বাঘাইছড়ি পৌরসভার বেহাল দশা, বারবার অভিযোগ করেও মিলছে না সুফল

॥ ওমর ফারুক সুমন ॥

রাঙ্গামাটি জেলার দ্বিতীয় পৌরসভা বাঘাইছড়ি পৌরসভা, নাগরিক সুবিধার লেশ মাত্র নেই এখানে, ময়লা আবর্জনায় ভরপুর চারপাশ, নেই কোন রোড লাইট, বিজলি বাতি, পাবলিক টয়লেট। রাস্তাঘাটের বেহালদশা জনদূর্ভোগ চরমে কর্তৃপক্ষের উদাসীন মনোভাবের ফলে দিন দিন অবস্থার অবনতি হচ্ছে। রাস্তাঘাটসহ অবকাঠামো কিছু উন্নয়ন হলেও প্রাপ্তির চেয়ে অপ্রাপ্তিটাই বেশী।

ভুক্তভূগী পৌরবাসীর অভিযোগের ফলে ২৩ জুন শনিবার সরজমিনে পরিদর্শন করে দেখা যায় নিয়মিতভাবে ময়লা আবর্জনা পরিষ্কার না করে জমিয়ে রাখার ফলে বৃষ্টির পানিতে ভিজে পচে মারাত্মক দূর্গন্ধ বের হচ্ছে, অবস্থা এমন পরর্যায়ে ঠেকেছে যে মূখে রুমাল চেপে হাটতে হচ্ছে। ভূক্তভুগী এক ব্যাবসায়ী নাম প্রকাশ না করার সার্থে বলেন কি আর বলবো আনারা একটু ঘুরে দেখেন চৌওমুহনী পাবলিক টয়লেট এবং আশপাশের অবস্থা আমরা এখানে কিভাবে টিকে আছি, পৌরকর্তৃপক্ষকে বারবার বলার পরেও কোন কাজ হয়নি, মেয়র নিজেও দেখেন কিন্তুু কোন ব্যাবস্থাই নেয়া হচ্ছেনা, আমরা খুব অসহায় অবস্থায় আছি পারলে কিছু একটা করেন ভাই। আমারা নিয়মিতভাবে পৌরকর পরিশোধ করি কিন্তু কোন প্রকার সুবিধে পাইনা।

ব্যবসায়ীর অভিযোগের পর আশপাশের এলাকাটি সরেজমিনে ঘুরে দেখতে গিয়ে চোখে পড়ে এক দূর্বিষহ দৃশ্য চৌমুহনী বাজার থেকে মারিশ্যা বিজিবি রিভারঘাট বিওপি ক্যাম্প ও বিদ্যুত অফিস  সড়কের দুইপাশে  ময়লার বিশাল স্তুুপ,  দেখে যে কেউ মনে করবে এটি একটি ময়লার বড়সড় ডাস্টবিন, পচা দূর্গন্ধে পেট ফুলে যাওয়ার অবস্থা এর পাশেই দাড়িয়ে দুই ব্যাক্তির মূত্রত্যাগের দৃশ্য চোখে পড়লো, অথচ এই সড়কটি  একটি জনবহুল  খুবই গুরুত্বপূর্ণ সড়ক এই সড়ক ব্যাবহার করে নিয়মিত শতশত লোক এবং বিজিবি সদস্যগণ চলাচল করেন। একটু পরেই চোখে পড়লো আরো একটি দুঃখ জনক দৃশ্য বিজিবি ক্যাম্পে কর্মরত বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার পাঁচ জন সদস্য এবং উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সসম্পাদক মো: ইসতিয়াক আহম্মদসহ  একটি দল মূখে হাত দিয়ে নাক মুখ চেপে ধরে ক্যাম্প থেকে বের হচ্ছে।

এগিয়ে গিয়ে কারণ জানতে চাইলে সবাই ইশারায়  ময়লার স্তুুপ দেখিয়ে চলে যায়, পরে একজন সিনিয়র গোয়েন্দা সংস্থার লোকের সাথে এব্যাপারে কথাবলে জানা যায় রাস্তার উপড় ময়লা আবর্জনা অপসারণে পৌরকর্তৃপক্ষকে বহুবার বলেও তারা প্রতিকার পায়নি তারা সর্বশেষ স্থানীয় পৌর কাউন্সিলর মো: নুর আলম কে ডেকে ময়লা পরিষ্কারের কথা বলা হলেও কোন কাজ হয়নি বলে জানান এই গোয়েন্দা কর্মকর্তা। মিলেছে শুধুই প্রতিশ্রুতি।
অবস্থা এমন পর্যায়ে ঠেকেছে কিছুদিন পর রাস্তাই খুঁজে পাওয়া যাবেনা।

এছাড়াও চৌমুহনী বাজার, উপজেলা সদর মসজিদ মার্কেট, বাঘাইছড়ি জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল এলাকা সহ আশপাশের এলাকা ঘুরে একই অবস্থা চোখে পড়েছে, জনমনে চরম ক্ষোভ লক্ষ করা গেছে। দীর্ঘদিনের জমানো ময়লা বৃষ্টির পানিতে ভিজে পচে দূর্গন্ধ বেরহচ্ছে অতি সহসায় এসব ময়লা পরিষ্কার করা নাহলে নানাবিধ রোগব্যাধি ছড়িয়ে পরার আশংকা প্রকাশ করেছে অত্র এলাকার সচেতন জনসাধারণ।  ভুক্তভোগী এক ব্যবসায়ী বলেন পৌরসভায় ময়লা ফেলার জন্য বর্তমান সরকার একটি ছোট ট্রাকও দিয়েছে কিন্তুু ট্রাকটি ময়লা ফেলার কাজে ব্যাবহার না করে টাকার বিনিময়ে চুক্তিপত্রে ভাড়া দেয়া হয়েছে।

চৌমুহনী বাজারের ঔষধ ব্যবসায়ী নেতা বাবু সুজিৎ চক্রবর্তী জানান বাজার ও আশপাশের এলাকা নিয়মিতভাবে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য বিগত তিনমাস পূর্বে মেয়র কে আমরা লিখিতভাবে আবেদন করেছি কিন্তুু কোন সুফল পাইনি,  আমরা নিজেরা বেতন দিয়ে একজন লোক নিয়োগ করেছি দোকানঘাট পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য তা দিয়েই চলছে কোনরকম।  বিজিবির রাস্তার পার্শ্বে ময়লার স্তুপ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন মেয়রকে আমরা লিখিত ভাবে জানিয়েছি উনি আমাদের কাছ লোকজন সহযোগীতা চেয়েছে, এতগুলো ময়লা ব্যবসায়ী লোকদিয়ে পরিষ্কার করা সম্ভব নয় আমাদের আর্থিক সংকট রয়েছে বলে তিনি জানান।

ভূক্তভুগী জনসাধারণের অভিযোগের বিষয়ে বাঘাইছড়ি পৌরসভার মেয়র জাফর আলী খান বলেন পৌরসভায় জনবল সংকট রয়েছে তাই যথাসময়ে ময়লা আবর্জনা পরিষ্কার করা সম্ভব হয়না, আমরা চেষ্টা করছি চুক্তি ভিত্তিক লোক নিয়োগ দেয়ার,  আশা করছি খুব শীঘ্রই সমস্যার সমাধান করতে পারবো,  পাবলিক টয়লেটের কাজও হাতে নিয়েছে বলেও জানান মেয়র।