রাঙামাটিতে ভূয়া এক্সপার্ট দিয়ে চলছে ডায়াগনষ্টিক সেন্টারগুলো : ২টিতে তালা দিলো মোবাইল কোর্ট

॥ আলমগীর মানিক ॥

অনগ্রসর ও দূর্গমতার সুযোগকে কাজে লাগিয়ে পাহাড়ের বিভিন্ন স্থানে প্রতিদিনই ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে উঠছে বেসরকারি চিকিৎসাকেন্দ্র ও ডায়াগনষ্টিক সেন্টার। রোগ নির্ণয়ে অত্যাধুনিক পরীক্ষাগার রয়েছে এবং অত্যন্ত স্বল্পমূল্যে সর্বাধুনিক প্রযুক্তির কথা চাউর করে প্রচার ও সর্বাধিক সুযোগ-সুবিধার নিশ্চয়তা দিয়ে গড়ে উঠা এই সকল ডায়াগনষ্টিক সেন্টারগুলোতে প্রায় প্রতিদিনই অপচিকিৎসার শিকার হচ্ছে হাজারো রোগী।

পার্বত্য জেলা রাঙামাটির বিভিন্ন এলাকায় নামে-বেনামে গড়ে উঠা এই সকল ডায়াগনষ্টিক সেন্টারগুলোর মধ্যে অধিকাংশগুলোতেই নেই কোনো নির্দিষ্ট্য যোগ্যতা সম্পন্ন প্যাথলজিষ্ট। এছাড়াও একই ব্যক্তি রক্ত সংগ্রহ করে সে নিজেই আবার সেগুলো পরীক্ষা করছে। তিনিই আবার সেই পরীক্ষা রিপোর্টগুলোর অপর পৃষ্ঠায় দিয়ে দিচ্ছেন ঔষধের প্রেসক্রিপশন। এমতাবস্থায় হ-য-ব-র-ল সিষ্টেমের মাঝে চলছে পাহাড়ের বেসরকারি স্বাস্থ্য সেবা।

রোববার দুপুরে জেলার কাপ্তাই উপজেলা সদরে পরিচালিত এক অভিযানেও এমনই চিত্র উঠে আসে। উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তার নেতৃত্বে পরিচালিত এই ভ্রাম্যমান অভিযানে দুইটি ডায়াগনষ্টিক সেন্টারকে বন্ধ ঘোষনা করার পাশাপাশি আরেকটিকে আর্থিক দন্ডে দন্ডিত করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনকারী ইউএনও মোঃ রুহুল আমিন।

তিনি বলেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয় কর্তৃক কোন লাইসেন্স না থাকায় কাপ্তাই ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও মেডিকম ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে সিলগালা করা হয়েছে। বেসরকারি মেডিকেল প্রাকটিস ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার স্থাপন অধ্যাদেশ ১৯৮২ এবং ড্রাগ এ্যাক্ট ১৯৪০ এ অপরাধ সংঘঠিত হওয়ায় এই রায় দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। অভিযানের সময় অন্যান্য ডায়াগনষ্টিক সেন্টারগুলো তালা মেরে মালিক পক্ষ সটকে পড়ে।

জনাব রুহুল আমিন এই প্রতিবেদককে জানান, ডায়াগনষ্টিক সেন্টার পরিচালনার ক্ষেত্রে স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয় কর্তৃক লাইসেন্স থাকার কথা থাকলেও কাপ্তাইয়ের অধিকাংশ ডায়াগনষ্টিক সেন্টারে নেই কোন লাইসেন্স। ছয় ফিট বাই আট ফিট কিংবা তার চেয়ে বেশি এমন একটা কক্ষ নিয়ে দিনের পন দিন চলছে ডায়াগনস্টিক সেন্টারের রোগ নির্ণয়।

জনবল সব মিলিয়ে একজন। যিনি টেস্ট করেন তিনিই সব। আর কেউ নাই। নেই রিপোর্ট কনস্যালট্যান্ট এর স্বাক্ষর। অবাক করার ব্যাপার হলো এই রিপোর্ট দেখিয়েই কেউ কেউ ঔষধ কিনছেন ফার্মেসী থেকে, ফার্মেসী ওয়ালারাও সমানে বিক্রি করছেন ঔষুধ। রিপোর্টের উল্টা পিঠে আবার প্রেসক্রিপশন দেয়া আছে। এই প্রেসক্রিপশন কে লিখেছেন তার নাম-ঠিকানা কিছুই উল্লেখ নাই।

এরআগেও রাঙামাটি শহরে জেলা প্রশাসনের একজন নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট এর নেতৃত্বে শহরে স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিততে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়েছিলো। এসময় শহরের বনরূপায় বেশ কয়েকটি বেসরকারি ডায়াগনষ্টিক সেন্টারে গিয়ে পাশ করা অভিজ্ঞ প্যাথলজিষ্টের দেখা পায়নি মোবাইল কোর্ট কর্তৃপক্ষ।

এছাড়াও জীবন রক্ষাকারী ঔষধ সংরক্ষণকারি ফ্রীজে ঔষধের পাশাপাশি রাখা হয়েছে নানা ধরনের মাছ-মাংস। এ জন্যে জরিমানাও করা হয়েছিলো সেসময়। এরই মধ্যে ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে উঠা এসব ডায়াগণষ্টিক সেন্টারগুলোতে ডাক্তারদের সই সংগ্রহ করে রাখা প্যাডে রিপোর্ট দেওয়ারও অভিযোগও রয়েছে স্থানীয়দের। রোগিদের গলা কেটে পয়সা আদায় করা এসকল ডায়াগনষ্টিক সেন্টারগুলোতে প্রশাসনের নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি নাগরিকদের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবিও জানিয়েছে সচেতন মহল।