নানিয়ারচরে দুই হত্যাকান্ড নিয়ে মামলা করছেনা স্বজনরা!

॥ নিজস্ব প্রতিবেদক ॥

ঘটনার পর গত তিনদিনেও মামলা নেই রাঙামাটির নানিয়ারচরে দুই হত্যাকান্ডে। বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে উপজেলার সদর ইউনিয়নের রামসুপারি পাড়ায় আকর্ষণ চাকমা (৪০) ও শ্যামল কান্তি চাকমা ওরফে সুমন্ত (৩৮) নামে দুই জনকে গুলিতে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। শুক্রবার ঘটনাস্থল থেকে লাশ দুটি উদ্ধার করে রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পোস্টমটেম শেষে শ্যামল কান্তির বড়ভাই বিনয় চাকমার হেফাজতে লাশ দুটি হস্তান্তর করে নানিয়ারচর থানা পুলিশ। এর আগে নানিয়ারচরে পৃথক দুই ঘটনায় উপজেলা চেয়ারম্যান শক্তিমান চাকমাসহ ৬ জনকে গুলি করে হত্যা করে সন্ত্রাসীরা। ৩ মে উপজেলা চেয়ারম্যান শক্তিমানকে এবং পরদিন শক্তিমানের শেষকৃত্যে যাওয়ার পথে ইউপিডিএফ গণতান্ত্রিক গ্রুপের প্রধান তপন জ্যোতি চাকমা ওরফে বর্মাসহ ৫ জনকে ব্রাশফায়ারে হত্যা করা হয়। এর ৫ মাসের মাথায় এবার গুলিতে নিহত হলেন দুই জন। এবার নিহত আকর্ষণ ও শ্যামল কান্তি জেএসএস সংস্কারবাদী দলের কর্মী ছিলেন। দলটি ছেড়ে ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটি ফ্রন্টের (ইউপিডএিফ) আশ্রয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফেরায় তাদেরকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয় জানা গেছে। কিন্তু সন্ত্রাসীদের হুমকিতে এ দুই জনকে হত্যার ঘটনায় কেউ মামলা দিতে পারছেন না বলে জানায়, স্থানীয় সূত্রগুলো। নানিয়ারচর থানা পুলিশ বলছে, নিহতদের পরিবারের কেউ মামলা দিতে না গেলে এ দুই হত্যাকান্ডে পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করবে।

নানিয়ারচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবদুল লতিফ বলেন, আমরা মামলার অপেক্ষায় আছি। রোববার পর্যন্ত এ দুই হত্যায় কেউ মামলা দিতে যায়নি। তাদের পরিবারের কেউ মামলা না করলে পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করবে। শুক্রবার ওই দু’জনের লাশ উদ্ধার করে রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পোস্টমর্টেম শেষে নিহত শ্যামল কান্তির বড় ভাই বিনয় চাকমার কাছে লাশ দুটি হস্তান্তর করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, ঘটনার রাতে ওই পাড়ার একটি বাড়িতে অবস্থানকালে একদল সশস্ত্র সদস্য সেখানে গিয়ে অতর্কিত হানা দিয়ে আকর্ষণ ও শ্যামল কান্তিকে গুলি করে হত্যার পর পালিয়ে যায়। নিহতরা জেএসএস সংস্কারবাদী দল ত্যাগ করে ইউপিডিএফ-এ গিয়ে আশ্রয় নিয়েছিলেন। স্থানীয়দের ধারণা দল ত্যাগ করায় তাদেরকে হত্যা করা হতে পারে।