ফলোআপ : সাপছড়িতে ডাকাতির ৪৮ ঘন্টায় আটক চাকমা যুবকের আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তি

॥ আলমগীর মানিক ॥

রাঙামাটি সদরের সাপছড়ির মনপুরা এলাকার বাসিন্দা জলকুমার চাকমার বাড়িতে ডাকাতির ঘটনায় সরাসরি জড়িত এক চাকমা যুবককে আটক করেছে রাঙামাটির কোতয়ালী থানা পুলিশ। আটকের পর উক্ত যুবকের কাছ থেকে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী গ্রহণ করা হয়েছে।

শনিবার দুপুরে রাঙামাটির অতিরিক্ত চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট সাবরিনা আলী’র আদালতে ওই যুবক ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করে।

এই মামলার আইও কোতয়ালী থানার এসআই আশরাফুল জানিয়েছেন, আটককৃত আসামী ডাকাতি ঘটনায় সরাসরি সম্পৃক্ত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেছে।

রাঙামাটির কোতয়ালী থানার অফিসার ইনচার্জ সত্যজিত বড়ুয়া ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, শুক্রবার রাতে গ্রেফতার হওয়া উক্ত ডাকাতের নাম বিপর্শী চাকমা। সে রাঙামাটির জুড়াছড়ি উপজেলাধীন ধামাইরপাড়া এলাকার জনৈক চন্দ্র কুমার চাকমার সন্তান। ডাকাতের কাছ থেকে ২৫ হাজার টাকা ও একটি স্বর্ণের ও একটি রূপার আংটি উদ্ধার করেছে কোতয়ালী পুলিশ।

পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার দিবাগত গভীর রাতে রাঙামাটি সদর উপজেলার সাপছড়িতে ডাকাতি করতে যায় ছয় ডাকাত। ডাকাতদের সকলেই চাকমা যুবক ছিলো বলে জানিয়েছেন গৃহকর্তা। ডাকাতিকালে এক পর্যায়ে বাড়ীর মালিকের দায়ের কোপে ঘটনাস্থলেই এক ডাকাত সদস্য নিহত হয়। এসময় আহত হয়েছে বাড়ীর মালিক জলকুমার কার্বারী ও তার ছেলে। আহত কার্বারী বর্তমানে রাঙামাটি সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।

এদিকে এই ঘটনায় কোতয়ালী থানায় দন্ডবিধি ৩৯৫ ও ৩৯৭ ধারায় ৬জনকে আসামী করে মামলা করেন আহত গৃহকর্তা জল কুমার কার্বারী। মামলা নাম্বার-১২, তারিখ-৩০/০৮/২০১৮ইং।

কোতয়ালী থানার সেকেন্ড অফিসার এসআই লিমন বোস জানিয়েছেন, উক্ত ঘটনার ৪৮ ঘন্টা সময়ের মধ্যেই আমরা মূল আসামীদের একজনকে এলাকাবাসীর সহায়তায় আটক করতে সক্ষম হয়েছি। তাকে থানায় এনে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে সে স্বীকার করে নেয়।

এদিকে এই মামলার আইও এসআই আশরাফুল জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবারের ডাকাতির ঘটনায় ছয়জন অংশ নিয়েছিলো বলে জানিয়েছে গ্রেফতার হওয়া বিপর্শী চাকমা।

পুলিশ জানায়, সেদিনে ডাকাতির মূল নেতৃত্বে ছিলো নিহত জুড়াছড়ির পানছড়িমুখ এলাকার বাসিন্দা সুশান্ত বিকাশ চাকমা। এই সুশান্ত অস্ত্র মামলাসহ বেশ কয়েকটি মামলার এজাহারভূক্ত আসামী। ডাকাতি করতে যাওয়ার মাত্র তিনদিন আগে সে জামিনে বের হয়েছিলো।

এসআই আশরাফুল জানান, ডাকাতি করতে অন্যদের ডেকে এনেছিলো এক সময়ের পিসিপি নেতা সুশান্ত। ডাকাতিতে অংশ নেওয়া ছয় চাকমা যুবকের মধ্যে একজন এসেছিলো চট্টগ্রাম থেকে। বাকিরা সকলেই জুড়াছড়ির বাসিন্দা। এক প্রশ্নের জবাবে মামলার আইও জানান, তদন্তের স্বার্থে আমরা বাকি পলাতক চার আসামীর নাম প্রকাশ আপাতত করছি না। আসামীদের গ্রেফতারের চেষ্ঠা চলছে বলেও জানিয়েছেন এসআই আশরাফুল।

জল কুমার কার্বারী জানিয়েছেন, ২৯ আগষ্ট বুধবার দিবাগত গভীর রাতে ৬ জনের একটি ডাকাত দল আমাদের বাড়ীতে হামলা চালায়, এসময় সকলকে বেঁধে ফেলে। এক পর্যায়ে আমার বাধন খুলে দিয়ে আলমিরা থেকে টাকা বের করতে বলে।

টাকা দেয়ার পর তারা আমাকে মারতে থাকে এক পর্যায়ে হাতের কাছে দা ছিলো সে দা দিয়ে উপূর্যপরী ডানে-বামে কোপাতে থাকি এবং আমাদের আত্ম চিৎকারে সেনাবাহিনীর ক্যাম্প থেকে সেনাবাহিনীর সদস্যরা আসতে থাকলে ডাকাতরা পালিয়ে যেতে সক্ষম হলে সুশান্ত চাকমা নামে এক ডাকাত দায়ের কোপে গুরুত্বর আহত হয়ে ঘটনাস্থলেই নিহত হয়।