পাবনায় ছাত্রদলের কমিটি বাতিল এবং যোগ্য ও মেধাবীদের নিয়ে নতুন কমিটির দাবিতে বিভিন্ন ইউনিটের নেতৃবৃন্দের পদত্যাগ

॥ পাবনা প্রতিনিধি ॥

গত ১৩ জুন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কেন্দ্রীয় কমিটি পাবনা জেলা শাখার ৬ সদস্যের কমিটির অনুমোদন দেয়। নতুন ঘোষিত কমিটিতে ত্যাগী নেতাদের মূল্যায়ন না করার কারণে ৬ সদস্যের কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি কমল শেখ টিটু, যুগ্ম সম্পাদক মাহমুদুল হাসান সরকার ও রেজওয়ান হোসেন হৃদয় পদত্যাগ করেন।
গতকাল বৃহস্পতিবার আন্দোলন সংগ্রামে অংশগ্রহণকারী ও ত্যাগী নেতাদের মূল্যায়ন না করার কারণে পাবনা জেলা ছাত্রদলের বিভিন্ন ইউনিটের আরও ৯জন নেতৃবৃন্দ পদত্যাগ করেছেন।

পদত্যাগীরা হলেন পাবনা পৌর ছাত্রদলের সভাপতি মাহমুদুল হাসান সরকার, সাধারণ সম্পাদক রেজওয়ান হোসেন হৃদয়, যুগ্ম সম্পাদক ওয়াহিদুজ্জামান সুমন, সদর উপজেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ রানা, যুগ্ম সম্পাদক সাজ্জাতুল ইসলাম খান নাদিম, পাবনা পলিটেকনিক্যাল ইনস্টিটিউট শাখা ছাত্রদলের সভাপতি তরিকুল ইসলাম শিপন, সাধারণ সম্পাদক এ.কে.এম. ইমরান মানিক, সরকারি শহীদ বুলবুল কলেজ শাখার সাধারণ সম্পাদক গিয়াস উদ্দিন, যুগ্ম সম্পাদক মো. রানা হোসেন।
এছাড়াও নবকমিটির প্রতি অনাস্থা প্রকাশ করেছেন সরকারি এডওয়ার্ড কলেজ শাখা ছাত্রদলের সিনিয়র সহসভাপতি আরিফুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক ইফতেহাদুল হাসান সাগর, সাংগঠনিক সম্পাদক জহুরুল ইসলাম বণি, যুগ্ম সম্পাদক রুমন আক্তার।
পদত্যাগকারী সদর উপজেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ রানা বলেন, ত্যাগী নেতা-কর্মীদের বাদ দিয়ে অনভিজ্ঞদের দিয়ে নতুন কমিটির অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এ থেকে সৃষ্ট ক্ষোভের কারণে তারা পদত্যাগ করেছেন। বর্তমান কমিটি বিলুপ্ত করে নতুন কমিটি ঘোষণা না করা পর্যন্ত তারা তাদের আন্দোলন চলবে।

পদত্যাগ করা নেতাদের অভিযোগ, উক্ত কমিটি কোন সম্মেলন ও নির্বাচন ছাড়াই ঘোষণা করা হয়। ‘নতুন কমিটিতে রাজপথের অকুতোভয় সৈনিক ও ত্যাগী নেতাদের মূল্যায়ন করা হয়নি। যারা দীর্ঘ দিন ধরে আন্দোলনে সংগ্রামে অংশ নিয়ে, জেল জুলুম গ্রেপ্তার নির্যাতন সহ্য করে এবং দলের কর্মকান্ডে সক্রিয়ভাবে অংশ নেওয়া অনেক নেতাকর্মীকে যথাযথ মূল্যায়ন করা হয়নি।’
‘যারা রাজপথে ভারসাম্যহীন, অযোগ্য তাদের নিয়ে এ কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে’ বলেও দাবি করেন এইসব নেতারা।
পদত্যাগ করা নেতারা অবিলম্বে এ কমিটিকে বাতিল ঘোষণা করে ত্যাগী, শিক্ষিত ও যোগ্যদের নিয়ে কমিটি গঠনের আহ্বান জানান।
তারা আরও বলেন, এই কমিটি বাতিল করা না হলে জেলার বিভিন্ন ইউনিটের নেতৃবৃন্দ একযোগে পদত্যাগ করবেন এবং আগামীতে আরও কঠোর কর্মসূুচি দেবেন।