টানা বর্ষণে বাঘাইছড়িতে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত, দূর্ভোগে হাজারো মানুষ, খোলা হয়েছে আশ্রয় কেন্দ্র

|| মো: ওমর ফরুক সুমন ||

টানা বর্ষণের ফলে পাহাড়ী ঢলে রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার বেশ কয়েকটি গ্রাম পানিতে তলিয়ে গেছে, পানি বন্ধি হয়ে পড়েছে হাজারো মানুষ। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে খোলা হয়েছে আশ্রয়কেন্দ্র, এরই মধ্যে শতাধিক পরিবার আশ্রয়কেন্দ্রে আসতে শুরু করেছে। তাদের জন্য শুকনো খাবার ও বিশুদ্ধ পানির ব্যাস্থা করা হয়েছে। বিড়ম্ভণায় পড়তে হচ্ছে বৃদ্ধ, ছোট শিশু, গবাদি পশু, হাস মুরগি নিয়ে।

এদিকে ভারী বৃষ্টি পাত এবং পানিবৃদ্ধির ফলে রাস্তা বন্ধ হওয়ায় একেবারে নাজেহাল অবস্থায় পোহাতে হচ্ছে বাঘাইছড়ি উপজেলার লোকজন কে।

এ ব্যাপারে বাঘাইছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: নাদীম সারওয়ারের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, বন্যা কবলিত লোকজনদের উদ্ধারের জন্য নৌকা ও বোটের ব্যাবস্থা করাসহ উপজেলার সবকটি প্রথমিক বিদ্যালয়কে আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। আশ্রয় গ্রহণ করা লোকজনের জন্য শুকনো খাবার এবং বিশুদ্ধ পানির ব্যাবস্থা করা সহ জনপ্রতিনিধিদের দেখবালের নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে।

এছাড়া বিভিন্ন জনপ্রতিনিধি, সেচ্ছাসেবী সংঘঠনের লোকজনোও উদ্ধার কাজে অংশ নিয়েছেন।

সরজমিনে গিয়ে দেখা যায় বাঘাইছড়ি পৌরসভার ১ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো: হোসেন নিজ দায়িত্বে ইঞ্জিন চালিত বড় বোট যোগে লোকজনকে নিরাপদে আশ্রয়কেন্দ্রে পৌছে দিচ্ছেন, কাউন্সিলর মো: হোসেন বলেন আমি গত কাল মধ্যরাত থেকে পানিতে আছি বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কয়েকশত মানুষ উদ্ধার করেছি, এখনো পানি বেড়েই চলেছে জানিনা কি হবে। এছাড়াও উপজেলার প্রায় ৮/১০ টি গ্রামের কয়েকশত বাড়িঘড়, রাস্তাঘাট, শত হাজার একর ফসলি জমি পানিতে তলিয়ে গেছে।

গ্রামগুলো হলো, ১- মধ্যম পাড়া,২- মাষ্টার পাড়া ৩- পশ্চিম মুসলিম ব্লক ৪- জীবঙ্গ ছড়া ৫- উগল ছড়ি ৬- বাঘাইছড়ি (এফব্লক) ৭- হাজী পাড়া ৮- আমতলি।
অনেক বিদ্যালয় মাদ্রাসা ও পানিতে তলিয়ে গেছে।

ক্রমাগত বৃষ্টির ফলে পানি বেড়েই চলেছে, বন্যা পরিশ্রিতির মারাত্মক অবনতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, নদীর পানি বিপদ সিমার উপড়দিয়ে প্রভাহিত হচ্ছে।

এদিকে বৃষ্টি উপেক্ষা করে জনগনের জানমালের নিরাপত্তার সার্থে বাঘাইছড়ি থানা পুলিশের পক্ষ থেকে টহলের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ভারী বৃষ্টপাতের ফলে বন্যা দুর্গত লোকজন আশ্রয়কেন্দ্রে আসতেও হীমশিম খাচ্ছে।