ব-দ্বীপ পরিকল্পনা-২১০০, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় সরকারের মাস্টারপ্ল্যান!

॥ নিজস্ব প্রতিবেদক ॥

দেশের জলবায়ু পরিবর্তন ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ জনিত ঝুঁকি মোকাবেলা এবং আগামী ১০০ বছরে বাংলাদেশকে উন্নয়নের চূড়ায় নিয়ে যেতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও জাতির জনক বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা।

আগামী ২০২১ থেকে ২১০০ সাল পর্যন্ত এ পরিকল্পনার নাম দেয়া হয়েছে ডেলটা প্ল্যান বা ব-দ্বীপ পরিকল্পনা- ২১০০। ১০০ বছরে বাংলাদেশকে কোন পর্যায়ে এগিয়ে নেয়া হবে সেই পরিকল্পনাই হচ্ছে ডেলটা প্ল্যান। এতে ব্যয় হবে ২৯ হাজার ৭৮২ কোটি বাংলাদেশী টাকা। এ পরিকল্পনায় থাকছে ৮০টি প্রকল্প প্রস্তাব। এতে গুরুত্ব পাবে নদী ব্যবস্থাপনা, জলাবদ্ধতা দূরীকরণ, ভূমি উদ্ধার। ব-দ্বীপকে বাঁচিয়ে রাখা, জলবায়ু পরিবর্তন সহ অন্যান্য অভিঘাত থেকে বাঁচাতে এই ডেলটা প্ল্যান। এটি বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের উন্নয়ন আরও ত্বরান্বিত হবে।

এ পরিকল্পনায় বন্যা, নদী ভাঙন, নদী শাসন, নদী ব্যবস্থাপনা, নগর ও গ্রামে পানি সরবরাহ এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, নগর বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও নিষ্কাশন ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘমেয়াদি কৌশল নির্ধারণ করা হবে। নতুন নতুন প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং বিদ্যমান অবকাঠামো উন্নয়ন ও রক্ষণাবেক্ষণের করা হবে। ব-দ্বীপ পরিকল্পনায় নজর দেয়া হবে বন্যা থেকে রক্ষা, নদী ভাঙন, নিয়ন্ত্রণ, নদী শাসন, এবং নাব্যতা রক্ষাসহ সামগ্রিক নদী ব্যবস্থাপনা, নগর ও গ্রামে পানি সরবরাহ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং নগর বন্যা নিয়ন্ত্রণ।

ব-দ্বীপ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়া হবে ছয়টি স্থানকে। এগুলো হলো- উপকূলীয় অঞ্চল, বরেন্দ্র ও খরাপ্রবণ অঞ্চল, হাওর এবং আকস্মিক বন্যাপ্রবণ এলাকা, পার্বত্য অঞ্চল এবং নগর এলাকা। এরইমধ্যে অঞ্চলভেদে আর্থ-সামাজিক বৈষম্য এবং এর সাধারণ ঝুঁকিগুলোও চিহ্নিত করা হয়েছে।

নেদারল্যান্ডস’র ডেলটা ব্যবস্থাপনার অভিজ্ঞতার আলোকে বাংলাদেশ ব-দ্বীপ পরিকল্পনা- ২১০০ প্রণয়ন করা হয়েছে। এই পরিকল্পনা প্রণয়নে দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ করে প্রায় ২ হাজার বিশেষজ্ঞকে এর সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে।