ব্রেকিং নিউজ

জীবননাশের হুমকিতে পালিয়ে বেড়াচ্ছে অসহায় সংখ্যালঘু পরিবার!

॥ বগুড়া প্রতিনিধি ॥

বিজ্ঞ আদালতে মামলা দায়ের করায় আসামীদের নানা ভয়ভীতি ও জীবননাশের হুমকিতে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন এক অসহায় পরিবার। ফলে নিরুপায় হয়ে গ্রাম ছাড়া অসহায় তপন কুমার সরকার ন্যয় বিচারের আশায় এখনো প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন। অসহায় বৃদ্ধ তপন বগুড়ার গাবতলী দক্ষিনপাড়া ইউনিয়নের কৃষ্ণচন্দ্রপুরে মাধুরামপাড়া গ্রামের মৃত রনজিত সরকারে পুত্র।

একাধিক মামলা ও গ্রামবাসী সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন যাবত জমি জমা ও পূর্ব শত্রুতার জেরধরে তপনের সঙ্গে একই গ্রামের খগেন্দ্র সরকারের বিরোধ চলে আসছিল। এর জেরধরে বৃদ্ধ তপন’কে এলাকা বা গ্রাম ছাড়া করতে খগেন্দ্রের সঙ্গে নানা বিরোধে জড়িয়ে পড়েন একই গ্রামে আরিফুল, ফজল, তাহের, হামিদুল’সহ ১০থেকে ১২জন। এর ধারাবাহিকতায় খগেন্দ্রের নেতৃত্বে তপনের বাড়ী থেকে জোরর্পূবক ৩টি গাভী (গরু) ছিনিয়ে নিয়ে যায় প্রতিপক্ষরা।এ ঘটনায় জেলা বগুড়ার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে খগেন্দ্রকে প্রধান আসামী করে একটি মামলা দায়ের করা হয়। মামলা নং ৩২৫সি ১৮(গাব)। বর্তমানে মামলাটি ডিবি নিকট তদন্তধীন রয়েছে। এরপরেও থেমে থাকেনি প্রতিপক্ষরা। তারা আরো ক্ষীপ্ত হয়ে তপনের ছোট ভাই চন্দন কুমার সরকারের দখলীয় ১৯শতক জমি থেকে জোরপূর্বক শ্যালো মিশিন দিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তলন করেছে। এতে করে গ্রামের বহু আবাদী জমির ফসল নষ্ট ও জমি চাষে অনুপযোগী হয়ে যাচ্ছে। এর প্রতিকার চেয়ে একই এলাকার লতিফ, এলাহী ও জয়ফুল’কে অভিযুক্ত করে বগুড়া জেলা প্রশাসক বরাবরে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। জেলা প্রশাসক অভিযোগটি গ্রহন করে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে ৪২০ ও ৪২১ নং স্মারকে বিষয়টি তদন্ত করতে গাবতলী ইউএনও নির্দেশ দেন। গাবতলী ইউএনও এখনো অভিযোগের কোন ব্যবস্থা গ্রহন করেনি বলে জানান চন্দন সরকার।

এছাড়াও তপনের নিকট থেকে জোরপূর্বক চাঁদা দাবি করে এলোপাথারী ভাবে মারপিটে তাকে গুরুত্বর ভাবে জখম করা হয়। এ ঘটনায় তপনের স্ত্রী রানু বালা সরকার বাদী হয়ে দক্ষিনপাড়া ইউপি সাবেক চেয়ারম্যান মনোরঞ্জন রায় কে প্রধান আসামী’সহ আরো ১০জন কে অভিযুক্ত করে একটি মামলা মামলা দায়ের করা হয়। মামলা নং জিআর ৪০/০৯ (গাবতলী)। বর্তমানে মামলাটি বগুড়া জেলা দায়রা জজ আদালত-৩ বিচারাধীন রয়েছে। এরপরেও প্রতিপক্ষরা জোরপূর্বক অসহায় তপনের কখনো মূল্যবান বাঁশ ও গাছ কর্তন, কখনো পুকুরের মাছ চুরি করে বিক্রি করার ভয়ভীতি আবার কখনো তপন ও পরিবারের সদস্যদের জীবনাশের হুমকি-ধামকি দিয়ে আসচ্ছে। এমনকি প্রতিপক্ষরা শশ্মানের গাছও জোরপূর্বক কর্তন করেছে। ফলে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন তপন’সহ তার পরিবারের সদস্যরা। প্রতিপক্ষ ও সন্ত্রাসীদের হাত থেকে নিজেকে বাঁচাতে ভয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন তপন ও তার পরিবার। অবশেষে তপন এখন ন্যায় বিচার চেয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও গ্রাম-এলাকাবাসীর দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন।

দক্ষিনপাড়া ইউনিয়নবাসী বিষয়টি সমাধানে গতকাল সন্ধ্যা রাতে লাংলু সরকারী প্রাঃ বিঃ মাঠে শালিসী বৈঠক করেন। সমাজসেবক ইনতাজ উদ্দিন ব্যাপারী সভাপতিত্বে শালিসী বৈঠকে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান নুহু আলম সরদার ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক আইনুল হক’সহ ৫শতাধিক সচেতন নাগরিক উপস্থিত ছিলেন। এ ঘটনায় তপন কুমার সরকার জানান, আমার পরিবার ও আমাকে গ্রাম থেকে উচ্ছদ বা জোরপূর্বক এলাকা ছাড়া করতে এখনো ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। ন্যয় বিচারের আশায় আদালতে মামলা করায় প্রতিপক্ষরা আমাকে জীবনাশের হুমকি ধামকি দিচ্ছে। বিশেষ করে দক্ষিনপাড়া ইউপি সাবেক চেয়ারম্যান মনোরঞ্জন রায়ের নেতৃত্বে প্রতিপক্ষরা এখনো আমার পরিবারের ক্ষতিসাধনের চেষ্টা ও ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছেন। ফলে আমি নিরুপায় হয়ে ন্যয় বিচারের আশায় ইউনিয়ন ও গ্রামবাসী দ্বারে দ্বারে ঘুরছি।