“অরণ্য সুন্দরীর দর্শনে হারিয়ে যাওয়া ৪কিশোরকে অভিভাবকদের হাতে তুলে দিলো পুলিশ”

॥ আলমগীর মানিক ॥

কক্সবাজার থেকে রোববার বিকেলে নিখোঁজ হওয়া চার শিক্ষার্থী জেলার বাজার ঘাট এলাকার এ্যাডভোকেট আব্দুল আমিনের ছেলে মো. গালিব, উত্তর রোমানিয়া ছড়া এলাকার জহির আহম্মেদের ছেলে সৈয়দ নকিব, চকরিয়া উপজেলার দরবেশ পাড়ার ফয়েজ উদ্দীনের ছেলে শাফিনুর ইসলাম শাফিন এবং মহেশখালী উপজেলার ফকিরা পাড়ার আকতার কামালের ছেলে শাহরিয়ার কামাল আকিবকে সোমবার দুপুরে রাঙামাটি শহর থেকে উদ্ধারের পর তাদের অভিভাবকদের হাতে তুলে দিয়েছে রাঙামাটি কোতয়ালী থানা পুলিশ।

অরন্য সুন্দরীর প্রেমে পড়ে তার দর্শনে কাউকে নাজানিয়ে পালিয়ে আসা এই চার কিশোরকে উদ্ধারের পর অবশেষে সোমবার দিবাগত রাত সাড়ে এগারোটার সময় অভিভাবকদের কাছে বুঝিয়ে দিয়েছে রাঙামাটি কোতয়ালী থানা পুলিশ। রাতে সুদূর কক্সবাজার থেকে আসা চার অভিভাবকের হাতে তাদের “নিখোঁজ” সন্তানদের তুলে দেওয়া হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন কোতয়ালী থানার অফিসার ইনচার্জ সত্যজিৎ বড়ুয়া।

যান্ত্রিক জীবনের কারাগারে বন্দি থাকা এই চার কিশোরের মনে প্রেম জাগ্রত হওয়ায় তারা অভিভাবকদের কিছু না জানিয়ে অরন্য সুন্দরীর সাথে সাক্ষাতে পার্বত্য জেলা রাঙামাটিতে চলে অাসে।

রোববার সন্ধ্যায় শহরের রিজার্ভ বাজারস্থ আবাসিক হোটেল রাজু’তে রুম নেয়। কিন্তু কিশোর সন্তানের মনে প্রকৃতি প্রতি প্রেম জাগ্রত হয়েছে এমন কোনো ইঙ্গিতই পেলেন না উক্ত চার কিশোরের পিতা-মাতা। তাইতো তারা সন্তান নিখোঁজের তথ্যদিয়ে অভিযোগ দায়ের করলো কক্সবাজার থানায়।

এরপরই অন্যরকম ঘটনাবহুল পরিস্থিতি কিশোরদের প্রেমে ব্যাঘাত ঘটিয়ে দিলো। কক্সবাজার আর রাঙামাটির স্থানীয় সংবাদকর্মীসহ পুলিশের তৎপরতায় অবশেষে ২৪ ঘন্টা সময়ের মধ্যেই হোটেলের রুম থেকে উদ্ধার করে সোজা নিয়ে যাওয়া হয় কোতয়ালী থানায়।

এমনিতর পরিস্থিতিতে গোবেচারা টাইপের হয়ে গেলো উক্ত চার কিশোর। কোনোভাবেই যেন এই পরিস্থিতিটা তাদের কাঙ্খিত ছিলো না।

এদিকে, অভিভাবকরা সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত খবর আর পুলিশের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে বুকের ধনকে ফিরে পেতে সোমবার বিকেলে রওয়ানা দিয়ে রাত ১০টা এসে পৌছান রাঙামাটি কোতয়ালী থানায়। অবশেষে আনুষ্ঠানিকতা সেরে রাত সাড়ে এগারোটার সময় অভিভাবকদের হাতে উদ্ধারকৃত চার কিশোরকে তুলে দিয়ে যেন হাফ ছেড়ে বাঁচলো পুলিশ। উদ্ধার হওয়া চার কিশোরের মধ্যে গালিব জানায়, আমরা মূলতঃ রাঙামাটিতে এসেছিলাম প্রকৃতি দেখতে। কিন্তু আমাদের দেখা হলো না।

এদিকে অভিযোগের মাত্র ২৪ ঘন্টা সময়ের মধ্যেই কক্সবাজার ও রাঙামাটি পুলিশসহ স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের ব্যাপক তৎপরতায় বুকের ধনকে ফিরে পেয়ে আল্লাহর দরবারে শোকর আদায়ের পাশাপাশি পুলিশ ও সাংবাদিকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন এ্যাডভোকেট আব্দুল আমিন।

উল্লেখ্য, কক্সবাজার থেকে রোববার সকালে গালিব, নকিব, শাফিন এবং আকিব স্কুলে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়ে রাঙামাটিতে চলে আসে। এদিকে সন্তানরা ঘরে না ফেরায় তাদের মা-বাবা চারদিক খবর নিতে শুরু করে এবং কক্সবাজার থানাকে এ ব্যাপারে অবগত করে। এ ঘটনায় গণমাধ্যমে একাধিক সংবাদ প্রকাশিত হয়। গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হওয়ায় রাঙামাটি পুলিশও অভিযানে নেমে উক্ত দূরন্ত চার কিশোরকে উদ্ধার করে।