কাপ্তাই হ্রদ থেকে ৪০ দিনে বিএফডিসি’র রাজস্ব আয় সোয়া ৩ কোটি টাকা

॥ আলমগীর মানিক ॥

দেশীয় মাছ উৎপাদনের অন্যতম মিঠা পানির উৎস রাঙামাটির কাপ্তাই হ্রদে বেড়েছে মাছের উৎপাদন। পুরোপুরি প্রাকৃতিক খাদ্যের উপর নির্ভরশীল কাপ্তাই হ্রদে এবছর মাছ ধরা মৌসুমের শুরু থেকেই আশানূরূপ মাছ আহরিত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন রাঙামাটি বিএফডিসির ব্যবস্থাপক নৌ-বাহিনীর কমান্ডার আসাদুজ্জামান-(জি) এএফডব্লিউসি,পিএসসি-বিএন।

এবছর পহেলা আগষ্ট থেকে কাপ্তাই হ্রদে মৎস্য আহরণ শুরু হওয়ার পর অদ্যবদি পর্যন্ত ছয় সপ্তাহে প্রায় সোয়া তিন কোটি টাকা রাজস্ব আদায় করেছে রাঙামাটি বিএফডিসি কর্তৃপক্ষ। সংশ্লিষ্ট্য সূত্রমতে বিগত এবছর এসময়ে রাজস্ব আদায় হয়েছে ২ কোটি ৭০ লাখ টাকা। এখনো পর্যন্ত রাঙামাটির বিএফডিসিতে এটাই সর্বোচ্চ অংকের রাজস্ব আদায়।

বিএফডিসি কর্তৃপক্ষ জানায়, বিগত বছরে পাহাড় ধসের কারণে হ্রদের পানি ঘোলাটে হয়ে গিয়ে পানিতে মাছের জন্য প্রয়োজনীয় অক্সিজেনের পরিমাণ হ্রাস পায়। এতে কেচকি ও চাপিলাসহ বেশ কয়েক প্রজাতির মাছ মরে যায় এবং এদের উৎপাদন হ্রাস পায়। বিএফডিসি কর্তৃপক্ষ জানায়, কেচকি-চাপিলা প্রজাতির মাছ রাজস্ব আয়ের অন্যতম প্রধান উৎস্য। পানির উচ্চতা বৃদ্ধি, ব্যাপক স্রোত এবং দীর্ঘ সময় ধরে হ্রদের পানি অপসারণের জন্য জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের স্পিলওয়ে খুলে রাখা হলে হ্রদের স্বাভাবিক মৎস্য উৎপাদন ব্যাহত হয়।

এসব কারনগুলো চিহ্নিত করে রাঙামাটি বিএফডিসি কর্তৃপক্ষ তাদের চিরায়িত পুরোনো পদক্ষেপগুলো থেকে বের হয়ে এসে নতুন করে পরিকল্পনানুসারে এগুতে থাকে। মৎস্য প্রজনন মৌসুমে অবৈধ মৎস্য আহরণ ও পাচার রোধ, মৎস্য আইন বাস্তবায়ন, কার্প জাতীয় মাছের পোনা অবমুক্তি এবং অভয়াশ্রম ব্যবস্থাপনায় কাপ্তাই হ্রদে মাছের উৎপাদনে বিশেষ ভূমিকা রেখেছে।

এছাড়াও এবছর প্রথমবারের মতো নিজেদের হ্যাচারিতে উৎপাদিত মাছের পোনা কাপ্তাই হ্রদে অবমুক্ত করা হয়। এতে করে অর্থ সাশ্রয়ের পাশাপাশি হ্রদের পানি ব্যবহার করে উৎপাদন করা পোনা মাছ কোনো প্রকার বিনষ্ট ছাড়াই শতভাগ সুস্থাবস্থায় অবমুক্ত করায় কাপ্তাই হ্রদে এবছর বিএফডিসির রাজস্ব আদায় কাঙ্খিত লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএফডিসিসহ স্থানীয় মৎস্য ব্যবসায়িরা। এদিকে, বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা কেন্দ্র (বিএফআরই) এর গবেষণায় এবছর বন্ধ মৌসুমে কাপ্তাই হ্রদের পানিতে মা মাছেরা রেকর্ড সংখ্যক ডিম ছেড়েছে।

সীমিত জনবল নিয়ে বিশাল মৎস্য ভান্ডারখ্যাত কাপ্তাই হ্রদে মাছের উৎপাদন বৃদ্ধিতে ব্যাপক পদক্ষেপ নেয় রাঙামাটি বিএফডিসি। যারফলশ্রুতিতে এবছর মাছের উৎপাদন যেমন বৃদ্ধি পেয়েছে তেমনি রাজস্বও বৃদ্ধি পেয়েছে উল্লেখ করে রাঙামাটির বিএফডিসির ব্যবস্থাপক কমান্ডার আসাদ জানান, পহেলা আগষ্ট থেকে মাছ আহরণ শুরু হওয়ার পর কয়েকটি উৎসবের কারনে কাপ্তাই হ্রদে কয়েকদিন মাছ ধরা বন্ধও ছিলো। যার ফলে মৎস্য অবতরণ ঘাটগুলোতে তেমন একটা মাছ আসেনি।

তাছাড়াও প্রাকৃতিক বৈরি আবহাওয়ার কারনে কাপ্তাই হ্রদের জেলেরা দিনের একটা সময় মাছ আহরণ থেকে বিরত থাকছে। কিন্তু তারপরও মাছ ধরা শুরুর মৌসুম থেকে এখনো পর্যন্ত মাত্র ছয় সপ্তাহ সময়ে প্রায় সোয়া তিন কোটি টাকা রাজস্ব আয় করেছে বিএফডিসি কর্তৃপক্ষ। এটা ভবিষ্যতের জন্য অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক মন্তব্য করে কমান্ডার আসাদ বলেন, এই ধারাবাহিকতায় অব্যাহত থাকলে এবছর কাপ্তাই হ্রদের মৎস্য সম্পদ থেকে বিগত বছরের তুলনায় অনেকাংশ বেশি রাজস্ব আদায় সম্ভব।

এদিকে কাপ্তাই হ্রদ থেকে মাছ ধরে সেগুলো বিএফডিসির মাধ্যমে রয়েলটি প্রদান করে দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠিয়ে বিপুল অংকের রাজস্ব আদায় হলেও স্থানীয় বাসিন্দারা রাঙামাটির স্থানীয় বাজারগুলো থেকে রাজধানীর বাজারগুলো থেকেও দ্বিগুন মূল্যে মাছ কিনতে হচ্ছে। এতে করে স্থানীয়দের মাঝে সঞ্চারিত ক্ষোভ ধীরে ধীরে দীর্ঘায়িত হচ্ছে।

বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন খোদ রাঙামাটির জেলা প্রশাসক। প্রতিবেদকের প্রশ্নের জবাবে জেলা প্রশাসক একেএম মামুনুর রশিদ জানান, রাঙামাটির বাজারে কাপ্তাই হ্রদের মাছের মূল্য অত্যন্ত বেশি। জেলা প্রশাসক হয়েও ঢাকা থেকে অধিক মূল্যে রাঙামাটির বাজার থেকে মাছ কিনে খেতে হচ্ছে। জেলা প্রশাসক বলেন, এই বিষয়টি নিয়ে আমরা জেলা মৎস্য কর্মকর্তাকে দিয়ে একটি কমিটি গঠন করে দিয়েছি। কিন্তু এখনো পর্যন্ত রিপোর্ট দেয় নাই আমাকে। শীঘ্রই এবিষয়টি নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক।