পাথর দস্যুরা বেপরোয়া, চলছে সংরক্ষিত ভূমি ঝিরি ও খালের পাথর পাচারের প্রস্তুতি

॥ নিজস্ব প্রতিবেদক ॥

লামা বন বিভাগের মাতামুহুরী রেঞ্জের বিভিন্ন ছড়া-ঝিরি থেকে পাথর ভাঙ্গা হচ্ছে। বন আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে ক্ষমতাসীন প্রভাবশালী ঠিকাদার-ব্যবসায়ীচক্র সংরক্ষিত এ বনভূমির পাথরচুরিতে উঠেপড়ে লেগেছে। স্থানীয় একটি সরকারি উন্নয়ন কাজে পাথর ব্যবহারের দোহায় দিয়ে রিজার্ভের এসব পাথর আহরণ করা হলে বন বিভাগ প্রচুর রাজস্ব আয় থেকেও বঞ্চিত হবে। শুক্রবার (১১ আগস্ট) আলীকদম জোনের সেনা সদস্যরা রিজার্ভের বিভিন্ন ছড়া-ঝিরি থেকে পাথর উত্তোলনকারীদের ধাওয়া করেছে। স্থানীয় কয়েকজন জনপ্রতিনিধি রিজার্ভের পাথরকেন্দ্রীক চাঁদাবাজিতে জড়িয়ে পড়ার অভিযোগ উঠেছে।

জানা গেছে, ব্রিটিশ আমলে মাতামুহুরী নদীর পানি প্রবাহ ধরে রাখতে ১৯২০ সালে আলীকদম উপজেলায় ১ লাখ ৩ হাজার একর পাহাড়ি ভূমিকে রিজার্ভ ফরেস্ট ঘোষণা করেন। ১৯৫২ সালে বনায়ন কার্যক্রম শুরু করে ১৯৯৪ সাল নাগাদ চলে। ২০০১ সালে মাতামুহুরী রেঞ্জটি কক্সবাজার বন বিভাগ থেকে লামা বন বিভাগের আওতাভুক্ত হয়। ১৯৯৫-২০০০ সাল নাগাদ এ রিজার্র্ভ থেকে শত কোটি টাকার বৃক্ষ আগ্রাসীদের ছোবলে লুণ্ঠন হয়ে যায়। অপরদিকে, জুমিয়াদের প্রথাগত চাষ অভ্যাসে অগ্নিসংযোগের ফলে সবুজ প্রৃকৃতিসহ জীববৈচিত্র হুমকির মুখে পড়ে।

সরেজমিন দেখা গেছে, বিশাল এ রিজার্ভে মূল্যবান কোন বৃক্ষ না থাকলেও রয়েছে শত শত ঝিরি ও খালে রয়েছে লক্ষ লক্ষ ঘনফুট ভাসমান পাথর। এসব প্রাকৃতিক পাথরকেন্দ্রিক প্রবাহমান পানি এসে মাতামুহুরী নদীর প্রবাহ ধরে রেখেছে। সাম্প্রতিককালে ঝিরি-ঝর্ণগুলোর পাথরের ওপর ক্ষমতাসীন প্রভাবশালী মহলের লোলুপ দৃষ্টি পড়েছে। এসব পাথর সরিয়ে নেয়ার জন্য একটি চাঁদাবাজ সিন্ডিকেট সম্ভাব্য উত্তোলনকারীদের থেকে লাখ লাখ টাকা নিচ্ছে বলে জানা গেছে। আলীকদম সেনা বাহিনীর সহায়তায় বন কর্মীরা অবৈধ পাথর উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে মাঝে মধ্যে অভিযান পরিচালনা করছে। সর্বশেষ গত ১১ আগস্ট সেনা সদস্যরা মাতামুহুরী রিজার্ভে পাথর উত্তোলনে নিয়োজিত অনুপ্রবেশকারীদেরকে ধাওয়া করেছে বলে জানা গেছে।
জানা গেছে, ক্ষমতাসীন ও পুঁজিবাদী ঠিকাদার ও ব্যবসায়ীচক্রের কাছে কার্যত স্থানীয় বন বিভাগ অনেকটা অসহায়ত্ববোধ করছে। আলীকদমে জুলাই মাসের মাসিক উন্নয়ন কমিটির সভায় মাতামুহুরী রেঞ্জের বিট কর্মকর্তা তাদের এ অসহায়ত্বের কথা অকপটে স্বীকার করেছেন। তিনি পাথরদস্যুদের রোধে উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতা চেয়েছেন।

একদিকে উন্নয়ন, অন্যদিকে পরিবেশ ও প্রকৃতি রক্ষা- এ বাস্তবতায় রিজার্ভ ভুমির পাথর লুটেরাদের হাতে তুলে না দিয়ে, বন বিভাগ কর্তৃক রাজস্ব আদায় করে ভাসমান পাথর উত্তোলনের সুযোগ দেয়া যেত পারে বলেও মন্তব্য করেন সচেতন মহল।
এ ব্যাপারে মাতামুহুরী রেঞ্জের বিট কর্মকর্তা মাহাবুব আলম বলেন, বিষয়টি আমরা জেনেছি। কিন্তু দুর্গম এলাকা হওয়ায় আমরা পাথর উত্তোলনকারীদেরকে ধরতে পারছিনা। তবে সেনাবাহিনীর সহায়তায় আমরা কয়েকটি ঝিরি পরিদর্শন করে আহরণের নজির পেয়েছি। উপজেলা প্রশাসনের সহায়তাও চাওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।