ব্রেকিং নিউজ

ঘুর্ণিঝড় ‘তিতলি’ মোকাবেলায় জেলা প্রশাসনের সর্বোচ্চ প্রস্তুতি!

॥ নিজস্ব প্রতিবেদক ॥

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় তিতলিরর প্রভাবে শুক্রবার ভোর রাত থেকে রাঙ্গামাটির বিভিন্ন স্থানে লাগাতার মাঝারী বর্ষন হচ্ছে। লাগাতার বর্ষনের কারণে রাঙ্গামাটিবাসীর স্বাভাবিক জনজীবন চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ভোর রাত থেকে প্রায় ৬ ঘন্টা  রাঙ্গামাটিতে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকায় পানি সরবরাহ বন্ধ থাকে।

লাগাতার বর্ষনের কারনে শুক্রবার কাপ্তাই হ্রদে চলাচলরত নৌ যান গুলাো সতর্কতার সাধে চলাচল করছে। তবে যাত্রী সংখ্যা খুব কম। হ্রদে জেলেদের অনেকেই বৈরি অাবহাওয়ার কারনে মাছ ধরা বন্ধ রেখেছে। নদী পথের পাশাপাশি রাঙ্গামাটির সড়ক পথ গুলোতে যাত্রীবাহী যানবাহনের সংখ্যা কম ছিল।

এদিেক রাঙ্গামাটির জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে সম্ভাব্য প্রাকৃতিক দূর্যোগ মোকাবেলায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। রেড ক্রিসেন্টের পক্ষ থেকেও দূর্যোগ মোকাবেলায় প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। ঘূর্ণিঝড় তিতলির কারণে সম্ভাব্য সৃষ্ট প্রাকৃতিক দূর্যোগ মোকাবেলায় রাঙামাটি জেলা সদরের বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় ৩১টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। আশ্রয়কেন্দ্র সমূহে প্রয়োজনীয় শুকনো খাবার সরবরাহসহ স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় জরুরী চিকিৎসা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। দূর্যোগময় পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য দমকল বাহিনীর সদস্যদর প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

সভায় জেলা প্রশাসক বলেন, “আশঙ্কা করা হচ্ছে আজ রাতে আরও বৃষ্টিপাত হতে পারে। এতে রাঙ্গামাটিতে পাহাড় ধসের সম্ভাবনা রয়েছে। পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসরত ঝুঁকিপূর্ণদের নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিতে গতকাল (বৃহস্পতিবার) থেকেই মাইকিং করা হচ্ছে। এমনকি রাঙামাটির অন্যান্য উপজেলাগুলোতে ঘূর্ণিঝড় মোকাবেলায় প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য বলা হয়েছে। পুরো জেলায় মোট ৩১ টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। সর্বোপরি জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ’

তিনি আরো বলেন, ‘আমরা আজ রাতে আশ্রয়কেন্দ্রে যারা থাকবে, তাদের জন্য শুকনা খাবারের ব্যবস্থা করবো। যদি কেউ আসতে না চায়; তাদেরকে জোর করে হলেও নিরাপদ স্থানে কিংবা আশ্রয়কেন্দ্রে নিয়ে আসতে হবে। কারণ আমরা এই পাহাড়ের বুকে আর কোনো দুর্ঘটনা দেখতে চাই না। দুর্যোগ মোকাবেলায় জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটগণ সার্বক্ষনিক নজরদারিতে থাকবেন। জেলা প্রশাসনের পাশাপাশি ফায়ার সার্ভিস, রেড ক্রিসেন্ট, পুলিশসহ বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের কর্মীরাও প্রস্তুত রয়েছে।’

জেলা প্রশাসক এ কে এম মামুনুর রশীদের সভাপতিত্বে ১২ অক্টোবর বিকেলে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত জেলা দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির জরুরী সভায় এ কথা  জানানো হয়। এসময় রাঙ্গামাটি জেলা অতিরিক্ত জেলা মেজিস্ট্রেট মোঃ নজরুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর হোসেন, সিভিল সার্জন শহীদ তালুকদার, প্যানেল মেয়র জামাল উদ্দীন সহ সরকারী বেসরকারী কর্মকর্তা, সমাজসেবক, সাংবাদিক এসময় উপস্থিত ছিলেন।