ব্রেকিং নিউজ

১৫ই আগষ্ট জাতীয় শোক দিবস পালনে সকলের সম্মিলিত সহযোগিতা কামনা

॥ আলমগীর মানিক ॥

১৫ই আগষ্ট জাতীয় শোক দিবস যথাযথভাবে পালনে সকলের সংশ্লিষ্ট্য সকল সরকারী-বেসরকারী কর্মকর্তাগণসহ রাঙামাটিবাসীর সার্বিক সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে। রোববার রাঙামাটিতে আয়োজিত মাসিক আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক সভায় এই আহবান জানিয়েছেন সভাপতি বিজ্ঞ অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট মোঃ নজরুল ইসলাম। এসময় রাঙামাটি অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) জাহাঙ্গীর আলম, উপ-পরিচালক এনএসআই মোঃ ছানোয়ার হোসেন ,ডেপুটি সিভিল সার্জন ডাঃ নিহার রঞ্জন নন্দী, সদর উপজেলা চেয়ারম্যান অরুন কান্তি চাকমাসহ সকল সরকারী বেসরকারী কর্মকর্তারা এসময় উপস্থিত ছিলেন।

আলোচনা সভায় জানানো হয়, গত জুলাই মাসে পুলিশী হিসেবে রাঙামাটি জেলায় ছোট-বড় মিলে সর্বমোট ৫০টি অপরাধ সংগঠিত হয়েছে। তার মধ্যে একটি খুন, অস্ত্র মামলা ২টি, নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে ৪টি, অন্যান্য ৯টি ছাড়াও মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে সর্বোচ্চ ৩৪টি অপরাধ সংগঠিত হয়েছে।

সভায় মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরকে রাঙামাটি শহরে তাদের কার্যক্রম আরো বৃদ্ধি করার আহবান জানিয়ে সভাপতি বলেন, মাদক অন্যতম একটি সমস্যা। মাদকের ব্যবহার বৃদ্ধি পেলে সমাজে অপরাধের সংখ্যাও বৃদ্ধি পায়। এতে জেলার সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে প্রভাব পড়ে। তাই আমাদের সকলকে নিজ নিজ স্থান থেকে মাদকের বিরুদ্ধে স্বোচ্চার হতে হবে।

এদিকে আইন শৃঙ্খলা সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অরুন চাকমা বলেন, বিগত পাঁচ বছর যাবৎ আমি এই ধরনের আইন শৃঙ্খলা সভাগুলোতে উপস্থিত থাকি। কিন্তু এসব সভায় গৃহিত সিদ্ধান্তগুলোর অধিকাংশই কাগজে-কলমে আবদ্ধ থাকে। চেয়ারম্যান বলেন, সম্প্রতি এইচএসসির রেজাল্ট এতোটা খারাপ হয়েছে সেই লজ্জায় নিজেও লজ্জিতবোধ করছি। আমাদের রাঙামাটির প্রত্যেকটি ইউনিয়নে একজন করে চিকিৎসক থাকার সরকারী নির্দেশনা থাকা সত্বেও একটি ইউনিয়নেও ডাক্তারদের রাখা হচ্ছেনা। ডেপুটেশনে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে বা সদরে নিয়ে আসা হচ্ছে।

তাহলে পাহাড়ের প্রার্ন্তিক জনগোষ্ঠির স্বাস্থ্য সেবার কি অবস্থা সেটি বর্ণনার অপেক্ষা রাখেনা। মানুষের দৌড়গোড়ায় সেবা পৌছে দেওয়ার লক্ষ্যেই সরকারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সরকারী অফিসগুলো চালু করা হয়েছে। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয় হলো, আমাদের রাঙামাটির জনগুরুত্বপূর্ন অধিকাংশ সরকারি অফিসগুলোতে কার্যকর পদবীগুলো এখনো খালি রয়েছে।

এতে করে প্রতিনিয়ত অবর্ণনীয় দুর্দশায় পড়ছে রাঙামাটিবাসী এমন মন্তব্য করে চেয়ারম্যান বলেন, আমার উপজেলা পরিষদের জায়গা বেদখল হচ্ছে অথচ আমি বা ইউএনও সেখানে গিয়ে বাঁধা দিতে পারতেছিনা। এ থেকে পরিত্রাণের কোনো উপায় খোঁজা হচ্ছেনা। তাহলে আমরা যাব কোথায়? এমন প্রশ্ন তুলে চেয়ারম্যান বলেন, আমি হয়তো আর বেশি দিন চেয়ারম্যানের চেয়ারে থাকবো না, কিন্তু বিদায়ের বেলায় আমি ব্যর্থতার দ্বায়ভার কাধে নিয়ে যেতে চাই না। তাই একটি সুন্দর রাঙামাটি বিনির্মানে দলমত নির্বিশেষে আমাদের সকলকে এগিয়ে এসে এক কাতারে সামিল হতে হবে।

এদিকে সভায় পৌরসভার প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত থেকে কাউন্সিলর কালায়ন চাকমা জানান, রাঙামাটি থেকে জেলার বাইরে রানীর হাট, রাউজান, চট্টগ্রাম, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি রুটে অটোরিক্সা চলাচল বেশ কার্যকর ভূমিকা রাখায় আমরা শহরের উপকন্ঠে ভেদভেদীতে সড়ক ও জনপথ বিভাগের কারখানার পার্শ্বোক্ত জায়গায় একটি সিএনজি অটোরিক্সা স্টেশন স্থাপন করতে পৌরসভা উদ্দ্যোগ নিয়েছে। কারো কোনো আপত্তি না থাকলে পৌরসভা শীঘ্রই কাজ শুরু করবে।

এদিকে সভায় পুলিশ বিভাগের পক্ষ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মোঃ জাহাঙ্গীর আলম জানান, আসন্ন ঈদুল আযহা উপলক্ষে রাঙামাটিতে বিশেষ নজরদারী বৃদ্ধি করার পাশাপাশি গরুর হাটগুলোতে চলাচলকারিদের সুবিধার্থে পৌরসভার বেধে দেওয়ান সীমানার বাইরে রাস্তার উপরে গরু-ছাগল না রাখার ব্যাপারে সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।