পার্বত্য অঞ্চলের সকল ভাষাভাষীদের উন্নয়নে কাজ করছে সরকার: বীর বাহাদুর

॥ নিজস্ব প্রতিবেদক ॥

১৫ই সেপ্টেম্বর বেলা ১১.০০ ঘটিকায় পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃক বাস্তবায়িত খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার সদরের কেন্দ্রীয় শাহী জামে মসজিদ (২য় ও ৩য় তলা) এবং বেলা ১১.৩০ ঘটিকায় পানখাইয়া পাড়ায় মারমা কমিউনিটি সেন্টার নির্মাণ কাজের শুভ উদ্বোধন করেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী জনাব বীর বাহাদুর উশৈসিং, এম.পি। এ সময় খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার শরণার্থী বিষয়ক টাস্কফোর্স এর চেয়ারম্যান (প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদা) জনাব কুজেন্দ্রলাল ত্রিপুরা, এম.পি এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের মাননীয় চেয়ারম্যান জনাব নব বিক্রম কিশোর ত্রিপুরা, এনডিসি, ভাইস-চেয়ারম্যান জনাব তরুণ কান্তি ঘোষ, খাগড়াছড়ি সদরের রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হামিদুল হক, খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জনাব কংজরী চৌধুরী, জেলা প্রশাসক, খাগড়াছড়ি জনাব মো: শহিদুল ইসলাম, নব যোগদানকৃত পুলিশ সুপার জনাব মোহা: আহমার উজ্জামান, পৌর মেয়র জনাব রফিকুল আলমসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিগণ উপস্থিত ছিলেন। খাগড়াছড়ি কেন্দ্রীয় শাহে জামে মসজিদ (২য় ও ৩য়) তলা নির্মাণ কাজে ব্যয় হয়েছে ৯০ লক্ষ টাকা এবং মারমা কমিউনিটি সেন্টার নির্মাণ কাজের ব্যয় হয়েছে ২৩৫ লক্ষ টাকা।

পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং এমপি বলেছেন, পার্বত্য অঞ্চলের সকল ভাষাভাষীদের উন্নয়নে কাজ করছে সরকার। অসাম্প্রদায়িক এ বাংলাদেশের সকল জনগোষ্ঠি স্ব-স্ব ভাষা নিয়ে গর্বের সাথে বেঁচে থাকবে। ভাষা ও সংস্কৃতি রক্ষায় প্রয়োজনে পাশে আছে পার্বত্য মন্ত্রনালয়। বঙ্গবন্ধুর সু-যোগ্য কন্যার প্রচেষ্টায় এগিয়ে চলেছে বাংলাদেশ উল্লেখ করে বীর বাহাদুর বলেন, ভাষা-সংস্কৃতি রক্ষায় উদ্যোগ নিতে হবে সকল সম্প্রদায়কে। উপজাতীয়দের ভাষা উচ্চারণের ক্ষেত্রেও প্রয়োজন প্রশিক্ষণ। পাহাড়ের মানুষ বোঝা নয়, সম্পদ। আর সে সম্পদ হিসেবে নিজেদের গঠে তুলতে হবে। তবেই বোঝা, সম্পদে রূপান্তরিত হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন। সকল ভাষাভাষীর জন্য বঙ্গবন্ধু এদেশকে স্বাধীন করেছেন। তারই ধারাবাহিকতায় শিক্ষা ক্ষেত্রকে এগিয়ে নিয়ে চলেছে বঙ্গবন্ধু কণ্যা শেখ হাসিনা। তাই সকল সম্প্রদায়ের অভিভাবকরা নিজেদেও সন্তানদের সুশিক্ষায় শিক্ষিত করে গড়ে তুলতে হবে বলে প্রতিমন্ত্রী মন্তব্য করেন।

সভাপতি মহোদয় তিন পার্বত্য জেলার জেলা প্রশাসকগণকে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃক বাস্তবায়িত/বাস্তবায়নাধীন প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করার জন্য পুন:আহবান জানান। ২০১৮-১৯ অর্থ বছরের গৃহীত প্রকল্প/স্কিমসমূহ যথাসময়ে সমাপ্ত করা জন্য সংশ্লিষ্ট সকলকে তিনি নিদের্শনা দেন। এছাড়াও তিনি পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের অর্থায়নে তিন পার্বত্য জেলায় তিনটি “ওয়াচ টাওয়ার” নির্মাণ করার জন্য প্রকল্প গ্রহনের নিমিত্ত সংশ্লিষ্টদের অনুরোধ জানান।

সভায় বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলীগণ ২০১৭-১৮ অর্থ বছরের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের অগ্রগতি পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে উপস্থান করেন। এছাড়াও সোলার প্যানেল প্রকল্প, উন্নত জাতের বাঁশ উৎপাদন প্রকল্প, গাভী বিতরণ প্রকল্প, রাবার প্রকল্প এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম এলাকায় টেকসই সামাজিক সেবা প্রদান প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালকগণ সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের অগ্রগতি সম্পর্কে সভায় উপস্থাপন করেন।

সভায় পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের মাননীয় ভাইস-চেয়ারম্যান জনাব তরুণ কান্তি ঘোষ (অতিরিক্ত-সচিব), সদস্য-অর্থ জনাব শাহীনুল ইসলাম (যুগ্মসচিব), সদস্য-প্রশাসন জনাব আশীষ কুমার বড়ুয়া (যুগ্মসচিব), বোর্ডের সদস্য-পরিকল্পনা ড. প্রকাশ কান্তি চৌধুরী (উপসচিব), সদস্য-বাস্তবায়ন জনাব মোহাম্মদ হারুন-অর-রশীদ, বান্দরবান পার্বত্য জেলার জেলা প্রশাসক জনাব মো: আসলাম হোসেন, খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার জেলা প্রশাসক জনাব মো: রাশেদুল ইসলাম, রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলার জেলা প্রশাসক জনাব এ কে এম মামুনুর রশিদ, বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের প্রতিনিধি মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা জনাব মোহাম্মদ শহীদুল আলম, রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের প্রতিনিধি সদস্য জনাব স্মৃতি বিকাশ ত্রিপুরা, খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদের প্রতিনিধি নির্বাহী কর্মকর্তা জনাব টিটন খীসা, বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলীগণ এবং উঁচুভূমি বন্দোবস্তীকরণ রাবার বাগান ব্যবস্থাপনা কমিটি জেনারেল ম্যানেজার (ভারপ্রাপ্ত) জনাব পুষ্প বিকাশ চাকমা এবং বোর্ডের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।