কাউখালীতে ভূমি বিরোধকে কেন্দ্র করে মা-ছেলেসহ আহত-৩

॥ নিজস্ব প্রতিবেদক ॥

ভূমি বিরোধকে কেন্দ্র করে রাঙামাটির কাউখালীতে দুই পরিবারের সংঘর্ষে মা-ছেলেসহ তিনজন আহত হয়েছে। বৃহস্পতিবার উপজেলা সদরের রাঙ্গীপাড়া এলাকায় এই ঘটনা সংগঠিত হয়। আহত মা জেসমিন আক্তার ও তার একমাত্র সন্তান মিনহাজ(১৪)কে কাউখালী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা শেষে অবস্থা গুরুত্বর হওয়ায় রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালে রেফার্ড করেছে। এদিকে বৃহস্পতিবার বিকেলে রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালে আহতরা ভর্তি হলে মাথায় আঘাতপ্রাপ্ত উভয়কেই তাৎক্ষনিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্যে চট্টগ্রামে রেফার্ড করে দেয় রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

হাসপাতালে আহত জেসমিন ও তার সন্তান মিনহাজ জানায়, কাউখালীর রাঙ্গীপাড়াস্থ তাদের বসতভিটা সংলগ্ন চলাচলের রাস্তার উপর প্রতিবেশী ক্ষমতাসীন দলের নেতা কাজী কাওসার কর্তৃক ইট ও বালি রাখাকে কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবার দুপুরে উক্ত ঘটনার সূত্রপাত হয়। জেসমিন জানান, চলাচলের রাস্তার উপর নির্মাণ সামগ্রী রেখে রাস্তায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির কারন জানতে চাইলে কাউখালীর ঘাগড়া ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক কাজী কাউছারের বোনের জামাই (যে কিনা সিলেটের একটি হত্যা মামলার আসামী হয়ে শশুর বাড়িতেই থাকে) আব্দুল কাদের জেসমিন ও তার ছেলেও উপর চড়াও হয়।

এসময় উভয়ের মাথে কথাকাটাকাটির এক পর্যায়ে কাদের ইট দিয়ে জেসমিন ও তার সন্তানের মাথা ফাঁিটয়ে দেয়। এসময় জেসমিনের পরনের কাপড় ছিড়ে শ্লীলনতাহানিও করে সে। পরে কাদেরের পরিবারের অন্য সদস্যরাও এগিয়ে এসে তাদের ঘিলে ধরে মারধর করে। ঘটনার পর জমির মধ্যদিয়ে পালিয়ে স্থানীয় আর্মি ক্যাম্পে উপস্থিত হয়ে ঘটনাটি জানালে সেখান থেকে তাদেরকে কাউখালী থানায় পাঠানো হয়। জেসমিন জানান, কাউখালী থানায় গেলে সেখান থেকে আমাদেরকে চিকিৎসা নিতে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পরামর্শ দিয়ে পাঠিয়ে দেয়। এরপর আমরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হলে কাউছারসহ তার ভাই সুমন, রিপন ও তাদের পরিবারের সদস্যরা হাসপাতালেও হামলা চালায় আমাদের উপর। এসময় হাসপাতালের বারান্দায় থাকা বেঞ্চ দিয়ে আমার ছেলেকে কয়েকটি আঘাত করা হয়। এই ঘটনায় ভীত সন্ত্রস্থ হয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আমাদেরকে রাঙামাটি রেফার্ড করে দেয়।

কাউখালী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত সিনিয়র নার্স জানান, হাসপাতালেও সামান্য উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছিলো।

এদিকে ঘাগড়া ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক কাজী কাউছারের কাছে মুঠোফোনে ঘটনাটি জানতে চাইলে তিনি বলেন, এসব মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে এসব বলছে তারা। আমার বোনের জামাইকে তারা মেরে মাথা ফাটিয়ে দিয়েছে। আমি ঘটনাস্থলেই ছিলাম না। থাকলে পরিস্থিতি হয়তো অন্যরকম হতো। তিনি বলেন, আমার বোনের জামাইয়ের মাথায়ও সেলাই দিতে হয়েছে। আপনার বোনের জামাই মার্ডার মামলার আসামী কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে কাউছার বলেন আমি জানি না।

কাউখালী থানার অফিসার ইনচার্জ কবির হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, একটা মূলতঃ জায়গা-জমি সংক্রান্ত ঘটনা। এতে উভয়পক্ষের লোকজনই আহত হওয়ায় আমি আগে চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে বলেছি। তিনি বলেন আমাকে যে কেউ লিখিত অভিযোগ দিলে আমি তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নিবো।