বরকলে ১০ টাকার চালে পোকা : ভুক্তভোগীদের তীব্র ক্ষোভ

॥ নিজস্ব প্রতিবেদক ॥

রাঙামাটির বরকল উপজেলায় স্বল্প আয়ের মানুষের কথা ভেবে খাদ্য মন্ত্রণালয় থেকে ৭৫ মেট্রিক টন নিন্মমানের চাল সরবরাহ করে উপজেলা খাদ্য অফিস। রোববার (৯ সেপ্টেম্বর) খাদ্য গুদামে এসব চাল রাখা হয় বিক্রির উদ্দেশ্য। কিন্তু এখন এসব চাল নিয়ে অভিযোগ উঠেছে যে সরবরাহকৃত নি¤œমানের চালগুলোর অধিকাংশ পোকায় আক্রান্ত হয়ে নষ্ট হয়ে গেছে।

সোমবার (১০ সেপ্টেম্বর) চালগুলো বিক্রির সময় সুবিধা ভোগী এবং ডিলাররা বাক-বিতন্ডায় জড়িয়ে পড়েছে। ভুক্ত ভোগীরা এসব চাল কিনতে অনীহা জানান এবং তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। নিন্মমানের এসব চালগুলো খাবার উপযোগী না হওয়ায় স¦ল্প মূল্যে পেলেও তারা কিনতে নারাজ। ফলে চালগুলো বর্তমানে গুদামে পড়ে আছে।

উপজেলা খাদ্য অফিস জানায়- উপজেলার ৫ ইউনিয়নের মধ্যে বরকল সদর ইউনিয়নে ১৭৬,সুবলং ইউনিয়নে ৩৭৬ আইমাছড়া ইউনিয়নে ২১৬ ভুষণছড়া ইউনিয়নে ৪১২ ও বড়হরিণা ইউনিয়নে ১১২ পরিবারসহ উপজেলার মোট এক হাজার দুইশো ৯৩জন স্বল্প আয়ের পরিবার ১০টাকা কেজি ধরে সর্বোচ্চ ৩০ কেজি করে এসব চাল সংগ্রহ করতে পারবে।

উপজেলা খাদ্য বান্ধব প্রকল্পের ডিলার মো. তমীর আলী ও বিরোজয় চাকমা জানান, সরকারের চাল পোকা ধরলেও আমাদের নিতে হয়। আমাদের অভিযোগের কোন গুরুত্ব নেই খাদ্যে গুদাম কর্তৃপক্ষের কাছে। কর্তৃপক্ষ আমাদের যা দেন তা নিয়ে সন্তোষ্ট থাকতে হয়।

উপজেলা খাদ্য প্রকল্পের চাউল সরবরাহকারী ঠিকাদার মো. আলমগীর হোসেন জানান- জেলা সদরের খাদ্য গুদাম থেকে চালগুলো উপজেলা খাদ্য গুদামে সরবরাহ করা এটি তার কাজ। চালের মান যাছাই করা তার কাজ নয় বলে জানান তিনি।

উপজেলা খাদ্য গুদামের ওসিএলএসডিও নিশান চাকমা বলেন- সরবরাহকৃত চালগুলোর মধ্যে কিছু ভালো কিছু মন্দ রয়েছে। তবে সব চাল তিনি দেখেননি বলে যোগ করেন তিনি।

এ ব্যাপারে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মন্টু মনি চাকমা নিন্মমানের চালের বিষয়টি স্বীকার করে জানান- সরকার বিভিন্ন জায়গা থেকে চাল ক্রয় করায় চালগুলো ভালো-মন্দ হয়। এছাড়া কিছু কিছু ক্ষেত্রে প্রশাসনিক জটিলতার কারনে ও এসব সমস্যা সৃষ্টি হয়। এতে তাদের কিছুই করার নেই বলে যোগ করেন তিনি।