ব্রেকিং নিউজ

চাঁপাইনবাবগঞ্জে মহানায়ক বীর শহীদ বিরসা মুন্ডার ১১৮তম মৃত্যু দিবস পালিত

॥ নিজস্ব প্রতিবেদক ॥

উলগুলানের মহানায়ক বীর শহীদ বিরসা মুন্ডার ১১৮তম মৃত্যু দিবস উপলক্ষে আদিবাসী ছাত্র পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটি এবং ফুলকুঁড়ি-বারেন্দা গ্রামবাসীর উদ্যোগে আজ ৯ জুন ২০১৮ সকাল ১১.০০টায় চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোলে বরেন্দা গ্রামে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনার শুরুতে আদিবাসীদের রক্ষাকর্তা বিরসা মুন্ডা এবং অপরারপর সকল শহীদ আদিবাসী নেতাদের আত্মার শান্তি কামনায় এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়। বিরসা মুন্ডার জীবনীর উপর সংক্ষিপ্ত ধারনা পত্র পাঠ করেন জেলার সাধারণ সম্পাদক দিলীপ পাহান।

জাতীয় আদিবাসী পরিষদ চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা সভাপতি টুনু পাহানের সভাপতিত্বে এবং আদিবাসী ছাত্র পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক তরুন মুন্ডার সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন, জাতীয় আদিবাসী পরিষদ চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার আইন বিষয়ক সম্পাদক রতিলাল পাহান, আদিবাসী যুব পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি নবদ্বীপ লাকড়া, রাজশাহী জেলার যুগ্ম আহবায়ক উপেন রুবিদাস, হুরেন মূম, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা আহবায়ক ব্রোজেন্দ্রনাথ মুন্ডা, আদিবাসী ছাত্র পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি নকুল পাহান, চাপাইনবাবগঞ্জ জেলার সাধারণ সম্পাদক দিলীপ পাহান। এছাড়াও আরো বক্তব্য রাখেন, প্রথম আলো চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি আনোয়ার হোসেন দিলু, বাংলাদেশ গারো ছাত্র সংগঠন কেন্দ্রীয় সহ-সাধারণ সম্পাদক জাংকা রিছিল শিল্পী রানী কর্মকার, ঝুড়ু মুন্ডা, প্রমুখ

আলোচনায় বক্তারা বলেন, শহীদ বীর বিরসা মুন্ডা আদিবাসী মুন্ডাদের রক্ষাকর্তা ছিলেন। বিরসা মুন্ডা ১৮৭৫ সালে জন্মগ্রহন করেন। বিরসা মুন্ডা তার স্বল্পায়ু জীবনে ১৮৯৫ থেকে ১৯০০ সাল পর্যন্ত বিদ্রোহ করেন আদিবাসীদের মুক্তির জন্য। বিরসা মুন্ডাকে ১৯০০ সালে ৯ জুন চাইবাসা (রাচি) জেলে বিষপানে হত্যা করা হয়। তিনি মুন্ডা সমাজ বা জাতির জন্য যে ত্যাগ, সংগ্রাম করেছেন তা ইতিহাসে বিরল। তিনি মুন্ডা সমাজকে নতুনভাবে বিনির্মান করতে চেয়েছিলেন। তৎকালীন মুন্ডা সমাজের নেতিবাচক দিকগুলো তিনি দুর করার চেষ্টা করেছিলেন। এজন্য বর্তমান আদিবাসী নতুন প্রজন্মকে তার ইতিহাস, সংগ্রাম জানতে হবে। তার সেই সংগ্রামী চেতনা আমাদের লড়াই, সংগ্রামে ধারন করতে হবে। বিরসা ভগবান মুন্ডাদের জন্য লড়াই করলেও তার সংগ্রামী জীবন এ অঞ্চলের সকল আদিবাসী জনগোষ্ঠীকে অনুপ্রাণিত করে। আদিবাসীদের উপর সব ধরনের শোষন, নির্যাতন এবং বঞ্চনার প্রতিবাদী কন্ঠ হয়ে উঠেছিলেন তিনি। বিরসা মুন্ডা মৃত্যুর ১১৮ বছর অতিবাহিত হলেও আদিবাসীরা তাদের সাংবিধানিক ও ভূমির অধিকার এখনো পায়নি। এছাড়াও বক্তারা দেশের শিক্ষা পাঠ্য পুস্তকে বিরসা মুন্ডা ও সাওতাঁল বিদ্রোহের ইতিহাস অর্ন্তভুক্ত করার দাবি জানান।