়া এবং কেন্দ্রিয় কার্যনির্বাহী সংসদের অনুমতি ছাড়া যে কোনো স্থগিত/অব্যাহতি আদেশ সম্পূর্ণরুপে অবৈধ। [বিঃদ্রঃ ছাত্রলীগ এর গঠনতন্ত্র সম্পূর্ণরুপে জানা শর্তেও কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের প্রতি সম্মান রেখে দপ্তর সম্পাদকের নিকট মুঠোফোনে আরো সুনিশ্চিত হয়ে আমি ছাত্রলীগের সকল স্তরের নেতৃবৃন্দের অবগতির জন্য এই তথ্যটি জানানো হলো।]

এদিকে উক্ত বহিস্কারাদেশ সম্পর্কে নিজের অবস্থান পরিস্কার করে ষ্ট্যোটাস দিয়েছেন রাঙামাটি সরকারী বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আহম্মেদ ইমতিয়াজ রিয়াদ। ফেসবুকে নিজের টাইমলাইনে রিয়াদ লেখেন.. বাংলাদেশ ছাত্রলীগ রাংগামাটি সরকারী বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ শাখার সভাপতি/সাধারণ সম্পাদকের আদেশ অমান্য, সাংগঠনিক ভাবমূর্তী ক্ষুন্ন ও সংগঠন পরিপন্থী কার্যকলাপ সহ, সভাপতি/সম্পাদকের সাথে অপ্রীতিকর আচরণ করার কারণে তারেক হোসেন মাহিম ও মেহেদী হাসান শাওন এর সাংগঠনিক কার্যক্রম ও পদবী সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। কোন অপ্রাসংঙ্গিক কারণে তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এরআগে রিয়াদ অপর এক ষ্ট্র্যোটাসে লিখেন.. মিথ্যা প্রচারণার শক্তি কি সত্যের চেয়েও বেশি? অন্যজনের উস্কানিতে পরিকল্পিত মিথ্যাচার কপি-পেস্ট করে গুজব সৃষ্টি করে কি সত্যকে অপসারিত কিংবা ধুম্রায়িত করা যায়?

অপরদিকে এম এ হাসনাত শিমুল নামের একজন রিয়াদের ষ্ট্যোটাসে কমেন্ট করেছেন…চট্টগ্রামে রনি ভাইয়ের মত এক নেতা কে জেলে কে পাঠাইছে কেন পাঠাইছে? জানস নিশ্চয়। সেও কিন্তু দুর্নীতি কে প্রশ্রয় দেয় নায় তাই এ অবস্থা। শাওন এমন কি করল? এটা ত তোদের করার কথা ছিল কলেজে কিন্তু তোরা পারলি না উল্টা যারা প্রতিবাদ করল তাদের কে শাস্তি দিলি! ভাল ছাত্রলীগ যারা ভাল কাজে যাবা তারা শাস্তি পাবা, যারা টাকার জন্য বাবার দরবারে যাবা তারা পুরস্কার পাবা। নেতা হলেই বন্ধু ক্ষমতা দেখাতে হইনা। ক্ষমতা দেখানোর আগে বিবেচনায় নিয়ো তুমিও ছাত্র। ওদের অধিকার দেখার জন্যই তুমি নেতা না হলে তুমি কেও না।

দলীয় নেতাকর্মীদের সাথে কথা বলে জানাগেছে, রাঙামাটি জেলা ছাত্রলীগ ও সরকারী কলেজ ছাত্রলীগের কমিটির সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের মধ্যে কমিটি গঠনের পর থেকেই নানা কারনে মতবিরোধ দেখা দেয়। এনিয়ে উভয় পক্ষই বেশ কয়েকবার সংঘর্ষেও জড়িয়েছে। তাদের এই ধরনের কর্মকান্ডে জেলা আওয়ামীলীগের শীর্ষ পর্যায়ের নেতৃবৃন্দও বেশ বিব্রত অবস্থায় পড়েছিলেন। সম্প্রতী এই দূরত্ব অনেকটা কমিয়ে এনে উভয় কমিটির শীর্ষ নেতৃত্ব এককাতারে মিশে সন্ত্রাস বিরোধী আন্দোলনসহ সংগঠনের কার্যক্রমকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে বেশ তৎপরতাও লক্ষ্য করা গেছে।

কিন্তু রাঙামাটি কলেজের সামান্য একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে আবারো দ্বন্ধে জড়িয়েছে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। তবে এবারের দ্বন্ধ বিগতবারের চেয়ে একটু আঙ্গিকের বলে জানিয়েছেন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। সাপে নেউলে থাকা কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এবার একসাথে হয়ে তাদের সাথে সংগঠন বিরোধী আচরণ করার অভিযোগ এনে কলেজ ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারন সম্পাদক তারেক হোসেন মাহিম ও আইন বিষয়ক সম্পাদক মেহেদী হাসান শাওনকে সদস্যপদ স্থগিত করার ঘোষণা দেওয়ার পরপরই শুরু হয়েছে নতুন কোন্দলের।

কলেজ নেতৃত্বের এই সিদ্ধান্তকে কোনো ভাবেই গ্রহণযোগ্যনয় উল্লেখ করে রাঙামাটি জেলা ছাত্রলীগের সভাপতিসহ ছাত্রলীগের অধিকাংশ নেতাকর্মীরা এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে অবস্থান করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বেশ সরব সমালোচনা করছে। ছাত্রলীগের সাধারণ নেতাকর্মীরা জানিয়েছে, আবারো কোন্দলের দিকে এগুচ্ছে রাঙামাটির ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্দ।

সম্প্রতী আঞ্চলিক দলের পক্ষ থেকে আওয়ামীলীগ ও তারসহযোগি অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের যখন একের পর এক হুমকি-ধামকিসহ বেদড়ক পিটুনী দিয়ে আগামী নির্বাচনে ব্যাপক সংঘর্ষের ইঙ্গিত দিচ্ছে। এমনতর সময়ে দলীয় হাই কমান্ড ব্যস্ত সংগঠন গোছাতে ঠিক এমন সময়ে ছাত্রলীগের নেতৃত্বে আবারো আর্ন্তকোন্দলের ব্যাপারটা পক্ষান্তরে সংগঠন তথা সাধারণ নেতাকর্মীরা-ই ক্ষতির সম্মুখিন হবে বলে মন্তব্য তৃণমুল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের।