ব্রেকিং নিউজ

কাপ্তাইয়ে দিনের বেলায় জ্ঞানের অালো, রাতে মাদকের অাখড়াঃ সরঞ্জামাদি সহ অাটক ১

॥ নূর হোসেন মামুন – কাপ্তাই ॥

রাঙামাটি জেলার কাপ্তাই উপজেলার চন্দ্রঘোনা ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী বি.এম সরকারি প্রাথমিক উচ্চ বিদ্যালয়ে দিনের বেলায় পাঠদানের মাধ্যমে সমগ্র এলাকায় ছড়ানো হচ্ছে জ্ঞানের অালো। অার সূর্য ডুবার সাথে সাথে বিদ্যালয়টিতে বসে মাদকের অাখড়া। ফলে জ্ঞানের অালোর মতোই বিদ্যালয়টিতে সন্ধ্যার পর থেকে ছড়িয়ে পড়ে মাদকের অালো। বিক্রয় ও সেবন করা হয় ইয়াবা। কখনো মদ অাবার কখনো গাঁজা। মৌঁমাছি যেভাবে মধু সংগ্রহ করতে ছুঁটে অাসে মাদক সেবীরাও মাদক সেবনের জন্য প্রতিদিন সন্ধ্যার পর থেকে ভির জমায় ঐতিহ্যবাহী এই স্কুলটিতে। শুধু মাদক নয় গত ১বছর যাবত ব্যাপক অসামাজিক কাজে ব্যবহৃত হয়ে অাসছিল বিদ্যালয়টির দুটি কক্ষ। ক্রমন্নয়ে সংশ্লিষ্টদের চোখ ফাকি দিয়ে গড়ে উঠেছে পতিতালয় হিসেবে। কিন্তু কৌশলে এই কর্মকান্ডের তথ্য এতদিন গোপন ছিল।

অাজ শুক্রবার মধ্য রাতে ভ্রাম্যমান অাদালতের অভিযানে উঠে এসেছে এমন তথ্য। ঘটনাস্থলে অাটক হয়েছে উক্ত বিদ্যালয়টির নৈশ প্রহরী সফিকুল ইসলামকে (২৫)। ঘটনাস্থল হতে উদ্ধার করা হয়েছে বিপুল পরিমানে ইয়াবা, ইয়াবা সেবনের সরঞ্জামাদি, যৌন উত্তেজক ঔষধ এবং কনডম। পরে রাতেই তাকে ভ্রাম্যমান অাদালতে ৬মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ড প্রদান করা হয়েছে।

ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন, কাপ্তাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিট্রেট রুহুল আমিন। এসময় উপস্থিত ছিলেন, চন্দ্রঘোনা থানা অফিসার ইনচার্জ মাহমুদুল হাই।

ভ্রাম্যমান অাদালত শেষ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিট্রেট রুহুল অামিন বলেন, প্রাক প্রাথমিকের শ্রেণীকক্ষে ইয়াবা সেবন ও বিক্রি চলছিল। আরেকটি কক্ষ রাতে অসামাজিক কাজের জন্য ব্যবহার করা হচ্ছিল। এসময় শ্রেণীকক্ষ থেকে কয়েকটি ইয়াবা, ইয়াবা সেবনের জিনিসপত্র, যৌন উত্তেজক ঔষধ এবং কনডম উদ্ধার করা হয়। শুরুতে স্কুলের নৈশ প্রহরী সফিকুল ইসলামকে আটক করা হয়। পরে তাকে ৬মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ড প্রদান করা হয়। অাজ সকালে (শুক্রবার) তাকে রাঙামাটি অাদালতে প্রেরণ করা হবে বলেও জানান তিনি।

তিনি অারও বলেন, ভ্রাম্যমাণ আদালতের কাছে সফিক জানিয়েছেন এক বছর ধরে তিনি ইয়াবা সেবন করছেন এবং রাতে অন্যান্য ইয়াবা সেবনকারীদের তিনি স্কুলে জায়গা করে দেন। স্কুল কমিটির সভাপতি তাকে এসব করতে বাধ্য করেন বলেও সফিক জানান। স্কুল ভবনে এসব অপকর্ম প্রধান শিক্ষকের অজান্তেই হচ্ছিল বলে জানিয়েছেন তিনি।

এদিকে স্কুল পরিচালনা কমিটির সভাপতিকে সজিব বড়ুয়াকে বারবার ফোন করেও সংযোগ পাওয়া সম্ভব হয়নি।