ব্রেকিং নিউজ

কেপিএম’এ শ্রমিক অসন্তোষ : অভিযোগের তীর ব্যবস্থাপনা পরিচালকের বিরুদ্ধে

॥ নিজস্ব প্রতিবেদক ॥

রাঙামাটির কাপ্তাইয়ের চন্দ্রঘোনায় অবস্থিত বিসিআইসি এর অন্যতম কাগজ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান কর্ণফূলী পেপার মিলে(কেপিএম)। শ্রমিক অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। কেপিএম মিলে কর্মরত ৩৭৬ জন শ্রমিক কর্মচারীর পদোন্নতি কেপিএম ব্যবস্তাপনা কর্তৃপক্ষ প্রজ্ঞাপন আকারে প্রকাশ না করায় এই শ্রমিক অসন্তোষ দেখা দেয়। এর প্রতিবাদে কেপিএম এর বর্তমান সিবিএ সহ অপরাপর ২ টি শ্রমিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ গতকাল শুক্রবার কেপিএম সিবিএ অফিসে বিক্ষোভ সমাবেশ করে।

কেপিএম শ্রমিক কর্মচারী পরিষদ সিবিএ) এর সভাপতি আব্দুর রাজ্জাকের সভাপতিত্বে বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন কেপিএম এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব খাঁন, ওয়ার্কাস ইউনিয়নের সভাপতি মৌলানা মো: ইউনুচ এবং সিবিএ এর ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আনিছুর রহমান। পরে এর প্রতিবাদে সাধারণ শ্রমিক কর্মচারীরা বিক্ষোভে অংশ নেন।

এই বিষয়ে কেপিএম সিবিএ সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক জানান, বিসিআইসি এর কেপিএম এর এন্টারপ্রাইজ বোর্ডে গত ৬/৮/২০১৮ তারিখে কেপিএম মিলে কর্মরত ৪০৩ জন শ্রমিক কর্মচারীকে পরবর্তী উচ্চতর পদে পদোন্নতির সুপারিশ করে সরকারি দাপ্তরিক আদেশ জারি করে কেপিএম ব্যবস্তাপনা কর্তৃপক্ষকে চিঠি পাঠানো হয়।

সুপারিশকৃত ৪০৩ জন শ্রমিকের মধ্যে ইতিমধ্যে ২৪ জন অবসর ও অন্যত্র বদলী হয়েছে।তিনি জানান দাপ্তরিক আদেশে বাকী ৩৭৬ জনের মধ্যে ২৫১ জন শ্রমিক কর্মচারীর যাদের পুলিশ ভেরিফিকেশন ও চাকুরীতে স্হায়ী করনের তথ্যাবলী যথাযথ রয়েছে তাদেরকে পরবর্তী উচ্চতর পদে যোগদানের জন্য দাপ্তরিক আদেশ প্রদান করা হয় এবং বাকী ১২৫ জন শ্রমিক কর্মচারী যাদের পুলিশ ভেরিফিকেশন ও চাকুরীতে স্হায়ী করণের তথ্যাবলী নেই তাদের পুলিশ ভেরিফিকেশন ও চাকুরীতে স্হায়ী করণের তথ্যাবলী সম্পাদন করার পর পদোন্নতির প্রস্তাবটি পরবর্তীতে বোর্ড সভায় অনুমোদনের নিমিত্তে উপস্হাপনের জন্য সিদ্বান্ত গৃহীত হয়।

কিন্ত কেপিএম ব্যবস্তাপনা কর্তৃপক্ষ ২৫১ জন শ্রমিক কর্মচারীকে উচ্চতর পদে যোগদানে অনীহা প্রকাশ করার কেপিএম এ শ্রমিক অসন্তোষ দেখা দেয়, তিনি জানান গত ৭/১/২০১৮ তারিখে প্রশাসনিক অনুমোদন পেলেও বতর্মান এমডি পদোন্নতি না দিয়ে কালক্ষেপন করছেন।

এদিকে এই বিষয়ে কেপিএম এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড: এম এম এ কাদের এই প্রতিবেদককে জানান, গঠিত কমিটি কতৃর্ক পদোন্নতি জন্য সুপারিশ প্রাপ্ত মোট ৪০৩ জন শ্রমিক ও কর্মচারীদের মধ্য ২৫১ জন শ্রমিক কর্মচারীকে দেয়া হলে পদোন্নতি বঞ্চিত বাকী ১২৫ জন শ্রমিক কর্মচারীর মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিতে পারে এবং তারা কর্মস্পৃহা হারিয়ে ফেলতে পারে।

এতে কারখানার আইন শৃংখলার অবনতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।তিনি জানান, একত্রে সকলের পদোন্নতি দেয়া হলে কারখানার কর্মপরিবেশ বজায় থাকবে যা কতৃর্পক্ষের কার্য সম্পাদনের ক্ষেত্রে খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

কেপিএম সিবিএ এর ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আনিছুর রহমান জানান, একজন শ্রমিক ২০-৩০ বছর চাকরি করার পরও কেনো তাদের আবার পুলিশ ভেরিফিকেশন দরকার এই বিষয়ে কর্তৃপক্ষের কাছে সকলের প্রশ্ন। এদিকে রবিবার সকাল ৭টায় কেপিএম প্রশাসনিক গেইটে প্রতিবাদ কর্মসুচীর আহ্বান করেছেন কেপিএম সিবিএ সহ অন্যান্য শ্রমিক সংগঠনগুলো।