বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে অভিভাবকদের দুর্দশা লাঘবে জেলা প্রশাসকের প্রশংসনীয় উদ্যোগ

॥ আলমগীর মানিক ॥

প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়ে ছোট শিশুরাই। শহরের রাস্তা পেরিয়ে শিশুদের স্কুলে আসাটা যেমন ভীতিকর তেমনি আশঙ্কাজনকও বটে। তাই বেশিরভার অভিভাবকদের সাধারণ বাচ্চাদের স্কুলের জন্য ছাড়তে ভয় পায়।

রাঙামাটি শহরের প্রধান সড়কের সাথে লাগোয়া কাঠাঁলতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশুরাতো আরো ঝুঁকিতে। এই শিশুদের বিদ্যালয়ে নিয়ে এসে আবার তাদের নিরাপদে ঘরে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য মূল কষ্টটা করেন মায়েরাই। কিন্তু এসব মা বা অভিভাবকদের সময় কাটানোর জন্য দেশের বেশিরভাগ বিদ্যালয়েই তেমন কোনো ব্যবস্থা রাখা হয় না।

কাঠাঁলতলী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অভিভাবকরা তাদের অভিভাবক মনে করে ডিসিকে বিষয়টি জানিয়েছিলেন, এর আগে তিনি যখন বিদ্যালয় পরিদর্শনে আসেন। বিষয়টি গুরুত্বের সাথে নিয়ে জেলাপ্রশাসক অভিভাবকদের দুঃখ ঘোচাতে পিছপা হননি।

সোমবার সকালে কাঠালতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সেই অভিভাবক সেডটি উদ্বোধন করলেন রাঙামাটি জেলা প্রশাসক একএম মামুনুর রশীদ।

এসময় রাঙামাটি সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুমনী আক্তার, অত্র স্কুলের প্রধান শিক্ষক বদিউল আলমসহ স্কুলের অন্যান্য শিক্ষক-শিক্ষিকা, শিক্ষার্থী এবং শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা উপস্থিত ছিলেন।

উদ্বোধনকালে ডিসি মামুন বলেন, গত ১৪মার্চ রাঙামাটিতে বদলী হয়ে এসে কাঠালতলী স্কুল পরিদর্শনে আসি। এসময় স্কুলের শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের দাবি ছিলো এ স্কুলে একটি অভিভাবক শেড নির্মাণের। তাদের দাবির ভিত্তিতে এ শেড নির্মাণ করা হয়েছে।

উ্েদ্বাধনের পরে তিনি অভিভাবকদের সাথে কথা বলেন এবং বিদ্যালয় সম্পর্কে তাদের মতামত জানতে চান। এ সময় অভিভাবকরা ডিসির কাছে দাবি তুলেন, এ স্কুলটি একটি ঐতিহ্যবাহী স্কুল। স্কুলটি অতীতে প্রাইমারী- হাই স্কুল ছিলো। তাই অতীতের ন্যায় স্কুলটিতে আবার যেন হাইস্কুল চালু করা যায় সে দাবি তুলে ধরেন।

এছাড়া অভিভাবক শেডে ফ্যানের ব্যবস্থা এবং স্কুল সড়ক সংস্কার করার জন্য জোর দাবি জানান। জেলা প্রশাসক সকলের দাবির কথা শুনেন এবং পর্যায়ক্রমে সকল দাবি পূরণ করা হবে আশ্বস্থ করেন। আলোচনা শেষে ডিসি স্কুলের শ্রেণী কার্যক্রম পরিদর্শন করেন এবং স্কুলের সার্বিক পরিস্থিতি দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেন।