ব্যবসায়ী গৌতম সাহার মৃত্যু নিয়ে নানা প্রশ্ন হামলার কারণেই কি তার মৃত্যু ঘটেছে ?

॥ ঝিনাইদহ প্রতিনিধি ॥

ঝিনাইদহের শৈলকুপার ঐতহ্যিবাহী বইঘর প্রতিষ্ঠানের মালিক গৌতম কুমার সাহার মৃত্যু নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তার উপর অব্যহত মানুষকি নির্যাতন ও সবশেষে শারিরীক ভাবে হামলা চালানোর কারণেই অবশেষে মৃত্যু ঘটেছে বলে মনে করছে পরিবার ও ব্যবসায়ী সহ বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ। সরেজমিনে ও ব্যবসায়ীদের সূত্রে জানা গেছে, এক সময়য়কার বইঘর প্রতিষ্ঠান ও বিশিষ্ঠ পত্রিকা ব্যবসায়ী গৌতম কুমার সাহা সাম্প্রতিক সময়ে শৈলকুপার চৌরাস্তা মোড়ে স্কুল মার্কেটে একটি দোকান ভাড়া নিয়ে স্টেশনারী ব্যবসা চালিয়ে আসছিলেন। কিন্তু তার সামনের দোকানের রেডিও-টিভি মেকানিক মালিক বরুণ কুমার শর্মার সাথে প্রায়শ^ই কথাকাটাকাটি চলত, বরুণ কুমার তাকে নানা মানহানিকর কথাবার্তা বলত। ঘরের সামনে সাইকেল রাখা নিয়ে হাতাহাতিও হয়েছে কয়েকদফা। সর্বশেষ গত মাসের ২৬ তারিখে গৌতম কুমার তার দোকানের সামনে সাইকেল রেখে দোকান ঘর খোলার সময় সাইকেল রাখার দায়ে বরুণ কুমার তাকে বকাবাজি শুরু করে। গৌতম প্রতিবাদ করলে এক পর্যয়ে ব্যবসায়ী গৌতম কে কিল, ঘুষি, চড়-থাপ্পড় মারে বরুণ কুমার। এতে গৌতমের নাক ফেটে যায় ও রক্ত ঝরতে থাকে। তাকে দ্রুত প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে হাসপাতালে পাঠানো হয়। পুলিশ অবশ্য ঘটনার পর বরুণ কুমারের ছেলে বিপ্লব কে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। বিপ্লবের বিরুদ্ধেও নানা অভিযোগ রয়েছে। সে সময় প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া পাশ^বর্তী ঘরের ডাক্তার মহিউদ্দিন জানান, তার নাকে আঘাত লাগায় রক্তক্ষরন হয়েছিল, তিনি অসুস্থ বোধ করছিলেন। এঘটনা সম্পর্কে সেখানকার অন্যান্য ব্যবসায়ীরা জানায়, প্রবীণ ব্যবসায়ী গৌতম কে মেরে মাটিতে ফেলে দেয়া হয়েছিল, তিনি অজ্ঞান হবার উপক্রম হয়েছিলেন। হাসপাতালে চিকিৎসা নেয়ার পর গৌতম আর তেমন দোকানে আসত না, মানষিক ভাবে মান-অপমান ও শারিরীক নির্যাতনে তিনি ভেঙ্গে পড়েছিলেন। ন্যায় বিচার বঞ্চিত গৌতম বিষয়টি তেমন কাউকে এমনকি পরিবারকেও বলেনি। এক পর্যায়ে সে স্ট্রোক করে, এরপর ১৩ জুলাই তারিখে ব্যবসায়ী গৌতম কুমার সাহা মারা যায়। গৌতম কুমারের এমন মৃত্যুতে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে ব্যবসায়ী মহলে। অনেকে বলছে ব্যবসায়ী সুলভ আচরণ ও কথার্বাতা কখনো পাওয়া যায় না বরুণ কুমার শর্মার মধ্যে। তারা বলছে একের পর এক গৌতম কে হেনস্তা করছে বরুণ কুমার। সর্বশেষ শারিরীকভাবে আঘাত করার কারণেই তার মৃত্যু ঘটেছে। গৌতমের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ঘর মালিক শামসুল ইসলাম জোহা জানান, বরুণ কুমারের আচরণ তেমন ভাল না, গৌতম কে নানাভাবে হেনস্তা করত বলে গৌতম আগেই তাকে জানিয়েছিল। এব্যাপারে অভিযুক্ত বরুণ কুমার শর্মার সাথে কথা হলে তিনি দাবি করছেন, গৌতম কুমারই তাকে গালাগালি করছিল, ধেয়ে মারতে এসেছিল, তিনি তখন প্রতিবাদ করতে গেলে হাতের বেসলেট অসাবধানবসত তার নাকে লাগে এবং স্বল্প আঘাতপ্রাপ্ত হন। গৌতমের মৃত্যু হামলা বা বিরোধের জেরে হয়েছে বলে তিনি মনে করেন না।