বিদ্যুতের ভেল্কীবাজীতে অতিষ্ঠ রাঙ্গামাটিবাসী, বরাবরের মতই জাতীয় গ্রীডকে দোষারোপ কর্তৃপক্ষের!

॥ নিজস্ব প্রতিবেদক ॥

কি হলো রাঙামাটি বিদ্যুৎ বিভাগের? কোন বৃষ্টি নেই বাতাস নেই তবুও ঘন ঘন বিদ্যুতের লোডশেডিং। চলমান ভ্যাঁপসা গরমের মাঝে লোডশেডিং এর কারণে রাঙামাটিবাসীর নাভিশ্বাস উঠেছে। ভরা বৃষ্টি মৌসুমে প্রচন্ড তাপদাহ মানুষ যখন নাজেহাল ঠিক তখনই রাঙামাটি বিদ্যুৎ বিভাগের এই ধরনের তেলেসমাতি শহরবাসীকে মারাত্মক কষ্টে ফেলে দিয়েছে। কাকে দোষ দেয়া হবে এই অবস্থার জন্য। তাহলে দোষটা কি রাঙামাটি জেলাবাসীর। রাঙামাটি জেলাবাসী কার কাছে এর প্রতিকার চাইবে এই নিয়ে হতাশায় ভুগছে।

গত কয়েকদিন ধরে রাঙামাটি শহরের বিদ্যুতের লোডশেডিং এর কারণে সাধারণ মানুষ যখন নাভিশ্বাস উঠেছে তখনও বিদ্যুৎ বিভাগের কেউ এ নিয়ে মাথা ঘামাচ্ছে না। কেন হচ্ছে এই সমস্যা এইটা নিয়েও বিদ্যুৎ বিভাগের কোন মাথা ব্যথা নেই। গত কয়েকদিন ধরে মধ্য রাত থেকে রাঙামাটি শহরে বিদ্যুৎতের লোডশেডিং ঘুমন্ত মানুষকে বাইরে বের করে দিয়েছে। প্রচন্ড গরমের কারণে সাধারণ মানুষ বিছানা ছেড়ে রাস্তায় পায়চারী করতে দেখা গেছে।
রাঙামাটি বিদ্যুতের গ্রাহকরা জানান, রাঙামাটি বিদ্যুৎ বিতারণ বিভাগের এই ধরনের আচরণে আমরা অনেক ক্ষতিগ্রস্থ। বার বার ট্রিপ হওয়ার কারণে আমাদের অনেক ইলেকট্রনিক্স যন্ত্রপাতি নষ্ট হয়ে গেছে। তারা বলেন, সন্ধ্যা হতে না হতেই বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে। ছাত্র-ছাত্রীদের লেখপড়ায় দারুন ব্যাঘাত ঘটছে।

এদিকে ব্যবসায়ীরা জানান, বিদ্যুতের এই ধরনের লোডশেডিং এর কারণে আমরা ব্যবসা ঠিক মতো করতে পারছি না। সেই কারণে কাষ্টমাররাও দোকানে বেশীক্ষণ থাকতে চায় না। তারা বিদ্যুৎ বিভাগের কাছে এই ধরনের হয়রানী বন্ধের দাবী জানান।
বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড রাঙামাটির নির্বাহী প্রকৌশলী সবুজ কান্তি মজুমদার জানান, জাতীয় গ্রীডে সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে তার জন্য আমাদেরকে একটি লোড শেডিং করতে হচ্ছে। তিনি বলেন, গরম বেড়ে যাওয়ায় চাহিদাও বেড়ে গেছে। এতে আমাদের কোন হাত নেই। তিনি বলেন, বর্তমানে আমাদের চাহিদা হচ্ছে ১৫ মেগাওয়াট তার মধ্যে আমরা পাচ্ছি সাড়ে ১১ মেগাওয়াট। তিনি বলেন, দুই এক দিন মধ্যে এই সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে আশা করছি।