দেশের ক্ষুদ্র জাতিসত্তাসমূহের অস্তিত্ব ধ্বংসে নানান চক্রান্ত করছে আঃলীগ সরকারঃ পিসিপি

॥ প্রেস বিজ্ঞপ্তি ॥

আওয়ামী লীগ সরকার দেশের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র জাতিসত্তাসমূহের অস্তিত্ব ধ্বংস করতে নানান চক্রান্ত করে যাচ্ছে। সংবিধানে জাতিসত্ত্বা স্বীকৃতি না দিয়ে পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে জাতির নিজস্ব পরিচয় মুছে দিয়ে বাঙ্গালী জাতীয়তা চাপিয়ে দেওয়া ও সংখ্যালঘু জাতিসমূহের জন্য বিশেষ কোটাকেও বাতিলের জন্য আরো নতুন করে ষড়যন্ত্র শুরু করেছে। সেই জন্য নিজেদের ন্যায্য দাবি আদায়ের জন্য দেশের সকল নিপীড়িত জাতি ও জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে সরকারের এই জাতি ধ্বংসের ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে রুখে দাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ (পিসিপি) নেতৃবৃন্দরা। ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৮ মহান শিক্ষা দিবস উপলক্ষে খাগড়াছড়ি জেলা দীঘিনালা উপজেলায় পিসিপি দীঘিনালা উপজেলা শাখার উদ্যোগে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তারা এই আহ্বান জানান।

সকল জাতিসত্ত্বা সমূহের ন্যায্য কোটা বাদ দেয়ার ষড়যন্ত্র বন্ধ কর! পিসিপি নেতা তপন-এল্টন গনতান্ত্রিক যুব ফোরামের নেতা পলাশ চাকমাসহ ৭ জনের হত্যাকারী জেএসএস (সংস্কার) ও নব্য মুখোশ সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার এবং তাদের মদদ দাতা নিরাপত্তাবাহিনী ও প্রশাসনের কর্মকর্তাদের শাস্তির দাবিতে মঙ্গলবার (১১ সেপ্টম্বর ২০১৮) সকাল সাড়ে ১০টায় দীঘিনালা উপজেলা সদর দীঘিনালা ইউনিয়নের পুকুরঘাট প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে এই বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

সমাবেশে পিসিপি’র দীঘিনাল উপজেলা শাখার অর্থ সম্পাদক মিঠুন চাকমার সভাপতিত্বে, দীঘিনালা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক তুজিম চাকমার সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন গণতান্ত্রিক যুব ফোরামের দীঘিনালা উপজেলা শাখার সহ-সভাপতি রিটেন চাকমা, পিসিপি দীঘিনালা কলেজ শাখার সভাপতি রিটেন চাকমা ও বাবুছড়া কলেজ শাখার সাধারণ সম্পাদক নীল রতন চাকমা প্রমূখ।

সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, বর্তমান সরকার সরকার দেশের ৪৫টি’র অধিক ক্ষুদ্র ক্ষদ্র জাতিসত্তাসমূহের অস্তিত্ব ধ্বংস করার জন্য প্রতিনিয়ত একের পর এক ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছে। যে জায়গায় পিছিয়ে পড়া জাতিদের শিক্ষা ব্যবস্থা উন্নতি ও কৃষ্টি-সংস্কৃতি সংরক্ষণের জন্য সহায়তা দেওয়া দরকার সেই জায়গায় এখন তাদের ন্যায্য কোটা বাতিল করে কোটা ভিত্তিক সুযোগ-সুবিধাকে কেড়ে নেওয়ার পায়তারা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ করেন।

বক্তারা আরো বলেন, বর্তমান ফ্যাসিস্ট আওয়ামি লীগ সরকার পার্বত্য চট্টগ্রামের তাদের রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের জন্য পাহাড়িদের কতিপয় দালাল-সুবিধাবাদী প্রতিক্রিয়াশীল গোষ্ঠীদের ব্যবহার করছে। পাহাড়ে নিরাপত্তাবাহিনীর শাসন জারি রেখে সরকার অন্যায়ের বিরুদ্ধে আন্দোলনকারী মুক্তিকামী জনতার উপর দমন-পীড়ন, হামলা, বাড়ি ঘরে তল্লাশি চালাচ্ছে, গণতান্ত্রিক মিছিল মিটিং-সভা সমাবেশের অধিকারকে খর্ব করছে। সংঘাত জিয়ে রেখে আবারো নতুন করে নিরাপত্তাবাহিনীর ক্যাম্প সম্প্রসারণের চেষ্টা চলছে। ১৮ আগস্ট খাগড়াছড়ি শহরে নিরাপত্তা বেষ্টনিতে নিরাপত্তাবাহিনী-প্রশাসনের মদদে সংস্কার-নব্য মুখোশ সন্ত্রাসীরা পিসিপি যুব ফোরামের ৩ নেতাসহ ৭ জনকে হত্যা করিয়েছে।

সমাবেশ থেকে বক্তারা, সরকারে জাতি ধ্বংসের বিরুদ্ধে ছাত্র সমাজসহ দেশের সকল নিপীড়িত জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে রুখে দাঁড়িয়ে নিজেদের বেঁচে থাকার অধিকারের জন্য ও অস্তিত্ব রক্ষার্থে লড়াই সংগ্রামকে জোরদার করতে আহ্বান জানান। অবিলম্বে সকল জাতিসত্তাসমূহের ন্যায্য কোটা বহালসহ ছাত্র নেতা তপন, এল্টন, যুব নেতা পলাশ চাকমাসহ ৭ জন হত্যাকারী সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার ও তাদের মদদ দাতা নিরাপত্তাবাহিনী-প্রশাসনের কর্মকর্তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।