ব্রেকিং নিউজ

বান্দরবানে-রাঙ্গামাটি সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন, ঝুঁকিপুর্ণ বসবাসকারীদের সরে যেতে মাইকিং

॥ নুরুল কবির – বান্দরবান ॥

বান্দরবানে গত কয়েকদিন ধরে টানা বর্ষণে দেখা দিয়েছে বন্যা ও পাহাড় ধসের আশঙ্কা। ইতোমধ্যে বিভিন্ন স্থানে ধসে পড়েছে পাহাড়ের মাটি। এর ফলে বন্ধ রয়েছে জেলা শহরের সাথে বিভিন্ন উপজেলার আন্ত সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা। এদিকে টানা বর্ষনের ফলে সাঙ্গু নদীর পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে অতিবাহিত হওয়ায় বালাঘাটার স্বর্ণ মন্দির এলাকায় পুল পাড়ার বেইলী সেতু পানিতে ডুবে যাওয়ায় বান্দরবানের সাথে রাঙ্গামাটির সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে গেছে। এছাড়াও লামা উপজেলায় বিভিন্ন এলাকা এবং বান্দরবান শহরের বেশ কয়েকটি নি¤œাঞ্চল আর্মিপাড়া, ইসলামপুর, শেরে বাংলা নগর, ওয়াপদাব্রীজ ইতোমধ্যে প্লাবিত হয়েছে। ভারী বর্ষণ অব্যাহত থাকলে বড় ধরনের বন্যার আশঙ্কা রয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

এদিকে অব্যাহত বর্ষণের ফলে পাহাড়ে ঝুকিঁ পূর্ণ বসবাসকারীদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার জন্য প্রশাসন ও পৌরসভার পক্ষ থেকে মাইকিং করা হচ্ছে। তাদের কে স্ব স্ব এলাকার সরকারী বিদ্যালয়ে আশ্রয় নেয়ার জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
এ বিষয়ে বান্দরবান জেলা প্রশাসক আসলাম হোসেন বলেন, টানা বৃষ্টির কারনে বন্যা ও পাহাড় ধসের আশঙ্কা রয়েছে তাই পাহাড়ে ঝুকিঁ পূর্ণ বসবাসকারীদের সরকারী বিদ্যালয় গুলোতে আশ্রয় নেয়ার জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকিং করা হচ্ছে। যে কোন দূর্যোগ মোকাবেলায় আমাদের কাছে পর্যাপ্ত খাদ্য সামগ্রী মজুদ রয়েছে,আশ্রয় কেন্দ্র গুলোও প্রস্তুত রাখা হয়েছে তবে প্রাণহানির ঘটনা এড়াতে আমরা সবচেয়ে বেশী জোড় দিচ্ছি।
দায়িত্বশীল সুত্রগুলো বলছেন,বান্দরবান জেলার ৭টি উপজেলরায় প্রায় ১৫ হাজার পরিবার,রাংগামাটি জেলার ১০টি উপজেলায় প্রায় ৩০হাজার পরিবার এবং খাগড়াছড়ি জেলার ৯টি উপজেলায় প্রায় ২৫ হাজার পরিবারের বসতি রয়েছে উঁচু-নিচু পাহাড় ও পাহাড়ের পাদদেশেই। এসব পরিবার যুগ-যুগ ধরেই বসবাস করলেও জেলা ও উপজেলা প্রশাসন বর্ষায় কেবল মাইকিং করে কথিত নিরাপদস্থানে সরিয়ে যাবার নির্দেশ প্রদান করা ছাড়া বাস্তবমুখি কোন পদক্ষেপই গ্রহণ করেনি
পার্বত্য তিন জেলায় দেশি-বিদেশি দাতা সংস্থাগুলোর উদ্যোগে অঢেল অর্থ ব্যয় দেখানো হয় ফি বছরই কথিত উন্নয়ন ও প্রশিক্ষণ-ট্রশিক্ষণসহ উদ্বুদ্ধকরণ কাজে। যেখানে মাথাগোঁজার ঠাইটুকুও নেই কিংবা সুযোগ বঞ্চিত সাধারণ মানুষ সেখানে আবার কথিত উন্নয়ন নিয়ে মহা ভাবনায় মেতে থাকেন পাহাড়ের জনপ্রতিনিধি ও সমাজনেতারা, ইহা খুবই দুঃখজনক এবং লজ্জাস্করও বটে- এসব মন্তব্য ভুমি অধিকার বঞ্চিত ও পার্বত্য চট্টগ্রামে বিরাজমান বিভিন্ন চুক্তি, ইস্যু ও স্থানীয় রাজনীতিকদের চাপিয়ে দেয়া ক্ষমতার দখল।
শহরের ৯নং ওয়াডের ইসলামপুর এলাকার বাসিন্দা বিবি মরিয়ম ও কামাল হোসেন বলেন, মৃত্যুর মুখে থাকতে হয়-এমনটা জেনেই তারা স্বজনদের কাছ থেকে ১ বা ২ গন্ডা পাহাড়ি জমি নিয়ে এর ওপর কোন মতে ঘর নির্মাণ করে বসবাস করছেন যুগ-যুগকাল।
৬নং বনরুপা এলাকার বাসিন্দা জরিনা বেগম ও খাতিজা বেগম বলেন,এক আত্মীয়ের দেয়া একখন্ড পাহাড়ি ভুমিতেই ঘর নির্মাণ করে তথায় বাস করছেন তারা। ইউনিয়ন,উপজেলা বা পৌরসভা ভিত্তিক পাহাড়ে ঝূঁকিপূর্ণভাবে বসবাসরত পরিবারগুলোকে নিরাপদস্থানে পুনর্বাসন করার কোন সরকারি পদক্ষেপও গ্রহণ করা হয়নি এখনও। ফলে প্রতিবছর বর্ষায় তিন পার্বত্য জেলায় কমপক্ষে শতাধিক মানুষের অকালে মৃত্যু ঘটে। এদিকে সদর উপজেলার কাসেমপাড়া, ইসলামপুর, বনরূপা পাড়া, হাফেজঘোনা, বাসস্টেশন এলাকা, স্টেডিয়াম এলাকা, নোয়াপাড়া, কসাইপাড়াসহ লামা আলীকদম,নাইক্ষংছড়ি,রোয়াংছড়ি,থানছিও রুমা উপজেলা প্রায় ১৫ হাজারের বেশি পরিবার রয়েছে।