আদিবাসী দিবস পালনের প্রতিবাদে পার্বত্য বাঙালী ছাত্র পরিষদের মানববন্ধন ও প্রতিবাদ

॥ নিজস্ব প্রতিবেদক ॥

উপজাতীয়দের আদিবাসী স্বীকৃতির দাবির আড়ালে লুকায়িত রাষ্ট্র বিরোধী ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে ও উপজাতীয় সংগঠন কর্তৃক সাংবিধানিক ও রাষ্ট্র বিরোধী কথিত আদিবাসী স্বীকৃতি দাবি সংক্রান্ত অপপ্রচার বন্ধের দাবিতে রাঙামাটি জেলা প্রশাসকের র্কাযালয়ের সামনে সকাল ১০.৩০ মিনিটে পার্বত্য নাগরিক পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক মো: এনায়েত হোসেনের সভাপতিত্বে ও পার্বত্য বাঙ্গালী ছাত্র পরিষদ রাঙ্গামাটি জেলা শাখার সাধারন সম্পাদক মোঃ হাবিবুর রহমানের সঞ্চালনায় মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

বক্তব্য রাখেন ঃ- মেডিকেল কলেজ ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় বাস্তবায়ন সংগ্রাম পরিষদের যুগ্ন আহ্বায়ক মোঃ কাজী জালোয়া, রাঙ্গমাটি জেলা শ্রমিক পরিষদের সভাপতি মোঃ রাসেল ইসলাম সাগর, যুব ফ্রন্টের রাঙ্গামাটি জেলা সভাপতি আবদুল মান্নান, বৃহত্তর বাঙ্গালী ছাত্র পরিষদ খাগড়াছড়ি জেলা শাখার সভাপতি মো: মাঈন উদ্দীন, সাধারন সম্পাদক মোঃ এস এম মাসুদ রানা, যুগ্ন সম্পাদক মোঃ জাহিদুল ইসলাম জাহিদ, খাগড়াছড়ি কলেজ শাখার সভাপতি মোঃ ইব্রাহিম, সাবেক সভাপতি মো: ইউনুছ।
বক্তারা বলেন ক্ষুদ্র নৃ- গোষ্ঠীদের আদিবাসী হিসেবে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির দাবী পার্বত্য চট্টগ্রামকে পৃথক রাষ্ট্রে পরিণত করার সুদূর প্রসারী ষড়যন্ত্র।ঐতিহাসিক তথ্য অনুযায়ী পার্বত্য চট্রগ্রামের অÑবাঙালীয়রা (ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী) বার্মা, ভারত এবং চীন থেকে বিতাড়িত হয়ে মাত্র দুই থেকে আড়াইশত বছর পূর্বে পার্বত্য চট্টগ্রামে আশ্রয় গ্রহন করে। অন্যদিকে বাঙালীরা হাজার বছর ধরে বৃহত্তর চট্টগ্রামে (পার্বত্য চট্টগ্রামসহ) বসবাস করে আসছে। সুতরাং ক্ষুদ্র নৃÑগোষ্ঠীরা নয়, বাঙালিরাই র্পাবত্য চট্টগ্রামের আদিবাসী। সাম্প্রতিক কালে অÑবাঙালেিদর আদিবাসী হিসেবে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির দাবী অন্যায্য, ষড়যন্ত্র মূলক এবং বিভ্রান্তকর।

আদিবাসী শব্দটি উপজাতি/ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী শব্দের প্রতিশব্দ নয়। আইএলও কনভেনশন-১৬৯ আর্টিক্যাল এবং আদিবাসী বিষয়ক জাতিসংঘ ঘোষনাপত্র-২০০৭ এর আলোকে দেশের স্বর্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে আদিবাসী শব্দটির গুরুতর নেতিবাচক তাৎপর্য রয়েছে। উপজাতীয়রা আদিবাসী হিসেবে স্বীকৃতি পেলে বাংলাদেশী স্বর্বভৌমত্বের উপর ক্ষতিকার প্রভাব পড়বে। পূর্ব তিমুর, দক্ষিন সুদান ও জিবুতির ন্যায় পর্বত্য চট্টগ্রাম ও আলাদারাষ্ট্রে পরিণত হবে।
পার্বত্য চট্টগ্রামের ভুমির উপর বাংলাদেশ সরকারের কোন এখতিয়ার থাকবেনা। অদিবাসীদের অনুমতি ব্যতিত পার্বত্য চট্টগ্রামে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব এবং ভৌগলিক অক্ষন্ডতা রক্ষায় কোন সামরিক কর্মকান্ড পরিচালনা করা যাবেনা। পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রাকৃতিক সম্পদের উপর বাংলাদেশ সরকারের কোন নিয়ন্ত্রন থাকবেনা।

প্রাকৃতিক সম্পদ পরিপূর্ণ এবং কৌশলগত ভাবে অত্যান্ত গুরুত্বপূর্ণ বাংলাদেশের এক দশমাংশ এলাকার (পার্বত্য চট্টগ্রাম) উপর বাংলাদেশ সরকার নিয়ন্ত্রন হারাবে। আদিবাসী স্বীকৃতির দাবী বাস্তবায়নের মাধ্যমে উপজাতীসংগঠন গুলোর দীর্ঘ প্রতিক্ষিত কাল্পনিক স্বাধীন জুম্মলেন্ড প্রতিষ্ঠাহবে। তাই উপজাতীয় সংগঠন গুলো আর্ন্তজাতিক কুচক্রীমহল গুলোর শিখানো“আদিবাসী” স্বীকৃতির দাবীতে গত কয়েক বছর ধরে হঠাৎ করে তৎপর হয়েছে, যা ১৯৯৭ সালের পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তিতেও উল্লেখ নেই।
বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ও পার্বত্য চট্টগ্রামের অখন্ডতা রক্ষায় বাংলদেশের দেশ প্রেমিক এবং সচেতন নাগরিক সমাজকে এখনি জেগে উঠতে হবে। আদিবাসী ইস্যু নিয়ে দেশীয় দালাল এবং বিদেশী ষড়যন্ত্র বাংলাদেশকে যে কোন মূল্যে রুখতে হবে।