কাপ্তাইয়ে কাউসারের উপর হামলাকারী ৪ জন আসামী জেএসএস’র সক্রিয় কর্মী!

॥ কাপ্তাই প্রতিনিধি ॥
রাঙামাটি জেলার কাপ্তাই উপজেলার রাইখালী ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ৭কি. মি. ভিতরে দূর্গম ডংনালা এলাকার একটি গ্রামের নিজের বাড়ি থেকে রাতে ডেকে নিয়ে হত্যার চেষ্টায় গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনায় অবশেষে অাজ বিকেলে ৪জনকে অাসামী করে ভুক্তভোগী কাউসারের (২২) বাবা মো. হেলাল উদ্দিন বাদী হয়ে চন্দ্রঘোনা থানায় মামলা দায়ের করেছে।
থানা সুত্রে জানা যায়, কাউসারের গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনায় মৃত ক্যাসুই মারমার পুত্র অংসুইনু মারমার (৪০) কে প্রধান অাসামী করে স্থানীয় ক্যামং মারমার পুত্র রাজু মারমা (১৯), উচাপ্রু মারমার পুত্র ওয়ালাপ্রু মারমা (৩৫), অস্থির মারমার পুত্র সিনু মং মারমা (২২) কে অাসামী করে চন্দ্রঘোনায় থানায় ১৪৩/ ১৪৭/ ১৪৮/ ৩২৪/ ৩২৬/ ৩০৭/ ৩৪ দন্ড বিধিতে (মামলা নং-১) মামলা দায়ের করা হয়েছে।
এজাহার সুত্রে জানা যায়, বিবাদমান নামার পাড়া ও  মুলিক্কামারা পাড়া এলাকায় চলাচলের একটি রাস্তা নিয়ে দীর্ঘদিন যাবত স্থানীয় মৃত ক্যাসুই মারমার পুত্র অংসুইনু মারমার (৪০) সাথে দ্বন্দ্ব চলে অাসছিল। পরে বিষয়টি স্থানীয় জনপ্রতিনিধির কথায় একটি সমঝোতা অাসে। কিন্তু উক্ত ঘটনার রেশ ধরে হঠাৎ (০৮-১০-১৮) সোমবার রাত ৯টায় হত্যার উদ্দেশ্যে কাউসারকে ঘর থেকে হাতি তাড়ানোর কথা বলে ডেকে নিয়ে যায় সে।
তাকে বাড়ি থেকে ডেকে অংসুইনু মারমার রাবার বাগানে নিয়ে যাওয়ার ১০ থেকে ১৫মিনিটের মাথায় উক্ত স্থান হতে বিকট শব্দ শুনতে পেয়ে ভুক্তভোগীর মামা শামশুল অালম, জাহাঙ্গীর অালম, মহিউদ্দিন সহ স্থানীয় দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে এলে কাউসারকে ঘটনাস্থলে বাকী অাসামীদের মধ্যে একজন তাকে গলা চেপে ধরেছিল, বাকী অাসামীগণ এলোপাতারি লাফি মারতে দেখে।
পরে অাশাপাশের লোকজনের উপস্থিতি ও টর্চের (বাতি) অালো তাদের চোঁখে পড়লে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে সকল অাসামীগণ। পরে কাছে অাসলে দেখা যায় কাউসারের বুকের ডান পাশে এবং হাতের বাহুতে গুলি লাগার চিহ্ন দেখতে পাই। এদিকে সে অসংঙ্খাজনক অবস্থায় ছটপটাতে লাগলে তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
এজাহার সুত্রে অারও উল্লেখ অাছে, হত্যার উদ্দেশ্যে হামলাকারী অাসামীগণ উপজাতী শস্বস্ত্র সংগঠন জেএসএস এর সক্রিয় কর্মী।
এদিকে হত্যার চেষ্টায় অাহত কাউসারে পিতা মো. হেলাল উদ্দিন প্রশাসনের নিকট এই ঘটনার সুষ্ঠ বিচার চেয়ে মুঠো ফোনে সংবাদকর্মীদের সহযোগীতা কামনা করে বলেন, অস্ত্রধারীদের কাছে অামরা খুব অসহায়। অামাদের জীবনের নিরাপত্তা প্রয়োজন। অামার ছেলেকে হঠাৎ হত্যার উদ্দেশ্যে গুলি করে তারা। অামি এর বিচার চাই। অামার ছেলের উপর হামলাকারীদের কি বিচার হবেনা। এমন প্রশ্ন তিনি জুড়ে দিয়েছেন সমাজের কাছে।
এব্যাপারে চন্দ্রঘোনা থানার অফিসার ইনচার্জ মাহমুদুল হাই গুলিবিদ্ধের ঘটনায় মামলা দায়েরের বিষয়টি সত্যতা স্বীকার করে মুঠো ফোনে এই প্রতিনিধিকে বলেন, মূলত কি নিয়ে এঘটনা ঘটেছে তা পুরোপুরি নিশ্চিত হতে পারিনি। ঘটনার সাথে জড়িতরা উভয়ে বন্ধু বলে জানা গেছে। তারা মাঝে মধ্যে রাতের বেলা বন্যহাতি নামলে বন্দুক দিয়ে ফাঁকা গুলি করে হাতি তাড়ায় বলে স্থানীয়দের কাছ থেকে শুনেছেন। এই ঘটনা ঘটার পর থেকে অাসামীরা পলাতক রয়েছে। কোন তথ্য উম্মোচন করতে হলে তো অবশ্যই তাদের অাটক করতে হবে। তবে অামরা প্রতিনিয়তই অভিযান চলমান রেখেছি। অাশা করি দ্রুত প্রকৃত দোষী অাইনের অাওতায় অাসবে।