দীঘিনালায় ছাত্রলীগ নেতার বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির মামলা

॥ দীঘিনালা প্রতিনিধি ॥

খাগড়াছড়ি জেলার দীঘিনালায় ছাত্রলীগের এক নেতাকে প্রধান আসামি করে শ্লীলতাহানির মামলা হয়েছে থানায়। একই মামলায় চারজনকে আসামি করা হয়েছে। এরই মধ্যে রমজান আলিকে (২৭) গ্রেফতার করে জেলহাজতে পাঠিয়েছে পুলিশ। তবে স্থানীয় প্রতিনিধিরা বলছেন, ইয়াবা ব্যবসাকে কেন্দ্র করে ঝগড়াঝাটির কারণে এই মামলা।

গ্রেফতারকৃত রমজান আলি উপজেলার কবাখালী এলাকার পাবলাখালীর মো. সোহরাব হোসেনের ছেলে। অপর তিন আসামি হলো বোয়ালখালী (সদর) ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি মান্না মুৎসদ্দী, পাবলাখালীর মৃত কবীর হোসেনের ছেলে মো. শরীফ এবং হেডম্যান পাড়ার মো. চান মিয়ার ছেলে মো. আব্দুল আজিজ। বৃহষ্পতিবার উপজেলার কবাখালী এলাকার আলী নগরের এক কিশোরীর মা বাদি হয়ে মামলাটি করেন।

দীঘিনালা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আব্দুস সামাদ জানান, রাতে ঘটনার সংবাদ পেয়ে তাৎক্ষনিক পুলিশ পাঠিয়ে কিশোরীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। লিখিত অভিযোগের বরাত দিয়ে ওসি আরো জানান, রাতে কয়েকজন ছেলে ঘটনার শিকার কিশোরীর (১৫) ঘরে ঢুকে কিশোরীকে ঝাপটে ধরে টেনে হিঁচরে নিয়ে আসার চেষ্টা করে। তখন বাঁধা দিলে কিশোরীর বাবা ও মাকে আঘাত করা হয়। এ ঘটনায় কিশোরীও আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে অসুস্থ হয়।

অপরদিকে মামলার প্রধান আসামি মান্না বলছেন, ‘কিশোরীর বাবা মো. জসিম উদ্দিন দীর্ঘদিন যাবত ইয়াবা ও গাঁজা ব্যবসার সাথে জড়িত। এর আগেও কিশোরীর ভাই মো. জুয়েল পুলিশের হাতে আটক হয়েছিল; তখন তার বাবা জসিমউদ্দিন পালিয়ে রক্ষা পায়। ঘটনার রাতেও ইয়াবা বিক্রির সংবাদ পেয়ে আমরা সেখানে যাই। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে আমাদের দা দিয়ে তাড়া করে এবং মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে।’

সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড মেম্বার মো. নওশাদ পাটোয়ারী জানান, মামলার বাদিনীর পুরো পরিবার ইয়াবা ও গাঁজা ব্যাবসার সাথে জড়িত। ঘটনার পর তিনি জানতে পারেন সে রাতে যারা গিয়েছিল তারাও ইয়াবা ও গাঁজা সেবনকারী। সেখানে বকেয়াতে ইয়াবা দেওয়া না দেওয়া নিয়ে বাকবিতন্ডা হয়েছিল।

সংশ্লিষ্ট কবাখালী ইউপি চেয়ারম্যান মো. জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, জসিম উদ্দিনের পরিবার মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত যা এলাকার সকলের জানা। সেখানে যারা যায় তারাও এ ব্যবসার সাথেই সংশ্লিষ্ট। ব্যবসায়িক কারণেই এ ঘটনা। তবে যে কোন কারণে শ্লীলতাহানীর ঘটনা ঘটে থাকলে তার বিচার হওয়া কাম্য। সাথে যে ইয়াবার কারণে ঘটনা সেটিরও তদন্ত পূর্বক ইয়াবা সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহন প্রয়োজন।