ব্রেকিং নিউজ

রাঙামাটি সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক কোয়ার্টারে ধারাবাহিক চুরি!

॥ সৌরভ দে ॥

রাঙামাটি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক কোয়ার্টারে জানালার গ্রিল এবং দরজা ভেঙ্গে রুমের ভেতরে ঢুকে দুই শিক্ষকের নগদ ২৫ হাজার টাকা ও ১৫ হাজার টাকা সমমূল্যের স্বর্ণালংকার নিয়ে গেছে চোর। এ ঘটনায় এক শিক্ষক রাঙামাটি কতোয়ালী থানায় মামলাও করেছেন।

রাঙামাটি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের সমাজ বিজ্ঞানের শিক্ষক মিঃ হাবিবুল্লাহ জানান, তিনি ব্যক্তিগত কিছু কাজে রাঙামাটির বাইরে ছিলেন, ২১ সেপ্টেম্বর শুক্রবার তিনি কোয়ার্টারে ফিরে দেখেন তার টয়লেটের লোহার গ্রিল ভেঙ্গে কে বা কারা তার শখের মিনি ব্যাংক ভেঙে প্রায় ২৫০০টাকা নিয়ে গেছে। অন্যদিকে একই বিদ্যালয়ের শিক্ষক মিঃ রহমত উল্লাহ জানান, তিনি ১৬-১৭ সেপ্টেম্বর পারিবারিক একটি অনুষ্ঠানের কারণে চট্টগ্রামে অবস্থান করছিলেন এমন সময় ১৭ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে নয়টায় বিদ্যালয়ের বাস হেল্পার ও প্রতিবেশী উজ্জ্বল বড়ুয়া তাকে ফোন দিয়ে জানায় যে তার বাসার দরজা ভাঙা এবং ভিতরে কাপড় চোপড় এলোমেলো। রাতে রাঙামাটি ফিরতে না পেরে তিনি পরদিন ১৮ সেপ্টেম্বর সকালে কোয়ার্টারে ফিরে দেখেন তার ড্রয়ারের লক ভেঙে প্রায় ২৩ হাজার টাকা নগদ এবং ১৫ হাজার টাকার সম মুল্যের স্বর্ণের নাকফুল ও কানের দুল চুরি করে নিয়ে গেছে চোর। উক্ত ঘটনায় তিনি বাদী হয়ে ওইদিনই রাঙামাটি কোতয়ালী থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন।

কাউকে সন্দেহ করেন কিনা এমন প্রশ্নের উত্তরে মিঃ রহমত উল্লাহ বলেন, বেশ কয়েক বছর আগে কোয়ার্টারের পার্শ্ববর্তী লেক পাহাড়া দেওয়ার জন্য একটি পরিবারকে অল্প একটু জায়গা দেওয়া হয়। পরবর্তীতে উক্ত পরিবারটি ওই জায়গাটিতে স্থায়ীভাবে বসবার শুরু করে। ওই পরিবারের সদস্যরা এই কুকর্মটি করেছে বলে তিনি মনে করেন। এর কারণ হিসেবে তিনি বলেন, উক্ত পরিবারের মহিলাটির সামনেই তিনি ড্রয়ারে টাকাগুলো রেখেছিলেন। সুতরাং ড্রয়ারে যে টাকা আছে সেটা ওই মহিলা ছাড়া বাইরের আর কেউই জানে না। তিনি আরো বলেন, ড্রয়ারের পাশের টেবিলে ল্যাপটপ, টিভিসহ আরো বহু মূল্যবান জিনিস ছিল কিন্তু চোর সবকিছু ছেড়ে শুধুমাত্র ওই নগদ টাকা আর টাকার সাথে থাকা স্বর্ণালংকার ছাড়া আর কিছুই নেয়নি।

শিক্ষক কোয়ার্টারে চুরি নতুন নয় উল্লেখ করে উভয় শিক্ষক জানান, এই ধরণের চুরি এর আগেও বহুবার হয়েছে। এইসব চুরি অধিকতর সহজ হওয়ার অন্যতম একটি কারণ হিসেবে তাঁরা উল্লেখ করেন কোয়ার্টারের জরাজীর্ণ অবস্থাকে। তাঁরা বেশ হতাশার সাথেই বলেন যে বর্তমানে তাঁরা যে কোয়ার্টার ঘরগুলোতে থাকছেন সেগুলো বেশ ভঙ্গুর, সামান্য ধাক্কা দিলেই হয়ত জানালা নয়ত দরজা খুলে চলে আসে। এমতাবস্থায় চুরি করাটা চোরের জন্য অনেকটা ছেলে খেলা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এরআগেও বেশ কয়েকজন শিক্ষক এইসব চোরের উৎপাতে অতিষ্ঠ হয়ে কোয়ার্টার ছেড়েছেন বলে জানান তাঁরা।

এইদিকে ১৮ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার থানায় অভিযোগ দায়ের করার পর প্রায় ৫ দিন অতিবাহিত হয়ে গেলেও এখনো পর্যন্ত পুলিশ কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কেউই তদন্তে আসেনি বলে হতাশা প্রকাশ করেন বাদী শিক্ষক।