সিএইটি টাইমস টোয়েন্টিফোর ডটকমে সংবাদ প্রকাশের পর বাঘাইছড়ির চিরকুমারী ঝর্ণায় পর্যটকের ঢল

॥ মো: ওমর ফারুক সুমন ॥

রাঙ্গামাটি জেলার বাঘাইছড়ি উপজেলার চিরকুমারী ঝর্ণায় পর্যটকের ঢল নেমেছে। অথচ মাত্র কয়েকদিন আগেও ঝর্ণাটি ছিলো লোকচক্ষুর আড়ালে, স্থানীয় চাকমা যুকবদের সহযোগীতায় সিএইচটি টাইমস পত্রিকার প্রতিবেদকের নজরে আসার পর রাতারাতি বদলে যেতে থাকে ঝর্ণার চিত্র, পত্রিকায় ঝর্ণার ছবি সহ সংবাদ প্রচারের পর থেকেই দিনদিন ব্যাস্থ হতে শুরুকরে ঝর্ণাটি, স্থানীয় পর্যটকদের আনাগোনাও বাড়ছে দিনদিন,  একটু পরিচর্যাপেলে ঝর্ণাটি হয়ে উঠতে পারে বাঘাইছড়ি উপজেলার একটি আকর্ষণীয় পর্যটনকেন্দ্র।

প্রতিদিনই গড়ে প্রায় অর্ধশতাধিক পর্যটক ঝর্ণাটি দেখতে ভিড় জমায় ঝর্ণার পাড়ে, ঝর্নাটি নিয়ে পত্রিকায় সংবাদ প্রচারের পর বিভিন্ন মহল থেকে সিএইচটি টাইমস প্রতিবেদকে ধন্যবাদ জানানো হয়, বাঘাইছড়ি উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান সুমিতা চাকমা লিখেছেন ধন্যবাদ  লুকায়িত সুন্দর্য্যকে সবার মাঝে তুলেধরার জন্য,  মোঠোফোনেও অনেকে ক্ষুদে বার্তাদিয়ে ধন্যবাদ যানাচ্ছেন।

প্রতিনিয়তই ঝর্ণায় ঘুরতে গিয়ে ছবি তুলে তা ফেইসবুকে প্রকাশিত করছেন দর্শনার্থীরা এতেই রাতারাতি ঝর্ণাটি ভ্রমণ প্রিয়াশুদের নিকট জনপ্রিয় হয়েউঠে। ৩১ জুলাই সরজমিনে গিয়ে দেখাযায় প্রচুর স্থানীয় পর্যটক ঝর্ণায় গোসল করছে,  দ্রুততম সময়ে জনপ্রিয় হয়েউঠা স্থানটি একটু সাজিয়ে নিলে খুব অল্প সময়ে এলাকার চিত্র বদলে যাবেবলে মনেকরে স্থানীয় জনসাধারণ।

উল্লেখ্যা যে গত ২১ জুলাই সিএইচটি টাইমস পত্রিকায় প্রকাশিত বাঘাইছড়ি সদর এলাকায় নতুন ঝর্ণার সন্ধান  খবরটি হুবহুব তুলে ধরাহলো:-
রাঙ্গামাটি জেলার বাঘাইছড়ি উপজেলা সদর এলাকার জীবতলী তালুকদার পাড়ার নিকটেই পাহাড়ের পাদদেশে একটি আকর্ষণীয় পাহাড়ী ঝর্ণার সন্ধান পাওয়া গেছে। স্থানীয় কিছু চাকমা যুবক উক্ত ঝর্ণার পানিতে গোসল করে তার ছবি ফেইসবুকে পোস্ট করার পরই প্রথমে নজরে আসে ঝর্ণাটি। পরে স্থানীয় চাকমা যুবকদের সাথে নিয়ে ঝর্ণাটি পর্যবেক্ষণ করে এর সৌন্দর্য দেখে উপস্থিত সবাই মুগ্ধ হয়।

সুউচ্চ পাহাড়ের চূড়ায় সুবিশাল লেকের চারপাশ বনে আচ্ছাদিত নিবির পরিবেশে পাথুরে পাহাড় বয়ে গড়িয়ে পরা ঝর্ণার পানির ঝুপ ঝুপ শব্দ যেকাউকেই মুগ্ধ করবে।  উপজেলা সদরের খুব কাছাকাছি এবং যাতায়াতের সুন্দর ব্যাবস্থা থাকায় পর্যটকরা অনায়াসেই স্থানটি  ভ্রমণ করতে পারবে। স্থানীয় কিছু অবকাঠামোগত উন্নয়নের মাধ্যমে ঝর্ণাটি বাঘাইছড়ি সদরের একটি গূরুত্বপূর্ণ পর্যটন স্থানে পরিণত হতে পারে।

পাহাড়ের উপড় সুবিশাল লেকটি স্থানীয়দের কাছে মেজর আকতার বাধ নামে অধিক পরিচিত।  এবং মেজর আক্তার ফলস (জল প্রপাত)  নামেই ঝর্ণাটি পরিচিত। স্থানীদের সাথে কথা বলে জানাযায় তৎকালীন সেনাবাহিনীর মেজর আক্তারুজ্জামানের উদ্ধোগে পানির সমস্যা সমাধানে সেনাবাহিনীর মাধ্যমে বাধটি নির্মাণ করা হয়।  উক্ত বাধের কারণে তৈরি হয় নয়নাভিরাম পাহাড়ী লেক ও ঝর্ণাটি।

বাঘাইছড়ি উপজেলার স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও উপজেলা প্রশাসনের  সুপরিকল্পনার মাধ্যমে  উক্ত এলাকাটি  মারিশ্যা বিজিবি এগত্তর পার্ক, আযর্পূর বনবিহার,  রাবার বাগান ও প্রকৃয়াজাত কেন্দ্রের  পাশাপাশি এটিও একটি  নয়নাভিরাম দর্শনীয় স্থান হিসেবে পরিচিতি লাভ করতে পারে।  এ বিষয়ে বাঘাইছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ নাদিম সারওয়ারের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি জানান যে, বাঘাইছড়ি উপজেলার পর্যটনের উন্নয়নে উক্ত স্থানটি সরজমিনে পরিদর্শন করে সম্ভাব্যতার ভিত্তিতে পরিকল্পনা মাফিক প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণে উর্ধতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হবে।

বাঘাইছড়ি উজেলার মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান সুমিতা চাকমা বলেন যে  উক্ত স্থানটি পর্যটন স্থান হিসেবে পরিচিত হলে স্থানীদের অর্থনৈতিক  উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে ও উপজেলা সদরের দুই কিলোমিটারের মধ্যে হওয়ায় সড়ক যোগাযোগব্যবস্থা ভালো থাকায় খুব সহজেই স্থানটি জনপ্রিয়তা লাভ করবে।

মেজর আক্তারুজ্জামান ফলস (জল প্রপাত) নামে ঝর্ণাটিতে আপনি যেভাবে যাবেন: বাঘাইছড়ি সদর চৌওমুহনী থেকে যে কোন ধরনের যানবাহন  যোগে যেতে হবে দুই কিলো মিটার পূর্বে জীবতলী তালুকদার পাড়া হয়ে পাহাড়ে সেখান থেকে পাঁচ মিনিট পাঁয়ে হেটেই পৌছানো যাবে ঝর্ণাটিতে।