পার্বত্য চট্টগ্রামকে আলাদা রাষ্ট্র বানানোর নীলনকশা সর্বশক্তি দিয়ে প্রতিহত করা হবেঃ জিওসি

॥ আলমগীর মানিক ॥

দেশের এক দশমাংশ ভূপ্রকৃতি নির্ভর পার্বত্য চট্টগ্রামকে বাংলাদেশ থেকে বের করে নিয়ে আলাদা রাষ্ট্র বানানোর স্বপ্ন দেখছে একটি কুচক্রি মহল। এই ধরনের রাষ্ট্র বিরোধী কর্মকান্ডের সাথে জড়িত ষড়যন্ত্রকারীদের নীলনকশা যেকোন মূল্যে প্রতিহত করার ঘোষণা দিয়েছেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর চট্টগ্রাম অঞ্চলের এরিয়া কমান্ডার মেজর জেনারেল এসএম মতিউর রহমান।

এই ধরনের ষড়যন্ত্র প্রতিহতে প্রয়োজনে সর্বশক্তি প্রয়োগ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে জিওসি বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর একটি পক্ষ সরকারের সঙ্গে শান্তি চুক্তি করেছে। কিন্তু বর্তমানে একটি পক্ষ পার্বত্য চট্টগ্রামকে স্বাধীন রাষ্ট্র বানানোর নীলনকশা তৈরি করছে। তাদের এ স্বপ্ন কখনও সফল হবে না।

সর্বশক্তি দিয়ে তাদের এ ধরনের নীলনকশা ধুলিস্যাৎ করে দেয়া হবে এবং ষড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। তিনি বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি ও সম্প্রীতি রক্ষায় সেনাবাহিনী সবসময় আন্তরিক এবং সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। এখানে শান্তি-সম্প্রীতি বিনষ্টকারী কেউ পার পাবে না। যে কোনো সন্ত্রাস কঠোর হস্তে দমন করা হবে।

সোমবার ২২ অক্টোবর দুপুরে রাঙামাটির বিলাইছড়ি উপজেলার দূর্গম পাংখোয়া পাড়া এলাকায় ট্রাইবাল ভিলেজ উদ্বোধন পরবর্তী পর স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, হেডম্যান, কারাবারি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জিওসি এসব কথা বলেন। পাংখোয়াপাড়ার স্থানীয় জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে বিলাইছড়িতে এই প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অর্থায়নে ‘পাংখোয়া ট্রাইবাল ভিলেজ’ নামে এই বিনোদন স্পট ও প্রদর্শনী কেন্দ্রটি স্থাপন করা হয়।

পরে পাংখোয়া জনগোষ্ঠীর তরুণ-তরুণীদের পরিবেশনায় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করেন জিওসি। এসময় রাঙামাটি রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ রেয়াদ মেহমুদ, বিলাইছড়ি জোন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল শেখ আবদুল্ল্যাহ, সেকেন্ড ইন কমান্ড মেজর আরিফ উজ্জামান, রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান রবীন্দ্র লাল চাকমা, জেলা পরিষদ সদস্য রেমলিয়ানা পাংখোয়া, উপজেলা চেয়ারম্যান শুভমঙ্গল চাকমা, স্থানীয় হেডম্যান এংলিয়ানা পাংখোয়াসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন। পরে অনুষ্ঠানের শেষে স্থানীয় পাংখোয়া জনগোষ্ঠির উন্নয়নে তাদের চাহিদা অনুসারে পাংখোয়াপাড়ার জনগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক উন্নয়নে ৬ লাখ টাকা অনুদান প্রদানের ঘোষণা দেন জিওসি মেজর জেনারেল এসএম মতিউর রহমান।