এলায়েন্স হেলথ কেয়ার সেন্টারের ব্যাখ্যা

॥ নিজস্ব প্রতিবেদক ॥

রাঙামাটি শহরের বেসরকারি ক্লিনিক এলায়েন্স হেলথ কেয়ার সেন্টার এ অবহেলায় নবজাতকের মৃত্যু নিয়ে সিএইচটি টাইমস টোয়েন্টিফোর ডটকম এ প্রকাশিত সংবাদটি সংশ্লিষ্ট্য কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষিত হয়েছে উল্লেখ করে উক্ত বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে সংবাদ মাধ্যমে ব্যাখ্যা পাঠানো হয়েছে।

এলায়েন্স এর পরিচালক ডাঃ ক্যয়েং চাক কেটি উক্ত ব্যাখ্যায় উল্লেখ করেন, প্রকাশিত প্রতিবেদনে রোগীর অভিভাবক সুজন চাকমা যে বক্তব্য প্রদান করেছেন সে ধরনের কোনো পরিস্থিতি বা ঘটনা ঘটেনি। উক্ত রোগী ভর্তি হওয়ার পর হতে ক্লিনিকের কাছ থেকে প্রাপ্য প্রয়োজনীয় সকল সেবা তাকে প্রদান করা হয়েছে এবং যথা সময়েই সেটি করেছে এলায়েন্স হেলথ কেয়ার কর্তৃপক্ষ।

ডাঃ কেটি জানান, কোনো প্রতিষ্ঠান বা তার কর্তৃপক্ষই চায় না একজন রোগী বা সেবা প্রার্থীকে তার কাঙ্খিত সেবা থেকে বঞ্চিত করতে। তেমনিভাবে এলায়েন্স কর্তৃপক্ষও সেরকম কিছুই করেনি।

আমরা যদি এতোটাই ব্যবসায়িক মনোভাবাপন্ন হতাম তাহলে কোনো প্রকার বিল পরিশোধ ছাড়াই উক্ত রোগীর স্বজনকে রোগি নিয়ে চট্টগ্রাম নিয়ে যেতে দেয়া হতো না। এছাড়াও রোগীকে নিয়ে যাওয়ার সময় বেসরকারি প্রতিষ্ঠান হওয়া সত্বেও গ্রাহক সেবা তথা মানবিক দিক বিবেচনায় আমাদের অক্সিজেন সিলিন্ডারটিও সাথে দিয়ে দেওয়া হয়। এক্ষেত্রে কোনো প্রকার বিল গ্রহণ করা হয়নি। বর্তমান প্রেক্ষাপটে এই ধরনের নজির তেমন একটা নাই বললেই চলে। ঘটনার চারদিন পরে নিজে স্বশরীরে এসে আমাদেরকে পাওনা বকেয়া পরিশোধ করেছেন জনাব সুজন চাকমা।

ব্যাখ্যায় এলায়েন্স পরিচালক উল্লেখ করেন, উক্ত ঘটনার পর সুজন চাকমা এলায়েন্স হেলথ কেয়ার সেন্টার এর সেবা সম্পর্কে তার অসন্তোষের কারণ উল্লেখ পূর্বক প্রতিষ্ঠানটির উদ্বর্তন কর্তৃপক্ষের কাছে কোনো প্রকার অভিযোগ বা আপত্তি জ্ঞাপন করেননি। তিনি নিজেই এসে তার বকেয়া বিলগুলো পরিশোধ করে যান।

সেবার মান নিয়ে যদি কেউ সংক্ষুব্ধ হয়ে থাকে তাহলে উক্ত প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষ বরাবরে একটি অভিযোগ প্রদান করলে সে বিষয়ে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে এলায়েন্স কর্তৃপক্ষ বরাবরের মতোই সচেষ্ট বলেও মন্তব্য করে ডাঃ ক্যয়েং চাক বলেন, আমাদের প্রতিষ্ঠানের সুনাম ক্ষুন্নের অংশ হিসেবে এই ধরনের একটি সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে তা যথাযথ তথ্য নির্ভর হয়নি। এটা অত্যন্ত দুঃখজনক।

ব্যাখ্যায় দাবি করা হয়, রাঙামাটির স্বনামধ্যন বেশ কয়েকজন ডাক্তার ও সমাজসেবীর যৌথ পরিচালনায় নিয়ন্ত্রিত মূল্যে প্রার্ন্তিক জনগোষ্ঠির স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে চলতি বছরের পহেলা এপ্রিল থেকে যাত্রা শুরু করা এলায়েন্স হেলথ কেয়ার সেন্টারটিতে এখন পর্যন্ত প্রতিমাসে গড়ে একশোর রোগি তাদের কাঙ্খিত সেবা গ্রহণ করছে।

মূলতঃ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানগুলোতে সঠিকমানের স্বাস্থ্য সেবা নাপেয়ে কাঙ্খিত স্বাস্থ্য সেবা প্রাপ্তির লক্ষ্য নিয়েই এসব রোগী বিভিন্ন স্থান থেকে আমাদের এখানে আসে। অত্রাঞ্চলের জনগণের সার্বিক জীবন ব্যবস্থার কথা বিবেচনায় নিয়েই এলায়েন্স কর্তৃপক্ষ তাদের প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করছে বলেও উল্লেখ করা হয় ব্যাখ্যা পত্রে।

প্রতিবেদকের বক্তব্য: উক্ত প্রতিবেদনটি সরেজমিনের উপস্থিত হয়ে যথাযথ নিয়ম অনুসরনপূর্বক প্রকাশ করা হয়েছে। প্রতিবেদক উক্ত রিপোর্টের তথ্য সংগ্রহের সময় এলায়েন্স হেলথ কেয়ার সেন্টারসহ উক্ত পরিচালকের অপর আরো একটি প্রতিষ্ঠানে সরেজমিনে উপস্থিতিসহ মুঠোফোনে যোগাযোগের যথেষ্ট চেষ্ঠা করা হয়েছে কিন্তু রিসিপসনে থাকা দায়িত্বরতদের অসহযোগিতার কারনে পরিচালক তথা প্রশাসনিক কতৃপক্ষের বক্তব্য নেওয়া সম্ভবপর হয়নি।

কিন্তু এক্ষেত্রে এলায়েন্স হেলথ কেয়ার সেন্টারে কর্তব্যরত একজন নারীকর্মীর (যিনি উক্ত রোগীর স্বজনকে টাকা গ্রহণের স্লিপ প্রদান করেছেন।) বক্তব্য নিয়ে সেটি রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে। ব্যক্তিগত আক্রোশের বশবর্তি না হয়ে প্রকাশিত রিপোর্টটিতে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে সাদাকে সাদা আর কালোকে কালো হিসেবেই সমস্ত তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।