দূর্গম পাহাড়ের ৩শ কৃষক-কৃষাণীকে সার ও কৃষি যন্ত্রপাতি বিতরণ করলো উন্নয়ন বোর্ড

॥ নিজস্ব প্রতিবেদক ॥

পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রত্যন্ত এলাকার মিশ্র ফল চাষ প্রকল্পের উপকারভোগী ৩’শ জন কৃষক-কৃষানীকে বিনামূল্যে সার ও কৃষি যন্ত্রপাতি বিতরন করেছে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষ। মঙ্গলবার সকালে উন্নয়ন বোর্ডের সদস্য (প্রশাসন) আশীষ কুমার বড়ুয়া প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে পাহাড়ের বিভিন্ন দূর্গমাঞ্চল থেকে আসা এসকল কৃষক কৃষানীর হাতে এসব সার ও কৃষি যন্ত্রপাতি তুলে দেন।

এসময় পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের সদস্য (বাস্তবায়ন) হারুনুর রশিদ, মিশ্র ফল চাষ প্রকল্পের উপ-পরিচালক কামরুজ্জামানসহ মিশ্র ফল চাষ প্রকল্পের কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন। পার্বত্য অঞ্চলের রাঙামাটি সদর, বিলাইছড়ি এবং লংগদু উপজেলার ৩শ জন মিশ্র ফল চাষ প্রকল্প উপকারভোগী কৃষক-কৃষানীর মাঝে সার ও কৃষি যন্ত্রপাতি বিতরন করা হয়।

পার্বত্য চট্টগ্রামে দারিদ্র্য বিমোচনের লক্ষে ১৯৯৯ সালে তিন পার্বত্য জেলার ৬শ কৃষক পরিবারকে পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেয় সরকার। সে লক্ষে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড পাহাড়ে মিশ্র ফল চাষের উদ্যোগ নেয়। প্রাথমিক অবস্থায় ভূমিহীন ও প্রান্তিক চাষিদের মধ্যে কমলা, মাল্টা ও মিশ্র ফসল চাষ শুরু করা হয়। এর মধ্যে ৪৫০টি কমলা, ৯০০ কফির চারা, ৪৫০ পেঁপে, ১৫০০ কলা এবং ৩ হাজার আনারস চারা বিতরণ করা হয়। ১৯৯৯ থেকে চলতি বছর পর্যন্ত ২০ বছরের ব্যবধানে পাহাড়ে মিশ্র ফসল চাষ করে বিশেষত কমলা ও মাল্টা চাষ করে অনেক চাষি স্বাবলম্বী হয়ে উঠেছেন।

প্রকৃতিগতভাবে পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়ি এলাকাগুলো উর্বর ও অনেক প্রকার ফসল উৎপাদনের উপযোগী। একটা সময় ছিল পাহাড়ে জুমচাষ ছাড়া অন্য কোনো আবাদ হতো না। পাহাড়িরাও তাদের এই ঐতিহ্যবাহী ফসল উৎপাদনের প্রক্রিয়া থেকে আধুনিক চাষাবাদের প্রতি মনোযোগীও ছিল না। তবে জুমচাষ সম্পূর্ণ প্রকৃতি নির্ভর হওয়ায় অধিক খরা বা বৃষ্টিতে উৎপাদন ব্যাহত হতো। এতে খাদ্যাভাবও দেখা দিত। জুম চাষ ছেড়ে এখন পাহাড়ের অনেকে মিশ্র ফল চাষের দিকে ঝুঁকছে। এখন বিকল্প হিসেবে ফলের চাষ পাল্টে দিয়েছে পাহাড়ের অর্থনীতির চিত্র। পাহাড়ে উৎপাদিত প্রচলিত ফল আনারস, কাঁঠাল, কলা, পেঁপের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে কমলা ও মাল্টা। পাহাড়ে উৎপাদিত টক-মিষ্টি স্বাদের ফল এখন পাহাড়ের সীমানা পেরিয়ে সারাদেশে পাওয়া যাচ্ছে। লাভবান হচ্ছেন পাহাড়ের চাষিরা।