ব্রেকিং নিউজ

মানিকছড়িতে পুলিশী তৎপরতায় ৯দিনেই গৃহবধু হত্যার রহস্য উম্মোচিত : স্বামীসহ আটক-৩

আবদুল মান্নান-মানিকছড়ি ::

মানিকছড়িতে গৃহবধু খুনের পর পর রহস্য উদঘাটনে পুলিশের তৎপরতায় ৯ দিনেই সাফলতার মূখ দেখেছে। ঘাতক স্বামী মো. বেলাল হোসেন নিজেই স্ত্রীকে হত্যা করেছে বলে ১৬৪ ধারায় ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে জবানবন্দী দিয়েছে।

মাত্র ৯ দিনেই হত্যার রহস্য উদঘাটনেঘটনায় নিহতের স্বামী মো. বেলাল হোসেন(২৬)কে এজাহারভুক্ত আসামী দেখিয়ে মামলা দায়ের করেছেন নিহতের পিতা মো. নেজাম। ঘাতক মো. বেলাল হোসেনকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় এবং শ্বশুর মো. মমতাজ উদ্দীন ও শ্বাশুরী শিরিনা আক্তারকে আটক করেছে পুলিশ ।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মানিকছড়ি উপজেলার নামার তিনটহরী গ্রামের মো. মমতাজ উদ্দীনের ছেলে মো. বেলাল হোসেন (২৬) বিগত ৫ বছর পূর্বে চট্টগ্রামের মো. নেজাম এর মেয়ে সালমা আক্তারের(২২)সাথে ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী বিয়ে করেন। ওদের সংসারে দেড় বছরের একটি শিশুপুত্র রয়েছে। সম্প্রতি বেলাল হোসেন ইয়াবা সেবন ও পাচারের কাজে জড়িয়ে পড়ে।

এ নিয়ে স্বামী স্ত্রীর মধ্যে একাধিকবার ঝগড়ার পাশাপাশি কিছুদিন পূর্বে মো. বেলাল হোসেনকে শ্বশুরালয়ে গেলে নির্যাতনও করা হয়। ফলে এ নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে মনমালন্য বাড়তে থাকে। এক পর্যায়ে গত রমজানের পর বেলাল স্ত্রীকে নিয়ে পৃথক হয়ে বসবাস শুরু করেন।

৩১ জুলাই দিবাগত রাত (১ আগস্ট)আনুমানিক ২.৩০টার দিকে তাদের বাড়িতে চিৎকার শুনতে পেয়ে বেলালের পিতা ও ছোট ভাই সাগর হোসেন সেখানে ছুঁটে যায়। তারা সেখানে গিয়ে দেখেন যে বেলাল হোসেন এবং তার স্ত্রী সালমা আক্তার (২২) রক্তাক্তাবস্থায় উঠানে পড়ে চটপট করছে। পরে তারা আহত দু’জনকে উদ্ধার করে মানিকছড়ি হাসপাতালে এসে ভর্তি করান। চিকিৎসক চিকিৎসা শুরু করতে না করতেই স্ত্রী সালমা আক্তার(২২)মৃত্যুবরণ করেন। আহত বেলাল হোসেনকে চমেক হাসপাতালে প্রেরণ করেন।

এ ঘটনার পরপর মানিকছড়ি থানার অফিসার ইনচার্জ মুহাম্মদ রশীদ বিষয়টি অধিক গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত শুরু করেন এবং ওই দিনই নিহতের পিতা মো. নেজাম মেয়ের মর্মান্তিক মৃত্যুর জন্য স্বামী মো. বেলাল হোসেনকে এজাহার ভুক্ত আসামী দেখিয়ে হত্যা মামলা দায়ের করলে পুলিশ ঘাতক স্বামী মো. বেলাল হোসেনকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় এবং শ্বশুর মো. মমতাজ উদ্দীন ও শ্বাশুরী শিরিনা আক্তারকে আটক করেন। মামলা নং ১,তারিখ ০১.০৮.১৮ খ্রি. ধারা ৩০২।

অফিসার ইনচার্জ মুহাম্মদ রশীদ এর নিদের্শনায় মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এস.আই আবদুল্লাহ আল মাসুদ গত ৯ দিনে ব্যাপক তদন্তসহ আসামীদের রিমান্ডে এনে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করলে ঘাতক স্বামী মো. বেলাল হোসেন গত ১০ আগস্ট খাগড়াছড়ির অতিরিক্ত চীপ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট রোকেয়া আক্তার এর আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তি প্রদান করেন।

ঘাতক মো. বেলাল হোসেন জানান, তাকে শ্বশুরালয়ে নির্যাতন এবং পুলিশে দেয়ার ঘটনায় ক্ষীপ্ত হয়ে স্ত্রীকে হত্যার পরিকল্পনা গ্রহন করেন। ঘটনার রাত আনুমানিক আড়াইটায়(২.৩০) ঘুমন্ত অবস্থায় স্ত্রীকে প্রথমে পেটে ছুরিকাঘাত করলে স্ত্রী রক্তাক্ত অবস্থায় পালাতে চেষ্ঠা করলে ঘাতক বেলাল দৌড়িয়ে গিয়ে উপর্যুপুরী ছুরিকাঘাত এবং এক পর্যায়ে জবাই করেন।

ঘটনা ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে ঘাতক বেলাল নিজের গলায় ছুরিকাঘাত করেন এবং চিৎকার আরম্ভ করেন! চিৎকার শুনে নিহতের শ্বশুর,দেবর,শ্বাশুরীসহ লোকজন ছুঁটে আসেন। এদিকে ঘটনার ৯ দিনের মধ্যে প্রকৃত রহস্য উদঘাটনসহ জড়িতকে আইনের আওতায় এনে বিচারের মূখোমুখি করায় পুলিশকে অভিনন্দন জানিয়েছেন সচেতন ব্যক্তিবর্গরা।

উল্লেখ্য,মানিকছড়ি থানার বর্তমান অফিসার ইনচার্জ মুহাম্মদ রশিদ এরআগে রাঙামাটির নানিয়ারচর ও কোতয়ালী থানায় ওসি হিসেবে কর্মরত থাকাকালীন সময়ে বেশ কয়েকটি চাঞ্চল্যকর মামলার মূল রহস্য উদঘাটনের পাশাপাশি অস্ত্র মামলা, খুনের মামলার রহস্য উদঘাটন করে আসামীদের গ্রেফতার করেছিলেন।

পুলিশের চৌকস এই কর্মকর্তা রাঙামাটি কোতয়ালী থানা কর্মরত অবস্থায় থানায় পারিবারিক ও ভূমি সংক্রান্ত অধিকাংশ অভিযোগ থানায় বসেই নিষ্পত্তি করে সাধারণ বিচার প্রার্থীদের জন্যে ন্যায় বিচার প্রাপ্তি নিশ্চিত করেছিলেন, এতে করে অনেকেই মামলার হয়রানী থেকে রেহাই পেয়েছে। এখনো রাঙামাটি শহরবাসী ও নানিয়াচর উপজেলাবাসী তার কথা স্মরন করে।