খাগড়াছড়িতে কল্পনা চাকমার অপহরণকারীদের গ্রেফতার ও বিচারের দাবিতে তিন সংগঠনের সমাবেশ

॥ প্রেস বিজ্ঞপ্তি ॥

চিহ্নিত অপহরণকারীকে রক্ষা করতেই সরকার দীর্ঘ ২২ বছরেও কল্পনা চাকমা অপহরণের বিচার করেনি। উপরন্তু এ ঘটনা ধামাচাপা দিতে কল্পনার ভাইদের হয়রানিসহ নানা ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছে।

কল্পনা চাকমা অপহরণের ২২তম বার্ষিকী উপলক্ষে রবিবার (১০ জুন ২০১৮) খাগড়াছড়িতে তিন সংগঠনের আয়োজিত ছাত্র-যুব-নারী সমাবেশে বক্তারা এই অভিযোগ করেন।

“নিরাপত্তাবাহিনীর পৃষ্টপোষকতায় হামলা, মামলা, খুন, অপহরণ ও রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস বন্ধ কর” এই শ্লোগানে কল্পনা চাকমার চিহ্নিত অপহরণকারীদের গ্রেফতার ও বিচারের দাবিতে বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ (পিসিপি), হিল উইমেন্স ফেডারেশন(এইচডব্লিউএফ) ও গণতান্ত্রিক যুব ফোরাম (ডিওয়াইএফ)-এর খাগড়াছড়ি জেলা শাখার উদ্যোগে খাগড়াছড়ি সদরের স্বনির্ভরে এই সমাবেশের আয়োজন করা হয়। সমাবেশে তিন শতাধিক ছাত্র-যুব-নারী অংশগ্রহণ করেন।

সমাবেশের পূর্বে সকাল ১০টায় ইউনাইটেড পিপল্স ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ)-এর কার্যালয়ের সামনে থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি জেলা পরিষদ, নারাঙহিয়া রেড স্কোয়ার, উপজেলা পরিষদ এলাকা হয়ে চেঙ্গী স্কোয়ার প্রদক্ষিণ করে স্বনির্ভর বাজারের শহীদ অমর বিকাশ চাকমার সড়কে এসে প্রতিবাদ সমাবেশ করে।

হিল উইমেন্স ফেডারেশনের খাগড়াছড়ি জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক চৈতালী চাকমার সভাপতিত্বে ও পিসিপি খাগড়াছড়ি জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক অমল ত্রিপুরার সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন গণতান্ত্রিক যুব ফোরামের খাগড়াছড়ি জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক রতন স্মৃতি চাকমা ওপিসিপি খাগড়াছড়ি জেলা শাখার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি তপন চাকমা প্রমুখ।

বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, দীর্ঘ ২২ বছরেও সরকার কল্পনা চাকমা অপহরণের বিচার করেনি। চিহ্নিত অপহরণকারীদের আইনের আওতায় আনা হয়নি। উপরন্তু তদন্তের নামে প্রহসন ও কালক্ষেপনের মাধ্যমে অপরাধীদের রক্ষা করার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে। এমনকি কল্পনা ভাইদেরও ভয়ভীতি প্রদর্শনসহ নানা হয়রানি করা হচ্ছে।

বক্তারা সাম্প্রতিক পরিস্থিতি তুলে ধরে বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে যৌথবাহিনীর অভিযানের নামে সাধারণ জনগণের উপর নির্যাতন-হয়রানি, বাড়ী ঘরে তল্লাশিসহ অন্যায় ধরপাকড় চালানো হচ্ছে। ইউপিডিএফ নেতা-কর্মী-সমর্থক ছাড়াও সাধারণ মানুষকেও অস্ত্র গুঁজে দিয়ে গ্রেফতার করে মিথ্যা ষড়যন্ত্রমূলক মামলা দিয়ে জেলেপুরে রাখা হচ্ছে। অথচ ইউপিডএফ নেতা মিঠুন চাকমাসহ ডজনের অধিক নেতা-কর্মী-সমর্থককে হত্যার সাথে জড়িত নব্য মুখোশ বাহিনী ও সংস্কারপন্থী জেএসএস সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার না করে তাদেরকে লেলিয়ে দিয়ে খুন-গুম-অপহরণসহ নানা অপকর্ম সংঘটিত করছে। প্রকাশ্যে অস্ত্রসহ প্রশাসনের নাকের ডগায় ঘুরে বেড়ালেও প্রশাসন এসব সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে কোন পদক্ষেপ নিচ্ছে না। বক্তারা নিরাপত্তাবাহিনী-প্রশাসনের এই ঘৃণ্য কার্যকলাপের তীব্র নিন্দা জানান।

বক্তারা বলেন, সমতলে মাদক বিরোধী আভিযানের নামে কথিত বন্দুকযুদ্ধের নামে বিনা বিচারে যেভাবে মানুষ হত্যা করা হচ্ছে একই কায়দায় পার্বত্য চট্টগ্রামে নব্য মুখোশ-সংস্কারপন্থী সন্ত্রাসীদের লেলিয়ে দিয়ে ইউপিডিএফ’র নেতা-কর্মী-সমর্থকদের খুন, গুম করা হচ্ছে।

বক্তারা কল্পনা চাকমা অপহরণের বিচার দাবিসহ সরকারের অন্যায় দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে গণপ্রতিরোধ গড়ে তোলার জন্য ছাত্র-যুব-নারী সমাজসহ সর্বস্তরের জনগণের প্রতি আহ্বান জানান।

সমাবেশ থেকে বক্তারা অবিলম্বে কল্পনা চাকমার চিহ্নিত অপহরণকারীসহ রূপন-সমর-সুকেশ-মনতোষদের হত্যাকারীদের গ্রেফতার-বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি; তনু হত্যার বিচার; পার্বত্য চট্টগ্রামসহ সারাদেশে নারী নির্যাতন বন্ধ করা এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে নিরাপত্তাবাহিনী-সেটলার প্রত্যাহার-নতুন নিরাপত্তাবাহিনী ক্যাম্প স্থাপনের প্রক্রিয়া বাতিল, রাষ্ট্রীয় পৃষ্টপোষকতায় সন্ত্রাসী কর্মকান্ড বন্ধসহ ইউপিডিএফ ও তার সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীদের নামে দায়েরকৃত মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারপূর্বক অন্যায় গ্রেফতার-নির্যাতন বন্ধের দাবি জানান।

উল্লেখ্য, ১৯৯৬ সালের ১২ জুন রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার নিউ লাল্যাঘোনার নিজ বাড়ি থেকে অপহৃত হন হিল উইমেন্স ফেডারেশনের তৎকালীন সাংগঠনিক সম্পাদক কল্পনা চাকমা। দীর্ঘ ২২ বছরেও তার কোন খোঁজ পাওয়া যায়নি।