মধ্যরাতে কর্ণফূলী কলেজ থেকে ২ পতিতাসহ যুবক আটক

॥ নিজস্ব প্রতিবেদক ॥

কর্ণফূলী কলেজের ভবন নির্মাণ কাজ বাস্তবায়নের নিয়োজিত খাগড়াছড়ির ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এস অনন্ত বিকাশ ত্রিপুরা কর্তৃক নিয়োজিত শেখ ফরিদ নামে এক যুবককে দুই পতিতাসহ আটক করেছে ভ্রাম্যমান আদালত। শনিবার দিবাগত মধ্যরাতে রাতে যখন সকলেই বিশ্বকাপ খেলা নিয়ে ব্যস্ত ঠিক সেই সময়েই ঐতিহ্যবাহি এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ডরমেটরির একটি রুমে দুই পতিতাকে নিয়ে উম্মত্ত্ব খেলায় মেতে উঠে শেখ ফরিদ।

কিন্তু বেরসিক প্রতিবেশির চোখে এই অসামাজিক কাজ ধরা পড়ায় অবশেষে রাতের দুই সঙ্গীনিকে সাথে নিয়েই উক্ত শেখ ফরিদকে আটক করে হাজতবাসে পাঠান কাপ্তাই উপজেলার নির্বাহী অফিসার ও ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনাকারি নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট রুহুল আমিন। এসময় কাপ্তাই থানা অফিসার ইনচার্জ সৈয়দ মোহাম্মদ নূর সহ আরও অনেকেই উপস্থিত ছিলেন।

আমাদের কাপ্তাই প্রতিনিধি নুর হোসেন মামুন জানিয়েছেন, কাপ্তাই উপজেলার ঐতিহ্যবাহী কর্ণফুলী ডিগ্রী কলেজের ডরমিটরিতে অসামাজিক কাজ করার সময় রবিবার মধ্যরাতে (১টা ৪৫মিনিট) দুই পতিতাসহ উলঙ্গ অবস্থায় উক্ত যুবককে আটক করেছে ভ্রাম্যমান আদালত। এসময় নিজের দোষ প্রকাশ্যে স্বীকার করায় আটককৃক যুবক শেখ ফরিদকে (২৬) তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ড এবং দেহপসারিনি মনি (১৭) ও রূপাকে (২৫) এক মাস করে বিনাশ্রম কারাদন্ডাদেশ প্রদান করেন ভ্রাম্যমান আদালত।

থানা সুত্রে জানা যায়, আটক হওয়া নির্মাণ শ্রমিক মো. শেখ ফরিদ কর্ণফুলী কলেজ সংলগ্ন আব্দুল মান্নানের পুত্র। সে কর্ণফুলী কলেজের নির্মাণ কাজে নিয়োজিত রয়েছে। ঈদ উপলক্ষে তার সহকর্মীরা বাড়িতে গেলে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান এস অনন্ত বিকাশ ত্রিপুরা কর্তৃক সাইডের কাজ দেখাশুনা করতে তাকে দায়িত্বে নিয়োজিত রাখা হয়েছিলো।

এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে খাগড়াছড়ি থেকে টাকার বিনিময়ে খাগড়াছড়ির নবিনগরের মো. আব্দুর রাজ্জাকের মেয়ে মনি (১৭) ও একই এলাকার শুভ দাসের কন্যা রূপা (২৫)কে ভাড়ায় এনে উক্ত ডরমেটরিতে অসামাজিক কাজে লিপ্ত হয়। এসময় স্থানীয়রা বিষয়টি টের পেয়ে উপজেলা প্রশাসনকে জানায়। স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতেই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করে ঘটনার সত্যতা পেয়ে উক্ত তিনজনকেই উলঙ্গ অবস্থায় হাতেনাতে আটক করেন।

কাপ্তাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিট্রেট রুহুল আমিন জানান, কর্ণফুলী কলেজের ডরমেটরিতে মধ্যরাতে অসামাজিক কাজে লিপ্ত থাকার অপরাধে তাদের আটক করে শেখ ফরিদকে ৩ মাসের জেল ও দুই পতিতাকে ১মাস করে জেল দেওয়া হয়েছে। তাদের আজ রবিবার সকালে রাঙামাটি আদালতে প্রেরণ করা হবে। এই ঘটনায় কলেজের নৈশ প্রহরীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় আনা হয়েছে। ডরমেটরিতে তালা লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে।

এদিকে, কর্ণফুলী ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ এ.এইচ.এম বেলাল চৌধুরী বলেন, কলেজের নির্মাণ কাজের সহযোগিতার জন্য কলেজের একটি অপ্রয়োজনীয় কক্ষ ভাড়া চায় কলেজের নির্মাণ কাজের ঠিকাদার এস অনন্ত বিকাশ ত্রিপুরা। তাকে কাজের সহযোগীতার জন্য কলেজ কর্তৃপক্ষ ডরমেটরিটি ভাড়া দেয়। ঈদের ছুটিতে সকলে বাড়িতে যাওয়ায় হয়তো এই সুযোগটি কাজে লাগিয়ে অসামাজিক কাজে লিপ্ত হয়েছে সে।

এস অনন্ত বিকাশ ত্রিপুরা  নামে এই ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্সটির মাধ্যমে রাঙামাটির বেশ কিছু প্রতিষ্ঠানের কাজ চলছে উল্লেখ করে একটি বিশ্বস্থ সূত্র জানিয়েছে, লাইসেন্সধারী মূল মালিকপক্ষ বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তাদের লাইসেন্সটি ভাড়ায় দেন। একশ্রেণীর ঠিকাদার সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে উপজাতীয় কৌটায় কাজ করে অধিকহারে মুফানা অর্জনের লোভে নির্দিষ্ট্য পার্সেন্টের চুক্তিতে এস অনন্ত বিকাশ ত্রিপুরার নামে টেন্ডারে অংশগ্রহণ করে। সম্প্রতি রাঙামাটিতে উক্ত লাইসেন্সের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা বেশ কয়েকটি কাজে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যেই তদন্ত শুরু হয়েছে।